কষ্টমেশানো এক আশ্চর্য প্রেমগাঁথা থেকে ‘ভালোবাসা দিবস’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

কষ্টমেশানো এক আশ্চর্য প্রেমগাঁথা থেকে ‘ভালোবাসা দিবস’

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৮ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। ছবি: সংগৃহীত

সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। ছবি: সংগৃহীত

মানুষ স্বভাবতই নিজেকে ভালোবাসে। নিজের প্রতি ভালোবাসার মূল সূত্র ধরেই মানুষ তার বাবা-মা থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধবকে ভালোবাসে। কখনও কখনও এই ভালোবাসাটা অপরিচিত কোনো মানুষের জন্যও জন্মে। কখনও কখনও এটি বেশ তীব্রতা পায়।

ভালোবাসা শব্দটির উৎপত্তি সঠিকভাবে কারোই জানা নেই। তবে মানবজাতীর শুরু থেকে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ধরা দিয়েছে। তাই ভালোবাসা নামক এই অনুভূতিটুকু মহিমান্বিত করতে প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারিকে উদযাপন করা হয় বিশ্ব ‘ভালোবাসা দিবস’ হিসেবে।

প্রেমের এ দিনের আড়ালে লুকিয়ে আছে বিচ্ছেদ, কান্না আর কষ্টমেশানো এক আশ্চর্য প্রেমগাঁথা। ক্যালেন্ডারে ভালোবাসার দিন হিসাবে নির্দিষ্ট এই তারিখটির পেছনে রয়েছে একজন রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজকের নাম। তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া ইতিহাসের এক আশ্চর্য উপাখ্যান।

ভালোবাসা দিবসের প্রাচীনতম বার্তা, ১৪৭৭ সালে লেখা হয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত

হাজার বছর আগে প্রাচীন রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে একজন ক্যাথলিক ধর্মযাজক বাস করতেন। সে সময়ে রোমানদের সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় ক্লসিয়াস। বিশ্বজুড়ে রোমানরা তখন একের পর এক রাজ্য জয় করে চলছিল। এমন বিশাল এক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল শক্তিশালী সেনাবাহিনী। ঠিক সেসময় দলে দলে রোমান পুরুষদের সেনাবাহিনীতে নেয়া হচ্ছিল, কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তরুণীরা। তারা কিছুতেই তাদের ভালোবাসার পুরুষটিকে যুদ্ধে পাঠাতে রাজি না। সেই সমস্যা সমাধানে সম্রাট ভাবলেন পুরুষরা যদি বিয়ে না করে তাহলে তাদের যুদ্ধে যাবার সম্ভাবনা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না। তাই রোম শহরে বিয়ে করা নিষিদ্ধ করলেন সম্রাট ক্লসিয়াস। কিন্তু এভাবে আইন করে কী মানুষের ভালোবাসাকে দমিয়ে রাখা যায়?

ঠিক তখনই ভালোবাসার অভাবে কাতর মানুষগুলোর সাহায্যে এগিয়ে এলেন ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। তিনি নিজেই প্রেমে আবদ্ধ তরুণ-তরুণীদের বিয়ের ব্যবস্থা করে দিলেন। রোমান সম্রাটের আদেশ ভঙ্গ করে বিয়ের ব্যবস্থা করার কারণে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে বন্দি করা হলো।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন ক্যাথলিক ধর্মযাজক। ছবি: সংগৃহীত

কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় থাকা সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে অনেকেই কারাগারে যেত। শোনা যায় জেলখানার রক্ষকের একটি অন্ধ মেয়ে ছিল। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন এই মেয়েটির সঙ্গে প্রেমে আবদ্ধ হয়ে বিয়ে করেন। যতই চুপচাপ বিয়ে হোক না কেন, কথাটা সম্রাটের কানে পৌঁছতে বেশি সময় নেয়নি। একে খ্রিস্টধর্ম প্রচার, তার উপর আবার রাজাদেশ অমান্য করে সৈনিকদের বিয়ে দেয়া!

রোমান সম্রাটের কাছে পৌঁছানো মাত্রই তিনি ভ্যালেন্টাইনকে ফাঁসির নির্দেশ দেন। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে প্রেমিকার উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখেন ভ্যালেন্টাইন। তাতে লেখা ছিল ‘লাভ ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন’ এবং সেই দিনটি ছিল ১৪ ই ফেব্রুয়ারি। পরবর্তীতে ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ ক্যালিয়াসই সর্বপ্রথম এই দিনটিকে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

উনবিংশ শতাব্দীতে এসে এই দিনটি সর্বজনীনভাবে উদযাপন করা শুরু হয়। শুরু হয় ভালোবাসার মানুষকে ফুল, চকলেট, গ্রিটিংস কার্ড, অলংকার এবং একান্ত সময় কাটানোর রীতি। এবং এভাবেই ভালোবাসা দিবস ছড়িয়ে যায় মানুষের অন্তরের গভীরে এবং ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে