বিড়ালের প্রেমে অন্ধ প্রাচীন মিশর, ভ্রু কেটে শোক পালন

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৮ ১৪২৭,   ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিড়ালের প্রেমে অন্ধ প্রাচীন মিশর, ভ্রু কেটে শোক পালন

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৭ ১১ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৬:১৪ ১১ জানুয়ারি ২০২১

মিশরীয়রা বিড়ালকে পবিত্র মনে করত

মিশরীয়রা বিড়ালকে পবিত্র মনে করত

অনেকেই বাড়িতে শখ করে বিড়াল, কুকুর পোষেন। অনেকের আবার এসব অবুঝ প্রাণীর প্রতি আছে গভীর মমতা। সঠিকভাবে পরিচর্চা করা, খাদ্য, চিকিৎসা সব কিছুর ব্যবস্থা মালিক নিজেই করেন। আদরের এই পোষ্য হয়ে ওঠে পরিবারেরই একজন সদস্য। তবে বর্তমানেই নয় হাজার হাজার বছর আগে মিশরীয়দের উপাখ্যানে পাওয়া যায় পোষ্যদের কথা। 

তবে প্রাণী পোষা ছিল আভিজাত্যের অংশ। সেসময় কুকুর, বিড়াল, পাখিকে মনে করা হত দেবতাদের বাহন। এজন্য জনসাধারণের এসব প্রাণী পোষার অনুমতি ছিল না। শুধু মাত্র সমাজের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি এবং ফারাওরাই পোষ্য রাখতে পারত। তাদের পোষ্যের তালিকায় ছিল কুকুর, বিড়াল, কুমির, সাপ, ঈগল, সিংহ, শেয়াল ইত্যাদি। শুধু যে জীবদ্দশায় এসব প্রাণী পুষতেন তাই ই নয়। মৃত্যুর পর এসব প্রাণীকে তাদের সঙ্গেই মমি করে দেয়া হত। সঙ্গে থাকত তাদের খাবার।

জাপানে রয়েছে বিড়ালের মন্দির বাঘের মাসি বলা হয় বিড়ালকে। আদুরে এই ছোট্ট প্রাণীটি অনেকেরই প্রিয় পোষ্যের তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় গৃহপালিত প্রাণী। বিড়াল খুবই আরামপ্রিয় একটি প্রাণী। অনেকে আদর করে বিড়াল পোষেন ঠিকই । তবে এতে খানিকটা লাভও আছে আপনার। ঘর থেকে ইঁদুর দূর করার সহজ উপায়। দুধ, মাছ, মাংস বিড়ালের প্রিয় খাবার। 

আরো পড়ুন: প্রাচীন মিশরে অপরাধের বিচার করত মূর্তি, তার সিন্ধান্তেই মৃত্যুদণ্ড

ছোট্ট শরীর, কটা চোখ, আরামপ্রিয় একটি প্রাণী। বাড়িতে ঢুকলে আপনার কোলের ওমটি নিতে খুবই ভালোবাসে সে। সুযোগ পেলে মাছ, মাংস নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘরের এটা ওটা ভাঙছে প্রতিনিয়ত। তবে সভ্যতার ইতিহাসে এই আদুরে প্রাণীর স্থান কিন্তু বেশ উঁচু জায়গায়। জাপানের টোকিওতে বিড়ালদের আস্ত একটি মন্দিরই আছে। 

আদুরে এই প্রাণীটি ভালোবাসেন না এমন মানুষ কমই আছেন পিরামিডের দেশের প্রতিটি কোণায় লুকিয়ে আছে ইতিহাস। লুকিয়ে আছে প্রাচীন সভ্যতার অংশ। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার অন্দরে আরও কত রহস্য লুকিয়ে আছে, তা হয়তো এখনো জানা যায়নি। আর এই সভ্যতার সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছে বিড়াল। প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিকরা বলছেন, প্রাচীন মিশরের কারুকাজ, স্থাপত্যগুলো খুঁটিয়ে দেখলে সেখানে বিড়ালের উপস্থিতি ভালোই বোঝা যাবে। মিশরীয়দের কাছে বিড়াল এক রহস্যময় প্রাণী। শুধু রহস্যময়ই নয়, বিড়ালের উপস্থিতি মানেই সৌভাগ্য আসা। আর সেজন্য এই প্রাণীটির গায়ে যাতে আঁচড়ও না লাগে, সেইদিকেই খেয়াল রাখত প্রাচীন মিশরীয়রা। যদি দুর্ঘটনা হয়, এবং সেজন্য যদি বিড়ালটি মারাও যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডও দেয়া হত। আর ইচ্ছা করে মেরে ফেললে তো কথাই নেই।   

আরো পড়ুন: এদেশে কুমারী মেয়ের হয় না বিয়ে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যত অদ্ভুত যৌনরীতি 

অবশ্য প্রাচীন মিশরে বিড়ালকে বলা হত: ‘মাউ।’ এর মানে, ‘দেখা’। প্রাচীন মিশরে বিড়ালকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হত। ছোট-বড় সকলেই সম্মান করত এই ছোট্ট প্রাণিটিকে । বিড়াল মিশরের সমাজে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করত। যে কারণে বিড়ালকে তারা শিল্পে স্থান দিয়েছিল, মর্যাদা দিয়েছিল দেবতার, মৃত্যুর পর এমন কী বিড়ালের মমিও করা হত। বিড়াল কৃষিক্ষেত্রের অনিষ্টকর জীবজন্তু থেকে রক্ষা করত। এ কারণে মিশরবাসী বিড়ালের প্রশংসা করত। বিড়াল সাপও মারতে পারত ; বিশেষ করে বিষধর গোক্ষুর। এভাবে বিড়াল প্রাচীন মিশরে সুখ ও শান্তির প্রতীক হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে প্রাচীন মিশরে বিড়ালদেবীর পূজাও আরম্ভ হয়- যা প্রায় ২০০০ বছর টিকেছিল। বিড়ালের দেবীর নাম ছিল বাস্ট বা বাসটেট। 

এখনো বিড়ালকে মিশরীয়রা তাদের দেবতা মনে করেন মিশরের দেব-দেবীর দিকে তাকালে, সেখানেও বিড়ালের উপস্থিতি দেখা যায়। বাস্তেত নামের এক মিশরীয় দেবীর বিশেষ ক্ষমতাই ছিল বিড়ালে রূপান্তরিত হওয়ার। একটু ধনী পরিবারে বিড়ালদের রীতিমতো সোনার গয়না পরিয়ে রাখা হত। এমনকি খাওয়ার এলাহি আয়োজনও থাকত। সবচেয়ে অদ্ভুত প্রথাটি ছিল বিড়ালের মারা যাওয়ার পর। মারা গেলে, মানুষের মতোই মমি দেয়ার নিয়ম ছিল প্রাচীন মিশরে। তবে এতেই থেমে থাকত না শোকজ্ঞাপন। বিড়াল মারা গেলে, তার মালিকেরা নিজেদের চোখের ভ্রু পুরো কেটে ফেলত। যতক্ষণ না সেই ভ্রু আবার গজিয়ে উঠছে, ততদিন ধরে চলত শোকপালন। বিড়ালদের নিয়ে এমন পরিস্থিতি কি এখন দেখা যায়!

এছাড়া এখনো প্রাচীন মিশরীয় ইতিহাসে বিড়ালের স্থান রয়েছে বেশ উঁচুতেই। সেখানকার মানুষ এখনো এই প্রাণীটিকে পোষ্যের তালিকায় সবার উপরেই রাখেন। তবে এখন আর ধনী গরিবের ফারাক নেই। যে কেউ ইচ্ছা করলেই বিড়াল পুষতে পারেন। 

বিড়ালের দেবীর নাম ছিল বাস্টপ্রাচীন মিশরের অধিবাসীদের বিড়ালপূজা সেই রহস্যময় একটি দিকেরই ইঙ্গিত দেয় যেন। গ্রিক ঐতিহাসিক হিরোডোটাসের একটি লেখায় প্রাচীর মিশরের অধিবাসীদের বিড়াল প্রীতি সম্বন্ধে পাওয়া যায়। একবার, মিশরে একটি বাড়িতে আগুন লেগেছে। বিড়ালের যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য বাড়ির মানুষ বিড়াল ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল । গ্রিক ঐতিহাসিক হিরোডোটাস আরও লিখেছেন: পারস্যের সৈন্যবাহিনী মিশর আক্রমন করতে এসেছে। পারসিক সেনাপতি মিশরবাসীর অত্যধিক বিড়ালপ্রেম সম্বন্ধে অবগত ছিলেন। তিনি সৈন্যদের বিড়াল সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন। করলেন। সীমান্তের দিকে মিশরীয় সৈন্যরা অগ্রসর হচ্ছে। পারসিক সৈন্যরা হাজার হাজার বিড়াল ছেড়ে দিল। ভয়ার্ত মিশরীয় সৈন্যরা এদিক ওদিক ছোটাছুটি করা পবিত্র বিড়ালের ক্ষতি করার চেয়ে রণাঙ্গন থেকে পালিয়ে গেল। মিশর পারস্যের অধিকৃত হয়ে যায়। 

পোষ্য বিড়ালগুলো মারা গেলে এদের মমি করে রাখা হত

প্রাচীন মিশরে থিবস বলে এক সমৃদ্ধশালী নগরী ছিল। সেখানকার একটি সমাধিসৌধের দেওয়ালে বিড়াল-বন্দনা সরূপ এই কথাগুলি লেখা ছিল, হে মহৎ মার্জার, দেবগনের প্রতিহিংসক তুমি/ এবং শব্দসমূহের বিচারক, স্বাধীন নৃপতির অধিশ্বর/ এবং পবিত্র চক্রের প্রশাসক/ তুমি প্রকৃতই মহৎ মার্জার। 

আরো পড়ুন: বাংলার ‘মোগলি’, যার কাহিনী কাঁদায় বিশ্ববাসীকে

পরিবারের লোকেরা বিড়াল দেখেশুনে রাখত। বিড়াল নিয়ে তাদের ছিল ভারি অহংকার। পড়শীর বিড়ালটি দেখতে সুন্দর হলে পাশের বাড়ির লোকেরা ঈর্ষা করত। ঘর সাজাত বিড়ালের ছবি দিয়ে, ঘরের এককোণে রাখত বিড়ালের মূর্তি, শরীরে পরত বিড়ালের ছবিওয়ালা তাবিজ । বিড়ালের নিরাপত্তার জন্য ছিল কঠোর আইন ছিল। ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত বিড়াল হত্যার শাস্তি ছিল মৃত্যুদন্ড। মিশরের বাইরে বিড়াল রপ্তানী ছিল নিষিদ্ধ। তারপরও লোভী চোরাচালানিরা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বিড়াল পাচার করত ; প্রাচীন মিশরীয় নথিপত্রে দেখা যায় যে- বিড়াল উদ্ধারের জন্য পাশ্ববর্তী অঞ্চলে সামারিক অভিযান পরিচালিত হত!

বিড়ালের ছবি গলায় ঝুলিয়ে রাখত তাবিজ হিসেবে তবে কেন এই বিড়ালপ্রীতি মিশরবাসীর? এই প্রশ্ন আপনার মনে উঁকি দিতেই পারে। ধারণা করা হয়, বিড়ালকে পোষ্য হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়েছিল মিশরীয়রাই। তবে তাও আজ থেকে প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগেকার কথা। মিশরীয়দের জীবিকার প্রধান উৎস ছিল চাষাবাদ। আর ফসলের অনিষ্ট করে ইঁদুর। সেই ইঁদুর থেকে বাঁচতেই বিড়ালের পালন শুরু। 

আরো পড়ুন: বিলাসিতায় মগ্ন রাজার গলায় ২৯৩০টি হিরার কণ্ঠহার, সঙ্গী ৩৩২ জন যৌনদাসী!

প্রাচীন মিশরে এক ধরনের বুনো বিড়াল ছিল-যার বৈজ্ঞানিক নাম: ‘ফেলিস চাউস’। সাপের ছোবলের মৃত্যু হয় মানুষের। ‘ফেলিস চাউস’ সাপ মারতে পারে। এসব কারণেই প্রাচীন মিশরবাসীর মনে বিড়াল সম্বন্ধে শুভ ধারণা জন্মে। বিড়াল ক্রমশ গৃহপালিত হয়ে ওঠে থাকে। বিড়ালের ওপর নির্ভর করতে থাকে গ্রামবাসী। তারা চাইত বিড়াল যেন গ্রামেই থাকে। কালক্রমে বিড়াল মানুষের খাদ্যে অভ্যস্ত হয়ে গেলে তাকে আর গ্রামের বাইরে খাদ্যের অন্বেষন করতে হয় না। রীতিমতো পোষা হয়ে ওঠে বিড়াল। কুকুরের বদলে বিড়াল নিয়ে শিকার করতে বেরুত গ্রামবাসী। বিড়াল মাছ কি পাখি খুঁজে নিয়ে আসত। 

মিশরের বিভিন্ন জায়গায় এমন ছবি দেখা যায় ১৫৪০ থেকে ১০৬৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত সমাধিসৌধে বিড়ালের অসংখ্য ছবি পাওয়া গিয়েছে। একটি সুপরিচিত দৃশ্য হল মেয়েদের চেয়ারের নিচে বিড়াল বসে। মনে থাকার কথা- প্রাচীন মিশরে বিড়ালকে বলা হত: ‘মাউ।’ এর মানে, ‘দেখা’। শিশুদের আদর করে মিত (বিড়াল) বলে ডাকত। বিপদ-আপদ দূর করার জন্য বাড়ির বাইরে বিড়ালের মূর্তি স্থাপন করত। প্রাচীন মিশরের পারিবারিক জীবনের প্রতিটি স্থরে বিড়াল ছিল অনিবার্য।

দেবী মাফডেট। এককালে ন্যায়বিচার ও মৃত্যুদন্ডের দেবী ছিলেন মাফডেট; দেবীর মাথা সিংহের মতো। বিড়ালের দেবী বাস্ট (বা বাসটেট) দেবী ছিলেন মাফডেট এর স্থলাভিষিক্ত হন। পরে দেবী বাস্ট এর ইমেজ নমনীয় হয়ে আসে। এবং তিনি প্রাচীন মিশরের উর্বরতা ও মাতৃত্বের দেবী হয়ে ওঠেন।

বিশ্বের অনেক দেশে বিড়ালকে বেশ সম্মান দেয়া হয় তবে বিড়ালদেবী হিসেবে বাস্ট এর উত্থানের প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না, বরং অত্যন্ত জটিল ছিল। প্রাচীন মিশরে বৃহৎ মাতৃদেবী ও রক্ষাকর্ত্রী ছিল মুত, পরে মুত-এর সঙ্গে দেবী আইসিস অঙ্গীভূত হয়ে যান। আরও পরে আইসিস সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে উঠেছিলেন বিড়াল দেবী বাস্ট। যে দেবীর ছিল সিংহমস্তক । যা হোক। রা ছিলেন প্রাচীন মিশরে উচ্চতম সূর্যদেব-আশ্চর্য এই, প্রথমদিকে সে দেবতারও ছিলেন মার্জারমূর্তি। রা-এর এক ভয়ালদর্শন সিংহমস্তক এক কন্যার নাম শেকহমেট। রা-এর বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহ করত- শেকহমেট তাদের সমূলে ধ্বংস করত। এই শেকহমেট-এরই ছোট বোন বাস্ট। ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বে দেবী বাস্টকে সিংহমস্তক হিসেবে চিহ্নিত করা গেছে। পরে অবশ্য দেবী পরিপূর্ণ বিড়ালের রূপ ধারণ করেন এবং গৃহপালিত বিড়াল দেবী বাস্ট-এর পবিত্র প্রতীক হয়ে ওঠে। 

আরো পড়ুন: ৭২টি বিষাক্ত সাপের সঙ্গে তিনদিন এক খাঁচায় সময় কাটিয়ে বিশ্ব রেকর্ড

বুবাসটিস-এর পবিত্র উপাসনালয়ে পুরোহিতরা দেখাশোনা করত। বিড়ালের প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি তারা লক্ষ করত। বিড়াল মারা গেলে অত্যন্ত জাঁকজমক পূর্ণভাবে বিড়ালের শেষকৃত্য পালন করা হত। মানুষের মতোই বিড়ালেরও মমি করা হত। ৬টি ধাপে মমি করা হত। প্রথমে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অপসারণ। এরপর দেহ বালি কিংবা অন্য কিছু দিয়ে স্টাফ করা। এরপর বসা অবস্থায় রাখা এবং দেহ শক্ত করে বাঁধা। এরপর কালো কালি দিয়ে মুখসহ শরীরের অন্যান্য জায়গায় অলংকরণ করা। সবশেষে রাসায়নিক দ্রব্য বাদে প্রাকৃতিক মালমশলা ব্যবহার।বিড়াল দেবী বাস্ট। মমিকৃত বিড়াল দেবী বাস্ট কে উৎসর্গ করা হত।

১৮৮৮ সালে বুবাসটিস-এ তিন লাখ বিড়ালের মমি পাওয়া গিয়েছিল ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে একজন মিশরীয় কৃষক বড় একটি সমাধিক্ষেত্রে অসংখ্য মমিকৃত বিড়াল ও ছানা আবিস্কার করে। শিল্পীর কল্পনায় বুবাসটিস-এ বিড়ালদেবী বাস্ট। বুবাসটিস-এ তিন লাখ বিড়ালের মমি পাওয়া গিয়েছে। কোনো কোনো মমিতে মাথায় ও ঘারে আঘাতের চিহ্ন। হয়তো দেবীর উদ্দেশ্যে বলি দেয়া হয়েছিল কিংবা বিড়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। 

বিভিন্ন সময় গবেষকদের গবেষণায় উঠে আসছে মিশরের একের পর এক রহস্য। মিশরীয়দের রহস্যাবৃত জীবনযাপন বিশ্বের মানুষের কাছে উম্মোচিত হচ্ছে। যা থেকে বোঝা সম্ভব হচ্ছে, প্রাচীন মিশর কতটা সমৃদ্ধ আর এগিয়ে ছিল। তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে জীবন ব্যবস্থা সবই ছিল সময় অনুযায়ী অনেক এগিয়ে। মিশর গবেষকরা তাদের গবেষণা চালিয়েই যাচ্ছেন চমকপ্রদ কিছুর আশাতেই। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে