যে দেশের নারীদের শারীরিক সম্পর্কের আগে বিয়ে নিষিদ্ধ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

যে দেশের নারীদের শারীরিক সম্পর্কের আগে বিয়ে নিষিদ্ধ

সাত রঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৮ ২ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৩:১৮ ২ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: যে দেশের নারীদের শারীরিক সম্পর্কের আগে বিয়ে নিষিদ্ধ

ছবি: যে দেশের নারীদের শারীরিক সম্পর্কের আগে বিয়ে নিষিদ্ধ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষেরা তাদের ভিন্ন ধরনের কাজ এবং রীতিনীতির জন্য অন্যদের থেকে আলাদা। যার অনেক কিছুই আমাদের কাছে একেবারেই স্বাভাবিক নয়। আমাদের কাছে যা অস্বাভাবিক সেগুলোই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘটা করে পালন হয়। আমাদের দেশে যৌন ব্যাপারটা একটু রাকঢাক থাকলেও বিশ্বের এমন অনেক দেশ আছে। যেখানে এটি খুবই খোলামেলা ব্যাপার। 

আরো পড়ুন: এদেশে কুমারী মেয়ের হয় না বিয়ে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যত অদ্ভুত যৌনরীতি

নানান দেশে এই ব্যাপার নিয়ে আছে নানান রীতি এবং প্রথা। আফ্রিকার এক দেশ আছে যেখানে কুমারী মেয়েদের কখনো বিয়ে হয় না। বয়ঃসন্ধি শুরু হলেই তাদের থাকতে হয় গ্রামের অন্যান্য পুরুষদের সঙ্গে। তাদের কাছ থেকে শিখতে হয় যৌনজীবনের খুঁটিনাটি। যে মেয়ে যত বেশি পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে পাত্রী হিসেবে তার কদরই সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, মেয়েদের বাবা গিয়ে পিতৃসম পুরুষের কাছে মেয়েকে দিয়ে আসেন। 

আজ ডেইলি বাংলাদেশের সাতরঙের আয়োজনে থাকছে বিশ্বের আরো এমন দেশের কথা। যাদের যৌনরীতি সম্পর্কে জানলে চোখ আপনার কপালে উঠবে। আজ থাকছে শেষ পর্ব- 

মাকেসাস দ্বীপমালা

দম্পতিরা তাদের ছেলে মেয়েদের সামনেই যৌনমিলন করেদক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে ভাসছে এই মার্কেসাস আইল্যান্ড। ফরাসি পলিনেশিয়ার অন্তর্গত এই আগ্নেয় দ্বীপমালার উচ্চতম শৃঙ্গ হল উয়া পৌ দ্বীপের মাউন্ট ওয়েভ ( ৪০৩৫ ফুট )। এই দ্বীপে বসবাসকারী পলিনেশিয়ানদের আজব একটি রীতি আছে। যা শুনলে চমকে উঠতে হয়। এখানকার দম্পতিরা তাদের ছেলে মেয়েদের সামনেই যৌনমিলন করে থাকেন। এই রীতি চলে আসছে শত শত বছর ধরে। সন্তানদের সামনে এভাবে জন্ম রহস্য হাট করে খুলে দেয়ার কথা কার মাথায় প্রথমে এসেছিল, তা যদিও জানাতে পারেননি কোনো নৃতত্ত্ববিদ। 

জাভা

পঁয়ত্রিশ দিন অপিরিচিত লোকের সঙ্গে যৌনমিলন করেন এরা ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও বালি দ্বীপের মাঝখানে আছে জাভা দ্বীপ। এই জাভা দ্বীপের কেন্দ্রস্থলে আছে একটি পাহাড়। যেটির নাম 'মাউন্ট কেমুকুস'। জাভার অধিবাসীরা বলেন 'গুনুং কেমুকুস'। বিশ্ববাসী পাহাড়টিকে চেনেন 'সেক্স মাউন্টেন' নামে। এই পাহাড়টির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ধর্মবিশ্বাস ও অদ্ভুত এক যৌনসংস্কার। এই পাহাড়ে আছে জাভার রাজা পাঙ্গেরান সোমোদ্র ও তার সৎ-মা এনাই অন্ত্রউলানের সমাধি।  

আরো পড়ুন: নৃশংসভাবে বলি দেয়া হয় এই কুমারীকে, প্রকৃতিই তাকে করেছে মমি

'জুমাত পন' তিথিতে মাউন্ট কেমুকুসে টানা পঁয়ত্রিশ দিন ধরে চলে 'পন' উৎসব। রাজা পাঙ্গেরান সোমোদ্র ও তার সৎ মা এনাই অন্ত্রউলানের সমাধি ঘিরে চলে পূজার্চনা। উৎসবের সময় চলে অদ্ভুত সেই প্রথা। উৎসবের এই পঁয়ত্রিশ দিনে, সম্পূর্ণ অপিরিচিত বা অনাত্মীয়ের সঙ্গে সাত বার যৌনমিলন করেন উৎসবে অংশ নেয়া নারী পুরুষরা। এদের বিশ্বাস এর ফলে পুণ্য অর্জন করা যায়। জীবনে আসে সৌভাগ্য। দূর হয় দারিদ্র।

রাতানাকিরি  

চৌদ্দ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীরাকম্বোডিয়ার রাতানাকিরি প্রদেশে বসবাস করে ক্রেয়াং উপজাতি। রাতানাকিরি ছাড়াও অল্পসংখ্যায় এরা বাস করে স্টাং-ট্রেং ও মণ্ডলকিরি এলাকায়। কম্বোডিয়ায় ক্রেয়াং-দের সংখ্যা আজ প্রায় তেইশ হাজার। ক্রেয়াং সমাজে এক অদ্ভুত প্রথা আছে। চৌদ্দ বছর বয়স থেকেই কিশোরীরা তাদের ইচ্ছামতো চেনা অচেনা যুবকদের সঙ্গে যৌনমিলন করতে পারে। যতদিন না সে তার পছন্দসই পুরুষটিকে খুঁজে পাচ্ছে, ততদিন কিশোরীটি চালিয়ে যেতে পারে এই অবাধ যৌনমিলন ৷ 

আরো পড়ুন: স্বামীর অজান্তে একই বাড়িতে প্রেমিককে লুকিয়ে রাখেন ১৭ বছর

অবাক করার মতো ব্যাপার হলো, মেয়েটির পরিবারের লোকরাই তাদের কিশোরী কন্যার জন্য পরিবারে জমিতে বানিয়ে দেন একটি 'লাভ-হাট'। সেই বাড়িতেই কিশোরীটি রাত কাটায় বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে। তারপর উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার পর, যুবকটিকে নিয়ে বাড়ি ফেরে মেয়েটি। ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে যায়। তবে বিয়ের পর সারাজীবন একটি পুরুষ নিয়েই কাটাতে হয় কিশোরীকে।

মানগাইয়া দ্বীপ 

মানগাইয়া দ্বীপে তেরো বছরের ছেলের সঙ্গে বিবাহিত নারী দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি স্বাধীন দ্বীপমালা হল 'কুক আইল্যান্ড'। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়া থাকা পনেরোটি দ্বীপ নিয়ে তৈরি এই দ্বীপমালার দক্ষিণে আছে 'কুক' আইল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মানগাইয়া। এই দ্বীপে আছে আজব প্রথা। ছেলেদের বয়স তেরো বছর হলেই, গ্রাম থেকে দূরে থাকা একটি কুঁড়েতে তাদের চলে যেতে হয় বিবাহিতা নারীদের সঙ্গে। সেই কুঁড়ে ঘরে, দু'সপ্তাহ ধরে কিশোরটিকে বাধ্যতামূলকভাবে যৌনমিলন করতে হয় তার সঙ্গে থাকা মাতৃসমা বিবাহিতা নারীটির সঙ্গে। 

আরো পড়ুন: বাংলার ‘মোগলি’, যার কাহিনী কাঁদায় বিশ্ববাসীকে

অভিজ্ঞ বিবাহিতা নারীটি কিশোরকে শিখিয়ে দেন যৌনমিলনের হরেক পদ্ধতি ও আসন। যাতে বালকটি বিয়ের পর স্ত্রীকে বিছানায় খুশি করতে পারে। একবার যৌনমিলনেই কীভাবে যেকোনো নারীকে একাধিকবার চরম পুলক দেয়া যায়, তা হাতেকলমে কিশোরকে শিখিয়ে দেন নারীটি। দু'সপ্তাহে, দিন ও রাত মিলিয়ে অসংখ্যবার যৌনমিলনের নানা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে গ্রামে ফিরে আসে পরিপক্ক হয়ে ওঠা তেরো বছরের কিশোর।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে