রহস্যময় জমজদের জীবন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়

ঢাকা, রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৮ ১৪২৭,   ২৭ শা'বান ১৪৪২

রহস্যময় জমজদের জীবন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২২ ১৯ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:০৮ ১৯ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জমজ দুই বোন হঠাৎ করেই হারিয়ে যায়। এর বহুবছর পর তাদের আকস্মিকভাবে দেখাও হয়ে যায়। তাদের দেখা হওয়ার পর নিজেদের দেখে তো তারা অবাক! শুধু তারা দেখতেই একরকম তা কিন্তু নয়। 

তাদের চলন, কথা-বার্তা এমনকি তাদের অভ্যাসগুলোও এক। আরো অবাক করা বিষয় হলো, এই বোনেরা জানতে পারে তাদের স্বামী ও সন্তানের নাম পর্যন্তও একই। 

আরো পড়ুন: রহস্যময় জমজ, দূরে বাস করেও স্বামী-সন্তানের নাম একই

ভাবছেন কি? এটি কোনো সিনেমার গল্প। একদমই নয়, সত্যি এমন অনেক রহস্যময় জমজদের গল্প বাস্তবেই রয়েছে। প্রথম পর্বের পর আজ থাকছে রহস্যময় জমজদের কাহিনীর আজ থাকছে শেষ পর্ব- 

এলিজাবেথ হ্যামেল ও অ্যান হান্টএলিজাবেথ হ্যামেল ও অ্যান হান্ট

অনেক কাহিনী তো শুনলেন, যারা বহু বছর পর তাদের জমজ ভাই বোনদের দেখা পেয়েছেন। তবে এমন একটি জুটি রয়েছে, যারা একে অপরের সঙ্গে দেখা না করে প্রায় পুরো জীবনটাই কাটিয়ে দিয়েছেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে তাদের দেখা হয়েছে। এলিজাবেথ হ্যামেল এবং অ্যান হান্ট প্রথমবারের মতো ২০১৪ সালে ৮৭ বছর বয়সে সাক্ষাৎ করেছিলেন। 

আরো পড়ুন: রহস্যময় এই জমজদের কাহিনী হতবাক করবে আপনাকে

তারা গিনেস বুক অব রেকর্ডে দীর্ঘতম ব্যবধানের জন্য নিজেদের নামও লেখান। ২০১৩ সাল অবধি অ্যান হান্টের কোনো ধারণাই ছিল না, যে তার কোনো জমজ বোন আছে এই পৃথিবীতে। তবে তার মেয়ে হঠাৎ একদিন এক সংস্থা থেকে এলিজাবেথ হ্যামেলের কথা জানতে পারেন। এরপরই তাদের সঙ্গে দেখা হয় দীর্ঘদিন পর। 

দেখা হওয়ার পর তারা জানতে পারেন অন্যান্য জমজ সন্তানের মতো তাদের মধ্যেও সবকিছুর মিল রয়েছে। তারা দুইজনই বিয়ে করেছিল জীম নামের একজনের সঙ্গে। তারা দুইজনেই ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে বেশি পছন্দ করতেন। তাছাড়াও তাদের বাকি সবগুলোও একদম মিলে যাচ্ছিল। 

এলিজাবেথ হ্যামেল ও অ্যান হান্টঅ্যাডরিয়ানা স্কট ও তামারা রাবি 

এটিকে আপনি কোনো সিনেমার কাহিনী ও বলতে পারেন। এই জমজ দুই বোন জন্মের সময় আলাদা হয়ে যায়। এদের একে অপরের সম্পর্কের কোনো ধারণাই ছিল না, যে তাদের কোনো জমজ বোন থাকতে পারে। তবে তাদের কাকতালীয়ভাবে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। আর বেশ কিছুদিন পর তাদের দুইজনের সঙ্গে দুইজনের দেখাও হয়ে যায়।

আর তারা বুঝতে পারে, যে তারা জমজ। তখন তারা বেশ ভালো বন্ধু হয়ে যায়। অন্যান্য জমজদের মধ্যে যেমন মিল থাকে, তেমনি তাদেরও মিল আছে। তাদের দুইজনেরই নাচ পছন্দ। এমনকি তাদের দুইজনেই নাচে সমানভাবে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। তারা দুইজনেই নিউ ইয়র্কে বড় হন। তবে তারা এটি ভেবে অবাক হয়েছেন, যে এতদিন পর কেন তাদের দেখা হয়েছিল। একই শহরে বড় হওয়ার পরও।

অ্যাডরিয়ানা স্কট ও তামারা রাবিসিয়াম এবং ফ্যাবিন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের শুধু অপকার হয়, তা কিন্তু নয়। তাই তো ২১ বছর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিয়াম তার বোনকে খুঁজে পেল। ২০১৪ সালের সিয়ামের বন্ধুর বড় বোন ফেসবুকে একটি মেয়েকে দেখেন, যাকে দেখতে একদম সিয়াম মতো। যখন সে সিয়ামকে এই কথা বলেন, তখন তো সিয়াম ভাবে কেউ তার নামে ফেক অ্যাকাউন্ট খুলেছে।

পরে সিয়াম ফেক অ্যাকাউন্ট ভেবে তাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠান। যখন তার রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করেন, তখন তাদের আলাপ শুরু হয়। তখন তারা দেখেন তাদের শুধু চেহারায় নয় বরং তাদের পছন্দ-অপছন্দও মিলে যাচ্ছে। এমনকি তাদের ব্লাড গ্রুপ ও এক। 

জেনি লুকাস ও হেলেন এডওয়ার্ডসযখন তাদের দেখা হয়, তারা দু’জন দু’জনকে দেখে অবাক হয়ে যায়। ডিএনএ টেস্ট করানোর পর জানতে পারেন তার জমজ বোন। তারা একে অপরের সম্পর্কে এতদিন জানত না। কারণ চিকিৎসকরা বা তাদের পরিবার কখনো তাদের বলেনি, তাদের দত্তক নেয়া হয়েছে। 

জেনি লুকাস ও হেলেন এডওয়ার্ডস

জন্মের পরপরই তারা আলাদা হয়ে যায়। তবে জেনি লুকাস বড় হওয়ার পর তার জন্মদাতা বাবা মাকে খোঁজার চেষ্টা করে। তারপর ৫৫ বছর পর তাদের সন্ধান পায়। তখন তিনি জানতে পারেন তার জমজ এক বোন আছে। তাদের বয়স এখন প্রায় ৬৪ বছরের বেশি। জেনি লুকাস এবং হেলেন এডওয়ার্ডস চেহারায় যে মিল আছে তা কিন্তু নয়। তাদের সব অভ্যাসও একই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস