রাতের অন্ধকারে জনশূন্য অভিশপ্ত গ্রাম, ২০০ বছরেও খোঁজ মেলেনি কারো

ঢাকা, সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৯ ১৪২৭,   ২৮ শা'বান ১৪৪২

রাতের অন্ধকারে জনশূন্য অভিশপ্ত গ্রাম, ২০০ বছরেও খোঁজ মেলেনি কারো

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪০ ৫ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৩:৫৭ ৫ মার্চ ২০২১

রাতের অন্ধকারে সবকিছু ফেলে পালিয়ে যায় গ্রামবাসী

রাতের অন্ধকারে সবকিছু ফেলে পালিয়ে যায় গ্রামবাসী

ইতালির পম্পেই নগরীর পরিণতি ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় একটি ঘটনা। টি এমন এক নগরী যেটি ধ্বংস হওয়ার সময় সেখানকার মানুষ চোখের পলক ফেলার সময়টুকু পায়নি। মুহূর্তেই মানুষগুলো ভস্মে পরিণত হয়েছিল। এ নগরী নিয়ে ইসলাম ধর্মের পবিত্র কোরআনে আয়াত নাজিল হয়েছে। ব্যভিচার, পাপাচার এবং সব ধরনের অবৈধ কাজে লিপ্ত ছিল এই নগরীর বাসিন্দারা। অভাব কি জিনিস, এটি জানতেনই না পম্পেই বাসিন্দারা। অনেকে বলেন এসব কাজের জন্যই ধ্বংস হয়েছিল সমৃদ্ধ এই নগরী। 

তবে সুদূর ইউরোপই নয় প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজস্থানেই রাতের অন্ধকারে উধাও হয়ে যায় গ্রামবাসী। যাদের খোঁজ আজ ২০০ বছরেও পাওয়া যায়নি। অনেকেই ভাবতে পারেন হয়তো কোথাও গিয়ে বসতি স্থাপন করেছে তারা। তবে আগেই বলে রাখি সঙ্গে তারা নেননি কোনো কিছুই। না কোনো আসবাবপত্র, না কোনো মূল্যবান কোনো কিছু। এমনকি সেদিনের রান্না করা খাবারও পাওয়া গেছিল জায়গামতোই।

এভাবে একসঙ্গে সব মানুষ উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে রয়েছে নানান লোকগাঁথা মরুশহর জয়সলমীর থেকে মাত্র বিশ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এই গ্রামটি। আরাবল্লি পর্বত থেকে সৃষ্টি হয়ে একশ কিলোমিটার ধরে বয়ে চলেছে কাকনি নদী। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে এই কাকনি নদীর পশ্চিম তীরে গড়ে উঠে এক বর্ধিষ্ণু জনপদ। জনপদটির নাম ছিল কুলধারা। ইতিহাসবিদ লক্ষী চাঁদের ১৮৯১ সালে লেখা বই ' তারিখ-ই-জয়সলমের থেকে জানা যায়, কাধান নামে এক ধনী ব্রাহ্মণ গড়ে তুলেছিলেন এই জনপদ। কাধান এসেছিলেন ভারতের আরেক প্রান্ত যোধপুর থেকে সত্তর কিলোমিটার দূরে থাকা পালি নামক এলাকা থেকে। তাই তাকে ও তার সঙ্গে আসা ব্রাহ্মণ নরনারীকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলতেন পালিওয়াল ব্রাহ্মণ। 

পালিওয়াল ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষরা সম্ভবত ছিলেন কুলধর বা কালিধর গোত্রের। তাই জনপদটির নাম হয়েছিল কুলধারা। শত শত বছর ধরে গ্রামটি আয়তনে বৃদ্ধি পেতে পেতে একটি ছোটখাটো নগরের চেহারা নিয়েছিল। দৈর্ঘ্যে ২৯০০ ফুট ও প্রস্থে ১০০০ ফুট এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছিল কুলধারা। অষ্টাদশ শতাব্দীতে কুলধারা গ্রামের ৪১০ টি বাড়িতে বাস করতেন প্রায় ১৫৮৮ জন মানুষ। গ্রামটিকে ঘিরে ছিল লাল পাথরের উচু প্রাচীর কুলধারা গ্রামের প্রধান ফটকটি ছিল পাথরের তৈরি। গ্রামের মাঝখানে ছিল সুবিশাল এক মন্দির।

ভারতের রাজস্থানে অবস্থিত কুলধারা গ্রামটি পালিওয়াল ব্রাহ্মণরা ছিলেন বৈষ্ণব। তাই গ্রামের মূল মন্দিরটিতে ছিল শ্রীবিষ্ণুর বিগ্রহ। এছাড়াও গ্রামে ছিল দেবী দুর্গার মন্দির। যেহেতু এখানকার সবাই ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী। তাই প্রত্যেকটি বাড়ির দরজার ওপরেই খোদাই করা থাকত গণেশের মূর্তি। শ্রীবিষ্ণু, মা দুর্গা, গণেশ ছাড়াও, কুলধারার মানুষেরা ষাঁড় ও এক ঘোড়সওয়ার লৌকিক দেবতার পূজা করতেন।

সাজানো গোছানো ছবির মতো এক গ্রান ছিল এটি। কুলধারার অধিবাসীরা ছিলেন অসম্ভব সুদর্শন। পুরুষদের পোশাক ছিল শেরওয়ানি, মাথায় বাঁধতেন পাগড়ি। গলায় থাকত সোনা বা পাথরের হার। ছেলেরা মুখে দাড়ি রাখতেন কোমরবন্ধে গোঁজা থাকত ছুরি। কুলধারার অসামান্য রুপসী মেয়েরা পরতেন লেহঙ্গা-চোলি। তাদের সর্বাঙ্গে শোভা পেত নানা অলঙ্কার। কুলধারাবাসীর জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিল শৌখিনতার ছাপ। রাজস্থানের অন্যান্য এলাকার মতোই ছিল এদের আচার ব্যবস্থা থেকে পোশাক। 

এই গ্রামের মানুষ ছিল সুদর্শন এবং তাদের পোশাক রাজস্থানীদের মতোই  কুলধারার মানুষের মূল পেশা ছিল কুমিকাও ও কৃমিত পণ্যের বাণিজ্য। যদিও এলাকাটি চাষবাসের পক্ষে একেবারেই আদর্শ ছিল না। গ্রামটি পত্তনের সময় একটি বিশাল পুকুর খনন করেছিলেন কাধান। নাম দিয়েছিলেন উপিনসর। তাই কাকনি নদীর পানি, গ্রামে থাকা অজস্র কুয়ো এবং এই পুষ্করিণীর পানি ব্যবহার করে কুলধারার মরু প্রান্তর সবুজ হয়ে উঠেছিল। শত শত বছরের প্রাণপাত পরিশ্রমে কুলপারা হয়ে উঠেছিল শেখাবর্তী এলাকার সব থেকে সম্পদশালী গ্রাম। সুখ আর শান্তি ছিল প্রতিটি আদিবাসীর মনে। 

১৮২৫ সালের এক রাতের মধ্যে সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে গিয়েছিল সম্পদশালী কুলধারা। জমিজমা বাড়িঘর ফেলে, অস্থাবর সম্পদ নিয়ে গ্রামবাসীরা কুলধারা ছেড়ে পালিয়েছিলেন রাতের অন্ধকারে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এত মানুষের একসঙ্গে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনাটির টের পায়নি কাকপক্ষীতেও। কুলধারা গ্রাম যে রাতের অন্ধকারে খালি হয়ে গিয়েছে পরদিন বিকেলের আগে জানতেই পারেননি স্থানীয় গ্রামগুলির বাসিন্দারাও। নিজেদের ঘরবাড়ি ফেলে, একসঙ্গে পালিয়ে যাওয়া গ্রামবাসীরা কোথায় গিয়ে উঠেছিলেন তা আজও অজানা। ২০০ বছর পার হলেও খোঁজ পাওয়া যায়নি তাদের কারো। 

সবকিছু ফেলে কেন গ্রামবাসীরা এভাবে চলে গেলেন তা এক রহস্য কিছু গবেষক অনুমান করেছিলেন, পালিওয়াল ব্রাহ্মণরা ফিরে গিয়েছিলেন যোধপুরের পালিহেই। তবে সবকিছু ফেলে এভাবে এক রাতের মধ্যেই কেন চলে গেলেন। অন্যদিকে পালির ইতিহাস এরকম কোনো ঘটনার সপক্ষে প্রমাণ দিতে পারেনি তারা। প্রায় ভোজবাজির মতোই কালের গর্ভে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছেন কুলধারার অধিবাসীরা। এতো পরিশ্রমের পর তিল তিল করে গড়ে ওঠা সমৃদ্ধশালী কুল পারাও পরিত্যক্ত ও নবঙিতি হয়ে গিয়েছিল চিরতরে।

গিয়েছেন ভালো কথা, কিন্তু কেন কুলধারা ছেড়ে গেলেন গ্রামবাসী। অনেক গবেষণা করেও  এর কোনো কুল কিনারা করতে পারেননি গবেষকরা। যদিও এ ব্যাপারে স্থানীয় লোকগাথা শোনা যায়, যা মনকে বিষন্ন করে দেয়। উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে কুলধারা গ্রাম ছিল উন্নতি ও সম্পদের শিখরে। গ্রামটির ওপর নজর পড়েছিল জয়সলমীর স্টেটের দেওয়ান বা প্রধানমন্ত্রী সালিম সিংয়ের। ভয়ঙ্কর অত্যাচারী ও নারীলোলুপ সালিম সিংয়ের ভয়ে তখন কাপত মরুশহর। 

ভয়ঙ্কর অত্যাচারী ও নারীলোলুপ সালিম সিংগ্রামবাসীদের কাছ থেকে চড়া হারে খাজনা আদায় করতেন সালিম সিং। খাজনা দিতে না পারলেই জুটত নৃশংস অত্যাচার। আদিবাসীদের প্রাণ নিতে দু'বার ভাবতেন না নিষ্ঠুর সালিম সিং। প্রতি রাতেই স্থানীয় গ্রামগুলো থেকে সুন্দরী অবিবাহিতা মেয়েদের জোর করে হাভেলিতে নিয়ে আসত তার সেনাবাহিনী। আর তাই সালিম সিংয়ের ভয়ে সুন্দরী মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে দিয়ে দূরে পাঠিয়ে দিতেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। 

গ্রামের সম্পদ ও নারীর সৌন্দর্য বিপদ ডেকে এনেছিল কুলধারার। সালিম সিং কুলধারার ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন অবিশ্বাস্য অঙ্কের খাজনা। প্রতিবাদ করেছিলেন কুলধারা গ্রামের সরপঞ্চ বা প্রধান। তার ছিল এক অসামান্য সুন্দরী কন্যা। তখনও বিয়ে হয়নি তার। সালিমের কুনজর পড়ে সরপথের কিশোরী মেয়ের ওপর। মেয়েটিকে পাওয়ার জন্য একটি কৌশল নিয়েছিলেন সালিম। গ্রামবাসীদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সরপঞ্চের কিশোরী কন্যাটিকে তার হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দিলে খাজনার অঙ্ক কমে যাবে। না হলে দ্বিগুণ খাজনা তাকে দিতেই হবে, সঙ্গে সরপঞ্চের মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে সালিম সিংয়ের সেন।

কাকনি নদীর তীরে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে এই জনপদ গড়ে ওঠে কুলধারার বাসিন্দাদের ভাবার জন্য একদিন সময় দিয়েছিলেন সালিম সিং। তবে ফুলের মত নিস্পাপ পালিওয়াল ব্রাহ্মণ কিশোরীকে কীভাবে একজন অত্যাচারী প্রৌঢ় লম্পটের হাতে তুলে দিতে পারে কুলধারা! নারীকে যে কুলধারা গ্রামে দেবী দুর্গার চোখে দেখা হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর সরপঞ্চের কিশোরী কন্যাটিকে তুলে নিয়ে যেতে এসেছিল মুসলিম সিংয়ের সেনা। কুলধারার অধিবাসীরা বলেছিলেন, বিকেল হয়ে গিয়েছে, তাই তার কন্যাকে বিদায় দিতে পারবেন না। পরের দিন সকালেই তারা হাভেলিতে পৌঁছে দেবেন কিশোরীকে। সেই রাতেই বাড়ির দরজা খোলা রেখে, জমিজমা ও ইষ্টদেবতার মন্দির ফেলে রেখে, গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিলেন কুলধারার বাসিন্দারা। 

এতটাই নিঃশব্দে পালিয়েছিলেন, টের পায়নি গ্রামের বাইরে তাঁবু ফেলে ভোরের অপেক্ষায় থাকা সালিম সিংয়ের সেনারা ও। পরের দিন সকালে গ্রামে ফিরে এসেছিল সেনারা। কুলধারা তখন জনশূন্য, নিস্তব্ধ। ক্রুদ্ধ সালিম সিং তল্লাশি চালিয়েছিলেন বিশাল এলাকা জুড়ে। তবে খোঁজ মেলেনি কুলধারার একজন গ্রামবাসীরও।

বিভিন্ন লোকগাথা থেকে জানা যায়, অশ্রুসজল চোখে কুলধারা ছাড়ার আগে গ্রামবাসীরা অভিশাপ দিয়ে গিয়েছিলেন। কেউ কোনোদিন কুলধারা গ্রামে বসবাস করতে পারবে না। কেউ জোর করে তাদের সম্পদ দখল করলেও প্রাণে বাঁচবে না। তাই আজও কুলধারা পরিত্যক্ত। স্থানীয় মানুষরা গল্প করতে করতে পর্যটকদের জানান এসব কথা। তবে এসবই তাদের মুখে মুখে শোনা গল্প। পরবর্তীকালে যারাই পরিত্যক্ত কুলধারায় বসবাস করতে গিয়েছেন, কোনো না কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তারা। প্রাণ ও হারিয়েছেন অনেকে। যারা প্রাণে বেঁচেছেন তারা জীবন নিয়ে ছেড়েছেন কুলধারা। 

গ্রামের ঠিক মাঝে তৈরি করা হয় মন্দির, যেখানে দেবী দুর্গার আরাধনা হত পরিত্যক্ত কুলধারার রহস্যময় ইতিহাস আকর্ষণ করেছিল অলৌকিক তত্ত্বে বিশ্বাসী মানুষজনকে। ২০১০ সালে দিল্লির ইন্ডিয়ান প্যারানরম্যাল সোসাইটির প্রধান গৌরব তেওয়ারি, ১৮ জনের দল নিয়ে রাত কাটিয়েছিলেন কুলধারা গ্রামে। সঙ্গে ছিলেন ১১ জন স্থানীয় মানুষও। সারা রাত ধরে তারা প্রত্যক্ষ করেছিলেন নানান ভৌতিক কাণ্ডকারখানা। ছায়ামূর্তির সরে যাওয়া, পুলের ওপর শিশুদের সদ্য ফেলা পায়ের ছাপ, গাড়ির লনেটের ধুলোয় অদ্ভুত কিছু হাতের ছাপ। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ঘোস্ট-বক্সে রেকডিং করেছিলেন এমন কিছু আওয়াজ যা নাকি মানুষের নয়।

তবে বিজ্ঞানমনষ্ক ও যুক্তিবাদী মানুষরা এর সবকিছুই বানানো গল্প বলেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন। সঙ্গত কারণেই নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান প্যারানরম্যাল সোসাইটির করা দাবিগুলো। তা সত্ত্বেও হানাবাড়ির গ্রাম হিসেবে বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল কুলধারা।  কোনো এক অজানা আতঙ্কে আজো সন্ধ্যার আগে বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেন স্থানীয় গ্রামগুলোর বাসিন্দারা। পরবর্তীকালে অনেক গবেষক কুলধারা নিয়ে গবেষণা করেছেন। প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান চালিয়েছেন কুলধারা গ্রামের আনাচে কানাচে। তাদের অনুসন্ধান থেকে জানা গিয়েছিল, পানির অভাবে গ্রামের জনসংখ্যা ক্রমশ কমতে শুরু করে। পানির প্রবল অভাব ও খাজনার বৃদ্ধির কারণেই সম্ভবত গ্রাম ছেড়েছিলেন বাসিন্দারা। কালের নিয়মে কুলধারা আজো ধবংসস্তুপে পরিণত। 

পর্যটকদের জন্য আগ্রহের জায়গা এখন ভুতুরে গ্রাম কুলধারা পরিত্যক্ত কুলধারা নিয়ে ২০১৭ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা যায়, প্রবল ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে কুলধারা। তবে সে কথাও টেকে নি বেশি দিন। কেননা কোনো মানুষের মৃতদেহ পাওয়া যায়নি সেখানে কোনোদিন। এমনকি বাড়িঘর সবকিছুই ছিল অক্ষত। ২০১৫ সাল থেকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বেশ সাড়া ফেলেছে কুলধারা। কটেজ তৈরি হয়েছে রাত্রিবাস করার জন্য। আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ঘোষিত হেরিটেজ সাইট কুলধারা গ্রামটিকে আজ ‘অভিশপ্ত ’ও ‘প্রেতাত্মার গ্রাম’হিসেবে চেনেন পর্যটকরা। 

তবে কোথায় হারিয়ে গেলেন কুলধারার পালিওয়াল ব্রাহ্মণরা! কেন তাদের কোনো খোঁজই আজ পর্যন্ত পাওয়া গেল না। কেন আজও খুঁজে বের করা গেল না তাদের বংশধরদের! কীভাবে এবং কেনইবা নিঃশব্দে একরাতের মধ্যে গ্রাম ছেড়েছিলেন তারা! সাজানো সংসার ফেলে গেলেন। সব প্রশ্ন আজো অধরা। কোনোটারি সঠিক কোনো জবাব নেই। লোকগাথায় বলা কাহিনীটি  সত্য নাকি অসত্য, তারও প্রমাণ মেলেনি কোথাও। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে