নিজের নির্বুদ্ধিতার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন যে ব্যক্তিরা

ঢাকা, শনিবার   ০৬ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২২ ১৪২৭,   ২১ রজব ১৪৪২

নিজের নির্বুদ্ধিতার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন যে ব্যক্তিরা

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১২ ২৩ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৭:৩৬ ২৩ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: নির্বুদ্ধিতার কারণে প্রাণ দিয়েছেন যে ব্যক্তিরা

ছবি: নির্বুদ্ধিতার কারণে প্রাণ দিয়েছেন যে ব্যক্তিরা

কথায় বলে শখের দাম আশি তোলা। এটি মানুষের অদ্ভুত এক স্বভাব মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন শখ নাকি মূল্য দিয়ে তুলনা করেন না অনেকে। কেউ কেউ আছেন নিজের শখ পূরণ করতে খুইয়েছেন কোটি কোটি টাকা। কেউ হয়েছেন পথের ফকির। এমনও অনেক মানুষের উদাহরণ রয়েছে আমাদের চারপাশে। যারা নিজের শখের জিনিস কিনতে বা শখ পূরণ করতে ধার করে কিংবা সর্বস্ব হারিয়েও তা করবেন।  

বিপজ্জনক জায়গায় সেলফি তোলা অনেকের শখ তবে পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছেন। যাদের শখ এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে, নিজের শখ আহ্লাদ পূরণ করতে গিয়ে নিজের প্রাণটাই হারিয়েছেন। চলুন বিশ্বের এমনই কিছু অদ্ভুত মানুষের অদ্ভুত কিছু শখের কথা জেনে নেই। যাদের শেষ পরিণতি ছিল খুবই ভয়াবহ। যা হয়তো আপনি কল্পনাও করতে পারছেন না। 

সেলফি 

ট্রেনের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে মারা যান এই ব্যক্তি
আধুনিকতার অন্যতম এক উদাহরণ সেলফি ক্যামেরা। নিজের ছবি নিজের ইচ্ছামতো ভঙ্গিতে নিজেই তুলে নিতে পারবেন। তবে এই সেলফি তুলতে গিয়ে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ সাপের সঙ্গে, কেউ আবার উঁচু কোথাও থেকে সেলফি তুলতে গিয়ে অসতর্ক হয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। ২০১৮ সালের ইন্ডিয়ার হায়দ্রাবাদে এক ব্যক্তি রেললাইনের সামনে দাঁড়িয়ে পিছনে ট্রেন রেখে নিজের সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন। ট্রেনটি বারবার হুইসেল দেয়ার পরও সেই ব্যক্তি সেখান থেকে সরে যায়নি। এর ফলে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ট্রেনের ধাক্কায় কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়ে সে। এরপরই মারা যায় সেই ব্যক্তি। 

আরো পড়ুন: সাইকেল নিয়ে বিশ্ব ভ্রমণ, শত বছর আগে বাঙালিই প্রথম শুরু করেছিল

ডেয়ার ডেফিল

 উ ইয়ংনিং
অনেকেই দেখবেন উঁচু কোনো ভবন, টাওয়ার বা পাহাড় থেকে সেলফি তোলেন। আবার সেখানে গিয়ে বিভিন্ন শারীরিক কসরত করে রেকর্ড গড়ার চেষ্টা করেন। তেমনি চীনের একটি ৬২ তলা উঁচু ভবনে উ ইয়ংনিং নামে এক ব্যক্তি উঠে যান। ছাদ থেকে ঝুলে পড়েন। সেখানে কোনো রকম কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই শারীরিক কসরত করতে থাকেন। তবে হাত ফসকে নিচে পড়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান। 

দড়ির উপর হাঁটা

কোনোরকম নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই এই পথ পাড়ি দেন তিনি
অনেক সার্কাসেই দড়ির উপর দিয়ে সাবলীলভাবে নারী পুরুষকে হেঁটে যেতে দেখেছেন নিশ্চয়। জোড় করতালির মাধ্যমে সবাই আনন্দ প্রকাশ করলেও। দুর্গম পাহাড় চূড়ার উপর এমন দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা দেখলে গায়ে কাঁটা দেয়। তবে অনেকেই আছেন দুর্গম এবং সুউচ্চ পাহাড়ের উপর দিয়ে নিজেদের অসাধ্য ক্ষমতা দেখাতে চায়। অনেকেই সফল হন আবার অনেকে প্রাণ হারান।  

লম্বা দাড়ি

শখের দাড়ির কারণেই মারা গেলেন তিনি
পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা দাড়ি বড় রাখতে পছন্দ করেন। সেসব ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন স্টেঞ্জার। দাড়ি লম্বা রাখা ছিল তার শখ। বেশ কয়েক বছর দাড়ি না কাটার ফলে তার দাড়ি দেড় মিটারেরও বেশি লম্বা হয়েছিল। তার দাড়ি এতোটাই লম্বা হয়েছিল যে, দাড়ি ভাঁজ করে তাকে পকেটে রাখতে হত।  ১৫৬৭ সালে এই ব্যক্তি যে শহরে বাস করত সেখানে আগুন লেগে যায়। আর সিঁড়ি দিয়ে নামতে দিয়ে তার দাঁড়িয়েই পা বেঁধে পড়ে যান তিনি। ঘাড় ভেঙে সেখানেই মৃত্যু হয় তার। 

আরো পড়ুন: ১৮০ ডিগ্রি মাথা ঘুরিয়ে চা পান, জন্মত্রুটিই এনে দিয়েছে তাকে জনপ্রিয়তা

হ্যান্ড গ্রেনেট

হ্যান্ড গ্রেনেট
বিশ্বে অনেক ধরনের চোরই আছে। যারা সঙ্গে রাখে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। যা দিয়ে ভয় দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে মূল্যবান ধন সম্পদ হাতিয়ে নেয় তারা। তবে কম্বোডিয়ার এক চোর দোকানীকে ভয় দেখাতে হ্যান্ড গ্রেনেট দেখিয়ে ছিল। এমনকি ভুল বশত সে গ্রেনেটের সিপিটি খুলে ফেলেছিল। যখন লুটপাট শেষে সে ফিরে যাচ্ছিল। ভুল করে টাকা পয়সার পাশাপাশি গ্রেনেটটিও তার পকেটে ঢুকিয়ে নেয়। তখন গ্রেনেটটি বিস্ফোরিত হয় এবং চোরটি সেখানেই মারা যায়।   

বোকা চোর

সিন্দুকের নিচে চাপা পড়েই মারা যায় চোর চোরেরা চুরি করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকে। সিথ কেটে, জানালা ভেঙে, কেউবা আবার ছাদ ভেঙে ঘরের মধ্যে ঢোকে চুরি করার জন্য। তবে ইন্ডিয়ানারা এক চোরের নির্বুদ্ধিতার জন্য তাকে নিজের প্রাণ দিতে হয়। একবারস সে এক বাড়ির ছাদ ভেঙে ঢুকে পড়ে চুরি করার উদ্দেশ্যে। তবে সে প্রথমে গ্যারেজে ঢুকে যায় ভুল করে। সেখানে সে এক লোহার সিন্দুক দেখতে পায়। যেটি তালা দেয়া ছিল। অনেকক্ষণ চেষ্টা করার পরও সিন্দুক খুলতে না পারায় পুরো সিন্দুকটি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকে। এজন্য সিন্দুকটি একটু নাড়াতে গেলেই সেটা তার উপর পড়ে যায়। আর চোরটি সেখানেই মারা যায়। কেননা সিন্দুকটির ওজন ছিল প্রায় ১০০ কেজি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, সিন্দুকের ভেতরে কিছুই ছিল না। 

হাতি

হাতিকে সম্মোহন করতে চেয়েছিলেন এই ব্যক্তি অনেক হিংস্র পশুকেই হিপনোটাইজ বা সম্মোহন করা যায়। এরমধ্যে হাতি অন্যতম।  ২০১৯ সালে শ্রীলংকার এক ব্যক্তি তার বন্ধুদের সঙ্গে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই তার মাথায় কুবুদ্ধি চেপে বসে। গাড়ি থেকে নেমে সে একটি বন্য হাতিতে তার হাতে থাকা প্যান্ডুলাম দিয়ে সম্মোহন করার চেষ্টা করে। হাতিটি এতে ভীষণ রেগে যায়। আর তার দিকে তাড়া করতে থাকে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায় সেই ব্যক্তি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে