মুড়ির মতো পোকামাকড় খায় এই জাতি, বাদ যায় না সাপ বিচ্ছুও

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

মুড়ির মতো পোকামাকড় খায় এই জাতি, বাদ যায় না সাপ বিচ্ছুও

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৭ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:৫৯ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পোকামাকড় তাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় খাবার

পোকামাকড় তাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় খাবার

পৃথিবীতে সম্ভবত মানুষই একমাত্র প্রাণী, যারা সব ধরনের খাবার খায়। মাছ, মাংস থেকে শুরু করে লতাপাতা ফলমূল কীটপতঙ্গ এমনকি পতঙ্গের বিষ্ঠাও বাদ যায়নি মানুষের খাদ্যতালিকা থেকে। আমাদের পার্বত্য অঞ্চলে বাঁশ সবজি হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়। মিয়ানমারে চা-পাতার সালাদ এক দারুণ জনপ্রিয় খাবার। জাপানের মানুষেরা খান কাঁচা মাছ, মাংস।

বিশ্বের একেক দেশে রয়েছে খাবারের নানান বৈচিত্র্য। অনেক দেশেই জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে কীটপতঙ্গ। চায়ের সঙ্গে আমরা যেভাবে মুড়ি খাই। অনেকটা সেরকমই তারা বিভিন্ন ধরনের পোকা খেয়ে থাকে। কম্বোডিয়ায় একটি বাজার রয়েছে। যেখানে গেলে দেখতে পাবেন নারীরা ট্রেতে নানান ধরনের খাবার সাজিয়ে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে আছে হৃষ্টপুষ্ট তেলাপোকা, মাকড়শা, ঝিঁঝিঁ পোকা, ঘাস ফড়িং ইত্যাদি। এজন্য বাজারটির নামই স্পাইডার মার্কেট। সেখানকার বাসিন্দাদের মতে এই পোকাগুলো খেতে অনেকটা কাঁকরা বা চিংড়ির মতোই।

রেস্তোরাঁয় সাজানো নানান ধরনের পোকার কুড়মুড়ে ভাজি বিভিন্ন দেশ ও জাতি ভেদে মানুষের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি আর স্বভাব যেমন ভিন্নতর হয়, ঠিক তেমনি ভিন্ন হয় পছন্দের খাদ্য সামগ্রী। আমাদের জন্যে যা অখাদ্য কিংবা বিকৃত রুচির পরিচয় বহন করে, সেইসব খাবার আবার অনেক দেশে আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে বসে আছে। চলুন আরো কয়েকটি দেশের পোকা খাওয়ার অদ্ভুত সভ্যতার কাহিনী জেনে আসি- 

কম্বোডিয়ার স্পাইডার মার্কেট থাইল্যান্ড 
এই দেশের মানুষের বিকেল বেলার নাস্তায় খুব জনপ্রিয় হচ্ছে ঘাসফড়িঙ, ঝিঁঝিঁ পোকা আর ঘুণ পোকা। স্ট্রিটফুড হিসেবে এইসব ভাজা মচমচে পোকার চাহিদা প্রচুর। থাইল্যান্ডে বাণিজ্যিকভাবে এসব পোকার চাষ করা হয়। তাছাড়া পিঁপড়ার ডিম এখানে খুব দামী খাদ্য হিসেবে প্রচলিত আছে।

ঘানা

ঝিঁঝিঁ পোকা খুব মোজা করে খায় থাইল্যান্ডের মানুষেরা বসন্তকালে ঘানায় প্রচুর খাদ্যাভাব দেখা দেয়। এখানকার জনগণ ওই সময়ে তাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে উঁইপোকার মাধ্যমে। এরা পোকাগুলো ভাজি কিংবা ভূণা করে খায়, আবার কখনো কখনো রুটি তৈরীতেও ব্যাবহার করে। আমাদের দেশে যেই উঁই ঘর-বাড়ি ধ্বংস করে, ওদের দেশে তা জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে!

মেক্সিকো

চকলেট তৈরীতে মেক্সিকানরা পোকা ব্যবহার করেমেক্সিকো’র অধিবাসীরা সারাবছরই বিভিন্ন ধরনের পোকা খেয়ে থাকে। সিদ্ধ করে, ভেজে কিংবা চকলেট তৈরীতে এরা পোকা ব্যবহার করে। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে টাকিলার সঙ্গে পোকা খাওয়া। এক শট টাকিলায় একটা শুঁয়োপোকা যেন এদের কাছে বেহেশতি পানীয়!

চীন

সাপ, বাদুর, কুকুর, বিড়াল কিছুই বাদ যায় না চাইনিজদের খাদ্য তালিকা থেকে
পোকা এবং বন্য প্রাণী খাওয়ায় চীনাদের নাম সবার প্রথমে। পোকামাকড় খাওয়ার ব্যাপারে বিখ্যাত হচ্ছে এই চাইনিজরা। তিনবেলার প্রধান খাদ্যে, বিকেলের নাস্তায় কিংবা অতিথী আপ্যায়নে এরা নানান জাতের পতঙ্গ ব্যাবহার করে। মৌমাছি’র লার্ভা এদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় আর বিলাসবহুল খাদ্য। আবার রাস্তার পাশের সস্তা দোকানগুলোতেও বিভিন্ন জাতের পোকামাকড়, যেমন তেলাপোকা ভাজা পাওয়া যায়।

ব্রাজিল

 পিঁপড়া ব্রাজিলে জনপ্রিয় এক খাবার
ব্রাজিলের নিম্নবিত্ত অধিবাসিদের একটা ঐতিহ্যবাহী খাদ্য হচ্ছে বেশ বড় জাতের রানি পিঁপড়া, যাকে ব্রাজিলীয় ভাষায় ‘ইকাস’ বলা হয়। তবে বর্তমানে ওখানকার উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট গুলোতেও এই পিঁপড়ার চাহিদা বাড়ছে। তাদের মতে এই পিঁপড়াগুলোর স্বাদ অনেকটা মিন্ট চকলেটের মত।

অস্ট্রেলিয়া

সভ্যতার আড়ালে এসব জাতির রয়েছে নানান কুসংস্কার অস্ট্রেলিয়‍ার বিভিন্ন উপজাতিরা এক ধরনের পিঁপড়া খেয়ে থাকে, যার নাম “হানি-পট অ্যান্ট”। বিশেষ জাতের এই পিঁপড়াগুলোর শরীরের তুলনায় পেট অনেকটা বড় আর পেটের ভেতরটা স্বচ্ছ। তামাটে রঙের এই পেটের ভিতরের জলীয় পদার্থ দেখতে অনেকটা মধুর মত বলেই এদের নাম হানি-পট অ্যান্ট বা হানিঅ্যান্ট। তারা মনে করেই এটি তাদের শরীরকে বিষমুক্ত রাখবে। 

জাপান

শুঁয়োপোকার লার্ভা জাপানিজদের প্রধান খাদ্য
অদ্ভূত সব খাদ্যাভ্যাসের জন্যে বিখ্যাত জাপানিরা। পোকা খাওয়ায় ওস্তাদ এই জাতির সবচেয়ে পছন্দের খাবার গুলোর একটা হচ্ছে‘ইনাগো’। ঘাসফড়িং ভেজে তৈরি করা হয় এই ইনাগো। এদের আরেকটি প্রধান খাদ্য হচ্ছে ‘জাজা-মুশি’বা শুঁয়োপোকার লার্ভা।

এছাড়াও নেদারল্যান্ড কিংবা আমেরিকার মত উন্নত দেশগুলোতে ইদানিং খাদ্যতালিকায় পোকামাকড়, বিশেষ করে ঝিঁঝিঁ পোকা গুরুত্বসহকারে স্থান পাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীর একটা বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে পারে কীটপতঙ্গ। এজন্য কিছু কিছু দেশে পোকামাকড় খাওয়ার প্রতি সরকারীভাবেও উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে