মানুষের চর্বি দিয়ে সাবান বানানোর নেশায় খুন একের পর এক

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

মানুষের চর্বি দিয়ে সাবান বানানোর নেশায় খুন একের পর এক

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৭ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৬:৩০ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

লিওনার্দা সিয়ানসিউলি

লিওনার্দা সিয়ানসিউলি

খুন এবং খুনী হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা এর জন্য অনেকখানি দায়ী। তবে খুনের নেশায় যুগে যুগে অনেকেই পেয়েছেন সিরিয়াল কিলারের তকমা। আর সিরিয়াল কিলারের কথা শুনেই নিশ্চয় জ্যাক দি রিপারের কথা মনে পড়েছে। যে কিনা তৎকালীন সময়ে লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলের এক আতংকের নাম। বেছে বেছে যৌনকর্মীদের খুন করতেন তিনি। খুবই নৃশংস ছিল তার হত্যার ধরণ। কে ছিল সেই জ্যাক দ্য রিপার, তা আজো ধোঁয়াশা।

যদিও সন্দেহের বশে পুলিশ অনেককেই জ্যাক দ্য রিপারের তকমা দিয়েছে। বিনা দোষে হয়তো অনেকে শাস্তিও পেয়েছে। তবে সে যাই হোক, পরবর্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমন অনেক সিরিয়াল কিলারের নাম পাওয়া গেছে। কেউ কেউ ছিলেন মানসিক রোগী। কারো বা ছিল নেশা। মানে ঝোকের বশে নাকি খুন করতেন তারা। সিরিয়াল কিলারের তালিকায় রয়েছে অনেকের নাম। নারীদের নামও ছিল এর মধ্যে। ভারতীয় এক নারী সিরিয়াল কিলার ছিলেন। তিনি তো শুধুমাত্র গয়নার জন্য মানুশ খুন করত। আজ বলছি ইতালিতে জন্ম নেয়া একজন নারীর কথা। যার নামও উঠে এসেছে সিরিয়াল কিলারদের তালিকায়।

সবামীর সঙ্গে লিওনার্দা সিয়ানসিউলিসময়টা ১৮৯৪ সাল। ইতালির আরো একজন সিরিয়াল কিলার নারীর কথা জানেন নিশ্চয়। একোয়া ডিভানা, তিনি নারীদের প্রসাধনী সামগ্রী তৈরি করতেন। সেই সঙ্গে নিজের রেসিপিতে একটি বিষ তৈরি করেছিলেন যেটার এক ফোঁটা খেলেই মানুষ নারা যাবে। তবে বোঝার উপায় থাকবে না যে সে আসলে বিষক্রিয়ায় মারা গেছে। মনে হবে স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যু হয়েছে তার। 

এবার যার কথা বলছি তিনি হচ্ছেন লিওনার্দা সিয়ানসিউলি। লিওনার্দা যে শুধু মানুষ খুন করতেন, তা কিন্তু নয়। তার মানসিকতা এতটাই বিকৃত ছিল যে তিনি মানুষ খুন করে সেসকল মৃতদেহের হাঁড়-চর্বি-গোশত দিয়ে সাবান এবং কেক বানাতেন! জন্মসূত্রে লিওনার্দা ছিলেন ইটালিয়ান। তিনি বড় হয়েছেন এক ধার্মিক পরিবারে। তার পরিবার শুধু ধার্মিক ছিলনা, তার পরিবার ছিল নানান ধরনের ধর্মীয় গোঁড়ামি আর কুসংস্কারে ভর্তি। লিওনার্দার বেড়ে ওঠার পরিবেশ স্বাভাবিক ছিলনা বলেই হয়তো তার মনে ভয়ঙ্কর অসুখ তিল তিল করে মহীরুহে পরিণত হয়েছিল।

এই হাড়িতে মানুষ খুন করার পর সিদ্ধ করতেন তার ছোটবেলা সম্পর্কে জানতে আরেকটু পেছনে ফিরে যাওয়া যাক।  লিওনার্দার মা এমিলি ছিলেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে। সেই সঙ্গে খুবই সুন্দরী ছিলেন তিনি। লিওনার্দার বাবা ছিলেন অত্যন্ত গরিব এবং বয়স্ক একজন ব্যক্তি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের নেশায় আসক্ত ছিলেন সেসময়। তবে তিনি এমিলিকে খুবই পছন্দ করতেন। তিনি এটাও জানতেন এমিলিকে পাওয়া তার জন্য অসম্ভব। তখন এমিলির জন্য পাত্র দেখা হচ্ছিল। তাকে শিক্ষা দেয়া হচ্ছিল নানা বিষয়ে। কীভাবে সমাজের অভিজাত মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করা যায়, মানিয়ে চলতে হয়। বাড়িতে চার-পাঁচ জন দাসী ছিল এমিলির। 

পরিবারের সঙ্গে  লিওনার্দা সিয়ানসিউলিএদিকে তাকে এক নজর দেখতে ৪০ উর্ধ্ব এক ব্যক্তি প্রতিদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। একদিন এক পাত্রের সঙ্গে দেখা করে এমিলি বাড়ি ফিরছিলেন। দাসীদের আগেই বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেসময় সেই লোকটির সঙ্গে তার দেখা হয়। জোর করে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এমিলিকে। যৌন সম্পর্ক এবং এসব বিষয়ে ১৬ বছরের এমিলির খুব বেশি ধারণা না থাকায় সেটি বুঝতে পারে নি সে। কয়েকমাস পর এমিলির পরিবার বুঝতে পারে সে গর্ভবতী। তখন সেই মানুষটার সঙ্গেই তার বিয়ে দিয়ে দেয় তারা। তার নাম ছিল চিয়েন্ড চিলি। 

এরপরের কাহিনী আন্দাজ করতে পারছেন নিশ্চয়। বড়লোক বাড়ির মেয়ে বস্তিতে মানিয়ে নিতে পারেনি একেবারেই। সেই সঙ্গে আছে নানান রকম অপবাদ। এমিলি তার সন্তানকেই তার কষ্টের জন্য দায়ী করত সব সময়। শিশুটি জন্মের পর তাকে খুবই নির্যাতন করত। সারাক্ষণ মারামারি আর বকা খেয়েই বেড়ে উঠছিল শিশুটি। মাত্র ১০ বছর বয়সেই আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল নিজেকে সব কিছুর জন্য দায়ী ভাবা ছোট্ট শিশুটি। এই শিশুটিই ছিল লিওনার্দা। 

এক সময় ধরা পড়ে যান  লিওনার্দা সৌভাগ্যক্রমে লিওনার্দা বেঁচে যায়। ১৯১৭ সালে এক রেজিস্ট্রি অফিসের ক্লার্ককে বিয়ে করেন তিনি। এই বিয়েতে তার বাবামায়ের একেবারেই সম্মতি ছিলনা। তারা লিওনার্দার বিয়ে ঠিক করেছিল এক ধনী ব্যক্তির সঙ্গে। এই বিয়েকে কেন্দ্র করে লিওনার্দার বাবা মা তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং লিওনার্দার বিয়েকে তারা অভিশপ্ত বলে ঘোষণা করেন। লিওনার্দা কখনো শান্তি পাবেনা, এমন অভিসম্পাতই তারা দিয়েছিলেন। বিয়ের পর লিওনার্দা স্বামী নিয়ে স্থায়ী হন করেজিয়ো নামের এক মফস্বলে।

সন্তানদের প্রাণ রক্ষায় নরবলি দিয়েছেন তিনি লিওনার্দা তার বৈবাহিক জীবনে মোট ১৭ বার গর্ভবতী হন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, তা গর্ভজাত মাত্র ৪ জন সন্তান জীবিত ছিল। বাকিদের অনেকেই গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন মারা গেছে অথবা শৈশবেই অকালে ঝরে গেছে। লিওনার্দা তার বাড়ির পাশে একটি ছোট্ট দোকান চালাতেন এবং তার ছেলেমেয়েরা তাকে সাহায্য করতো। তিনি ছিলেন তার সন্তানদের ভালোবাসায় অন্ধ। কাউকে তিনি এক মূহুর্তের জন্য চোখের আড়াল করতেন না। কিন্তু চিত্রপট পালটে যেতে লাগলো যখন শুরু হলো ২য় বিশ্বযুদ্ধ।

লিওনার্দার সবচেয়ে বড় ছেলের নাম ছিল জিসেপি। সে ছিলো তখন টগবগে যুবক। অন্যান্য তরুণ ইটালিয়ানের সে ও ইটালিয়ান সেনাবাহিনীতে অংশগ্রহণ করতে চাইল। তখনই লিওনার্দার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরল! জিসেপি ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় সন্তান। তাকে হারানোর আশঙ্কায় লিওনার্দার ঘুম হারাম হয়ে গেলো। সে অনেক চেষ্টা করেছিল জিসেপিকে থামানোর। তবে সে ছিল তার মায়ের মতোই জেদি এবং একরোখা।কারো কথা না শুনে চলে গেলো যুদ্ধে। 

 লিওনার্দা সিয়ানসিউলি ছিলেন মানসিক বিকারগ্রস্ত
অন্যদিকে সন্তান হারানোর চিন্তায় লিওনার্দা তখন পাগলপ্রায়। হঠাৎ একদিন তার মাথায় এলো, প্রাণের বদলে উৎসর্গ করতে হবে প্রাণ। জিসেপির প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাকে বলি দিতে হবে অন্য কোনো প্রাণ। যে সে প্রাণী হলে চলবে না, মানুষের বদলে মানুষের প্রাণই উৎসর্গ করতে হবে! লিওনার্দার এলাকার নারীরা তাকে খুব পছন্দ করতো। লিওনার্দাকে ধার্মিক এবং সৎ বলেই জানতো সবাই। তারা বিশ্বাস করতো যে লিওনার্দার কিছু আধ্যাত্মিক ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি সে একটি হোটেলও চালাতো। তেমনি একজন নারী ছিলেন ফস্টিনা সেতি।

ফস্টিনা সেতি ছিলেন একজন মাঝবয়েসী অবিবাহিত নারী। তখনকার দিনে মধ্যবয়সী নারীরা অবিবাহিত থেকে যাওয়া এক বিশাল ব্যাপার! ফস্টিনা লিওনার্দাকে খুব পছন্দ করতেন। তিনি লিওনার্দার কাছে আসতেন দুটি শান্তির, ধর্মের কথা শুনতে। আর এই ফস্টিনাকেই টার্গেট করলেন লিওনার্দা। লিওনার্দা ফস্টিনাকে বললেন যে তিনি ফস্টিনার জন্য একজন বিবাহযোগ্য পাত্র খুঁজে পেয়েছেন। পাত্র তারই আত্মীয়, সে ফস্টিনাকে বিবাহ করতে আগ্রহী। তবে পাত্র থাকে ‘পুলা’ শহরে। ফস্টিনাকে যেতে হবে সেখানে। তখনকার দিনে এমনটা প্রায়ই হতো।

ফস্টিনা সরল মনে বিশ্বাস করলেন সবকিছু। লিওনার্দা তাকে এও বললেন, বিয়ের কথা যেন কেউ জানতে না পারে। তাহলে লোকের কুনজরে ভেস্তে যাবে সব। তিনি বললেন যাওয়ার আগে যেন ফস্টিনা পোস্টকার্ডে করে লিখে সবাইকে সবকিছু জানিয়ে যায়। তাহলে সবাই নিশ্চিন্তে থাকবে। ফস্টিনা তাই করল। ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিল, আত্মীয় স্বজনদের নামে পোস্টকার্ড পোস্ট করে গেলো, সেখানে লেখা ছিল পুলা তে তার হবু স্বামীর কথা। যাওয়ার আগে সে দেখা করতে গেলো লিওনার্দার সঙ্গে। সেটাই হলো তার কাল।

ছোটবেলা থেকেই নানান অবহেলা আর বঞ্চনায় বড় হয়েছেন লিওনার্দা বিকেলবেলা লাগেজ নিয়ে লিওনার্দার বাড়ি গেলো ফস্টিনা, সেখান থেকে সোজা স্টেশনে যাবে সে। লিওনার্দার বাচ্চারা তখন বাইরে খেলছে। ফস্টিনাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো রেড ওয়াইন খাওয়ালেন লিওনার্দা। তারপর তার অচেতন দেহটিকে নিয়ে গেলেন বেজমেন্টে। সেখানে কুঠার দিয়ে আলাদা করে ফেললেন ফস্টিনার মাথা। তাজা রক্ত জমা করলেন একটি ডিশে। তারপর দেহটিকে নয় টুকরা করলেন। পরের প্রক্রিয়া  তিনি নিজেই বলেছিলেন এভাবে-

“প্রথমে ওর শরীরটাকে নয় টুকরা করলাম। তারপর চুলোতে চড়িয়ে দিলাম বিশাল এক হাড়ি। আমার দোকানে বিক্রির জন্য আমিই সাবান বানাই। সেই সাবান বানানোর জন্য সাত কেজি কস্টিক সোডা রাখা ছিল। ফস্টিনার গায়ের মাংস চর্বিগুলো কস্টিক সোডা দিয়ে সেদ্ধ করলাম। হাড়গুলো তুলে ফেললাম, পরে সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলেছি। গোশত চর্বি গলে যখন পুরো মিশে গেলো, তারপর মিশ্রনটা ঢেলে দিলাম একটা সেপটিক ট্যাঙ্কে। সেখানে যখন সাবানটা জমাট বাঁধলো, কেটে টুকরো টুকরো করে নিলাম। তারপর জমাট বাঁধা রক্তগুলো ওভেনে একটু বেক করে রক্তের পানি শুকিয়ে ঝরঝরে করে নিলাম। তারপর ওতে একে একে ময়দা, চিনি, চকলেট, ডিম, দুধ এবং মার্জারিন মিশিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে খামির বানালাম। এবং এই খামির থেকে বানালাম প্রচুর টি কেক। সেই কেক দোকানে বিক্রি করেছি, মেহমান এবং ঘরের লোকদের খাইয়েছি, আমিও খেয়েছি।”

আদালতে নিজেই সব স্বীকার করেন লিওনার্দা সিয়ানসিউলিলিওনার্দা তার ২য় শিকার ফ্রাঞ্চেসকা ক্লিমেনটিনা সোভিকেও অন্য শহরের চাকরির প্রলোভন দেখায় এবং একই উপায়ে হত্যা করে তার মৃতদেহ থেকে সাবান ও কেক বানান। লিওনার্দার তৃতীয় ভিক্টিম ছিল গরীব বিধবা ভার্জিনিয়া ক্যাসিয়োপো। তাকে চাকরির লোভ দেখিয়ে ঠিক আগের মতোই ফাঁসানো হয়। তবে  লিওনার্দার ভাষায়, অন্যন্য ভিক্টিমদের চেয়ে ভার্জিনিয়া বেশ ভালো ছিল। অন্যদের মৃতদেহ থেকে সাধারণ গন্ধবিহীন সাবান বানালেও ভার্জিনিয়ার মৃতদেহ থেকে তিনি বানিয়েছিলেন সুগন্ধী সাবান! ভার্জিনিয়ার গায়ে চর্বি বেশি থাকায় সাবানগুলো খুব “ক্রিমি” হয়েছিল। টি কেকগুলোও নাকি ছিল চমৎকার! তার ভাষায়, ভার্জিনিয়া খুব “মিষ্টি” মেয়ে ছিল!

লিওনার্দার প্রথম শিকার তাদের পরিবারের কাছে ছিল বোঝাস্বরূপ। তবে ভার্জিনিয়া তেমন ছিলনা। ভার্জিনিয়া সবাইকে পোস্টকার্ডের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছিল যে সে চাকরির জন্য ফ্লোরেন্স শহরে যাচ্ছে। এর দীর্ঘদিন তার খোঁজ না পাওয়ার তার ভাবী শরণাপন্ন হয় পুলিশের। তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যে ভার্জিনিয়া ফ্লোরেন্সে নেই। ভার্জিনিয়ার ভাবী জানতো যে শহর ছেড়ে যাওয়ার আগে ভার্জিনিয়া দেখা করতে যাবে লিওনার্দার সঙ্গে। সে দেখেছিল ভার্জিনিয়াকে লিওনার্দার বাড়িতে ঢুকতে। ভার্জিনিয়ার ভাবী পুলিশ নিয়ে যায় লিওনার্দার বাড়িতে। পুলিশ যখন তাকে জিজ্ঞাসা করব ভার্জিনিয়ার কথা, লিওনার্দা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে সে খুন করেছে ভার্জিনিয়াকে। পুলিশ তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করে তাকে।

৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় লিওনার্দাকে আদালতে সকল অপরাধ অকপটে স্বীকার করে লিওনার্দা। তার ছেলেমেয়েরা যেন দীর্ঘায়ু লাভ করে, তাই জন্যে সে নরবলি দিয়েছে। তার সন্তানের প্রাণের বদলে অন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছে সে। তার স্বীকারোক্তি এবং খুনের বর্ণনা শুনে আদালত তাকে মানসিক রোগী বলে আখ্যায়িত করে এবং তাকে মানসিক আ্যসাইনমেন্ট রাখার আদেশ দেয় এবং তাকে সলিটারি কনফাইনমেন্টে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সঙ্গে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় লিওনার্দা।   

১৯৭০ সালের ১৫ই অক্টোবর ইতালির পটজুলি শহরের নারী ক্রিমিনাল আ্যসাইলেমে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মারা যান লিওনার্দা। যে হাঁড়িতে তিনি তার ভিক্টিমদের সিদ্ধ করতেন, সেটি আজও ইতালির রোমে “ক্রিমিনোলজিক্যাল মিউজিয়াম” এ সংরক্ষিত আছে।

সূত্র: ভোকাল মিডিয়া (ক্রিমিনাল হিস্টোরি) 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে