৩৮ হাজার কোরিয়ানের নাক কেটে পাঠানো হয় জাপানে 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

৩৮ হাজার কোরিয়ানের নাক কেটে পাঠানো হয় জাপানে 

সাত রঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪২ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৬:৫৫ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ছবি: নাকের সমাধি

ছবি: নাকের সমাধি

আমরা অনেকেই মানুষের কাটা নাকের সমাধির কথা শুনেছি। কিন্তু আমরা কতটুকু জানি এর সম্পর্কে? কি কারণেই বা ৩৮ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুর নাক কেটে নেয় জাপানিরা। আজ জানবো সে সম্পর্কে। ৩৮ হাজার মানুষের কাটা নাকের সমাধি। ঘটনাটি ঘটেছে জাপানে। জাপানের কিয়োটো শহরের নিরিবিলি আবাসিক এলাকার মাঝে আছে একটি সমাধি রেয়েছে। সমাধিটি ঘাসে আচ্ছাদিত ৩০ ফুট উঁচু টিলা সদৃশ। 

এটি তৈরি করা হয় ১৬ শতকের শেষের দিকে। এই সমাধিটির নাম মুমুজিকা টিলা। কোরিয়া ও জাপানের যুদ্ধ হয়। আর সেই যুদ্ধের সময় কোরিয়ান প্রায় ৩৮ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুকে তুলে নেয়া হয়। আর তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের নাক কেটে নেয় জাপানিরা। তারপর সেই নাকগুলো পাঠানো হয় জাপানে। আর সেই নাক দিয়ে একসঙ্গে ৩৮ হাজার কাটা নাকের সমাধি দেয়া হয়। সেই সমাধিটি দেয়া হয় জাপানের কিয়োটো শহরে।

নাক কাটার পর তাদের চেহারা এরকম হয়ে যেত জাপান ১৫৯২ সালে টয়োটোমি হিদায়িশির নেতৃত্বে কোরিয়ান উপদ্বীপ এবং চীন দখলের উদ্দেশ্যে কোরিয়া আক্রমণ করেন। যা তখন মিং রাজবংশের অধীনে ছিল। জাপানি বাহিনী কোরিয়ান উপদ্বীপ দখল করতে বেশিরভাগ সফল হয়। তবে তারা ব্যর্থ হন চীন দখল করতে। এর বছর কয়েক পর অর্থাৎ ১৫৯৭ সালে মিং এবং কোরিয়ার জোসোনের সম্মিলিত বাহিনীর একটি শক্ত প্রতিরক্ষা দল জাপানকে দক্ষিণ উপদ্বীপে যেতে বাধ্য করে। সেখানেই দুই বিরোধী সেনাবাহিনীর মধ্যে টানা ১০ মাস যুদ্ধ হয়। 

১৫৯৮ সালে টয়োটোমি হিদায়িশির আকস্মিক মৃত্যুর পর এই শত্রুতার অবসান ঘটে। তবে ১০ মাস যুদ্ধ চলাকালীন জাপানিরা অনেক কোরিয়ান ও চীনা নাগরিকের মাথা কাটেন। আর সেই মাথা কেটে লবণ মাখিয়ে প্যাকেট করে জাপানে পাঠিয়ে দেন। সেই মাথা জাপানি সামরিক বাহিনী গণনা করে দেখতো তারা ঠিক কতজনকে হত্যা করেছে। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে জাপানি সৈনিকদের পুরস্কৃতও করা হতো।

এই রাজা সৈনিকদের পুরস্কৃত করতেন তবে একপর্যায়ে কাটা মাথা জাপানে পাঠাতে গিয়ে তারা হিমশিম খেতে থাকে। আর এই কারণে কাটা মাথার বদলে জাপানি সৈনিকরা কাটা নাক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় কোরিয়ানদের। সেনাবাহিনীর উপর টয়োটোমি হিদায়িশির আদেশ দেয়, 'যুদ্ধের ময়দানে যুবক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, ধর্মযাজক কিংবা মর্যাদাবান যে কেউ হোক না কেন, বৈষম্য ছাড়াই সবাইকে হত্যা করতে হবে এটাই আদেশ।'  

স্টিফেন আর টার্নবুল তার 'সামুরাই আক্রমণ' বইয়ে জানিয়েছেন, টয়োটোমি হিদায়িশির সেনাবাহিনী এক লাখ ৮৫ হাজার ৭৩৮ কোরিয়ান ও ২৯ হাজার ১৪ জন চীনা সেনার কাটা মুণ্ডু সংগ্রহ করেছিল। তবে ইতিহাস বলছে, আর সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করা অসম্ভব। কারণ অনেক মাথা ফেলে দেয়া হতে পারে। অন্যদিকে যাদের নাক কাটা হয়েছিল, তাদের মধ্যে অনেকেই প্রাণে বেঁচে ছিলেন।

মানুষের নাকের সমাধি তখনকার সময় অনেক কোরিয়ান নাক ছাড়াই বহু বছর বেঁচে ছিলেন, জানা যায়। জাপানে প্রেরিত নাকগুলো কয়োটো এবং ওকায়ামায় সমাহিত করা হয়েছিল। কয়োটোতে হিদায়িশি হোকোজি মন্দিরের পাশে কাটা নাকের একটি সমাধি তৈরি করার নির্দেশ দেন। তবে হিদায়িশি কেন বৌদ্ধ মন্দিরে কাটা নাকগুলোর সমাধি দিয়েছিল, তা কারো জানা নেই। আজো কাটা নাকের সমাধি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জাপানের কিয়োটো শহরে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ