বারাণসী: জীবন-মৃত্যু দর্শনের এক ‘আধ্যাত্মিক’ শহর

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

বারাণসী: জীবন-মৃত্যু দর্শনের এক ‘আধ্যাত্মিক’ শহর

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩৫ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

বারাণসী এমন এক শহর, যেখানে গেলে সব রকমের মানুষের দেখা মেলে। ছবি: সংগৃহীত

বারাণসী এমন এক শহর, যেখানে গেলে সব রকমের মানুষের দেখা মেলে। ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীন ভারতের এক অন্যতম নিদর্শন ‘বারাণসী’। গঙ্গার পশ্চিম তীরে বরুণা ও অসি নদীর মিলনস্থলে বিশ্বের প্রাচীনতম জীবন্ত শহরটির অবস্থান। অনেকের কাছে এটি আজব শহরও বটে! ইতিহাস বলছে, অতীতের কাশীই আজকের বারাণসী; যা হিন্দুধর্মের পবিত্রতার প্রতীক।

পুরাণে আছে, খ্রিস্টের জন্মের ১২০০ বছর আগে সুহোত্র-পুত্র কাশ্য এ নগর পত্তন করেন। কাশ্য থেকে নাম হয় কাশী। গঙ্গা, গঙ্গার ঘাট, মন্দির, ভারতীয় সঙ্গীত, রাবড়ি-লস্যি-মালাই, অলিগলি-তস্য গলি, দোকানপাট, যানজট, ষাঁড়, বেনারসি শাড়ির দোকান, কাঁচের চুড়ি - এসব নিয়ে এখনও প্রাণবন্ত বারাণসী। হানাদারদের হানায় বার বার এর অতীত ধ্বংস হলেও পুণের পেশোয়া, ইন্দোরের হোলকার, গোয়ালিয়রের সিন্ধিয়া এবং বারাণসীর রাজাদের হাতে মন্দির, ঘাট এবং শহর গড়ে উঠেছে নতুন করে।

বারাণসীকে বলা হয় ভারতের ইতিহাসের জননী। কাশীর রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে বেনারসি ঘরানার হিন্দুস্থানী ক্লাসিক্যাল সঙ্গীত বিকাশ লাভ করে। কাশী মূলত বিশ্বনাথ মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। প্রতিদিন ভোর পৌনে তিনটায় মন্দিরের দরজা খোলে। তবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হয় বিকেল ৪টায়। ততক্ষণে লাইন ছাড়িয়ে যায় কয়েক মাইল!

বারাণসীর অন্যতম আকর্ষণ হলো সন্ধ্যাকালীন গঙ্গারতি। ছবি: সংগৃহীত

বারাণসীর মূখ্য আকর্ষণ হল ঘাট। যারাই ঘুরতে যান বরুণা ও অসি নদীর সংযোগস্থলে নৌকা ওপর বসে ছবি তোলেন! বারাণসীতে মোট ৮৮টি ঘাট রয়েছে। এরমধ্যে পাঁচটি মুখ্য। সেগুলো হলো- অসি, দশাশ্বমেধ, মণিকর্ণিকা, হরিশ্চন্দ্র ও কবির ঘাট। প্রত্যেকটি ঘাট বিশেষ বিশেষ মাহাত্ম্য নিয়ে অবস্থান করছে।

বারাণসীর ঘাটে তীর্থযাত্রীদের ভিড় থাকে সবসময়ই। এটি একমাত্র ঘাট যেখানে জীবন-মৃত্যু একসঙ্গে দেখা যায়। বিভিন্ন দেশের মানুষের পদচারণায় সবসময়ই প্রাণবন্ত থাকে বারাণসীর ঘাট। এই ঘাটের অন্যতম আকর্ষণ হলো সন্ধ্যাকালীন গঙ্গারতি। লাখ লাখ প্রদীপের আলোয় সেজে ওঠে ঘাট। এমন আয়োজন আর কোথাও দেখা যায় না। হাজার হাজার দর্শনার্থীদের বিশ্বাস-অবিশ্বাস, যুক্তি-তর্ক সব মিলেমিশে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্ট হয়।

বারাণসী এমন এক শহর, যেখানে গেলে সব রকমের মানুষের দেখা মেলে। কেউ ল্যাংটা সাধু, কেউ বা মানুষের ভাগ্যবিচার করছেন। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা নদীর হাঁটু পানিতে নেমে মানুষের ফেলে দেয়া কয়েন কুঁড়াতে ব্যস্ত থাকেন। কেউ বা দঁড়ির মাথায় খাবার দিয়ে মাছ ধরছে অনন্য এক কৌশলে। তার মধ্যে নানা দেশের মানুষের আনাগোনা তো চলতেই থাকে। আরও আছে অঘোরী সাধু।

বরুণা ও অসি নদীর সংযোগস্থলে নৌকা ওপর পর্যটকরা ছবি তোলেন। ছবি: সংগৃহীত

দেব-দীপাবলিতেই বারাণসী ঘোরার সেরা সময়। যা মূল দীপাবলির ১৫ দিন পর অর্থাৎ পূর্ণিমা রাতে পালিত হয়। প্রায় ৪-৫ কিলোমিটর পর্যন্ত যত ঘাট আছে, লাখ লাখ প্রদীপ ও আলো দিয়ে তার পুরোটা এদিন সাজানো হবে। এই স্বর্গীয় দৃশ্য চাক্ষুষ করতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ বারাণসীতে এসে জড়ো হন।

সন্ধ্যায় নৌকায় চড়ে বিরল ও অপূর্ব এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা সৌভাগ্যের বিষয়। ফলে নৌকার ভাড়াও এদিন বেড়ে যায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক গুণ। শেষে এমন অবস্থাও হয় যে দু’পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া দিয়েও একটা নৌকা মেলে না! তাই ২-৩ দিন আগে গিয়েই একটা নৌকা ভাড়া করে নেয়া দরকার। আর বারাণসী ঘোরার জন্য ৫ থেকে ৭ দিনই যথেষ্ট। এ বছর অক্টোবরের শেষে দীপাবলি। এখনই প্রস্তুত হয়ে যান!

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে