যেভাবে ভয়ংকর হয়ে উঠলেন এই দুর্ধর্ষ নারী অপরাধীরা

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৩ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

২য় পর্ব

যেভাবে ভয়ংকর হয়ে উঠলেন এই দুর্ধর্ষ নারী অপরাধীরা

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৪ ৪ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:০১ ৪ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নারীরা মমতাময়ী। নারীরা সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক। তবে সৌন্দর্য ব্যবহার করে যখন কেউ কুখ্যাত হয় তখন সে সৌন্দর্যের কদর আর কেউ করে না। কখনো বা অধিক সুন্দরী দেখেলেও ভীতু হয়ে যান সবাই। নারীর বিশেষণ হলো- মমতাময়ী, কমলতা, আবেগপ্রবণ ও শান্তির প্রতীক। 

আরো পড়ুন: সৌন্দর্য দিয়ে হিংস্রতা ঢেকে রাখেন এই ভয়ংকর নারী অপরাধীরা

তবে সব নারীই যে আদর্শের প্রতিরূপ হবেন তা কিন্তু নয়। এই পৃথিবীতে এমন অনেক নারী রয়েছে যাদের ভয়ংকর কর্মকাণ্ডের কথা জানলে আপনি আঁতকে উঠবেন। খুন, মাদক, চোরাচালান, ডাকাতি, ব্যাংক লুটসহ কোথায় জড়িত নেই এই তারা! দুনিয়া কাঁপানো এমনি কয়েকজন দুধর্ষ নারী মাফিয়াদের গল্প নিয়ে থাকছে সাতরঙের বিশেষ আয়োজন। আজকে পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব-

অ্যানা গ্রিস্টিনা

দেহব্যবসার জগতে নামজাদা এই নারী সম্পর্কে বিশ্বের অনেকেনই জানেন। দুনিয়া জুড়ে বিস্তুত ছিল তার সেক্স র্যাকেট। ২০১২ সালে মার্কিন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দুনিয়াজুড়ে খবরের শিরোনামে আসেন তিনি। অভিজাত সমাজে দেহব্যবসার সঙ্গে নাম জড়িয়েছিল তার। 

আরো পড়ুন: স্বামীর অজান্তে একই বাড়িতে প্রেমিককে লুকিয়ে রাখেন ১৭ বছর

অ্যানা গ্রিস্টিনাপ্লেবয় এবং পেন্টহাউস ম্যাগাজিনে কাজ করা মডেলরা অ্যানার হয়ে কাজ করত। ধরা পড়ার আগে প্রতি ক্লায়েন্টের কাছে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কামিয়েছিল অ্যানা। তার সঙ্গে বিশ্বের বড় বড় মাফিয়াচক্রের যোগাযোগ ছিল। 

গ্রেফতার হওয়ার সময় তিনি জানান, তিনি একটি অনলাইন ডেটিং সাইট চালান। তবে পরে অবশ্য আসল সত্য স্বীকার করে নেন অ্যানা। তাকে ছয় মাসের জেল ও পাঁচ বছর গৃহবন্দী হয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তবে শোনা যায় এই সময়ও নাকি তিনি কয়েক শো কোটি টাকা উপার্জন করেছেন।

আরো পড়ুন: নৃশংসভাবে বলি দেয়া হয় এই কুমারীকে, প্রকৃতিই তাকে করেছে মমি

রাফায়েল ডি’আলটেরিও

এক কথায় তিনি হলেন গডমাদার। ঘটনাক্রমে স্বামী নিকালো পায়ানস-এর কালো ব্যবসা চালিয়ে নিতেই তার এ জগতে আগমন। স্বামীকেও অতিক্রম করে ফেলেন ইতালিয়ান এ নারী। অবৈধ ব্যবসায় জড়িত ক্যামোরা পরিবারের হওয়ায় খুব সহজেই অন্ধকার জগতের রানিতে পরিণত হন র‌্যাফেলা। 

রাফায়েল ডি’আলটেরিও২০০৬ সালে স্বামী নিহত হলে অন্ধকার জগতের একচ্ছত্র অধিকারীনি হয়ে ওঠেন র‌্যাফেলা। খুন, মাদক পাচার, অবৈধ টাকাসহ আরও নানা অবৈধ কাজ অল্টারিওর নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে ওঠে। 

আরো পড়ুন: বাংলার বধূর সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠার পেছনে করুণ ইতিহাস

পুলিশের সঙ্গে বারবার বন্দুক যুদ্ধে বেঁচে ফেরেন তিনি। আর এ কারণেই মাফিয়া জগতে তার উপাধি হয়ে দাঁড়ায় দ্য বিগ কিটেন, মিকোনিয়া বা বড় বিড়ালছানা। পুলিশের খাতায় র‌্যাফেলা একজন মোস্ট ওয়ান্টেড লেডি গ্যাংস্টারে পরিণত হন। 

অত্যন্ত দুর্ধর্ষ এক নারী ছিলেন রাফায়েল ডি’আলটেরিও। তার সব অপকর্ম ছিল ধরা ছোঁয়ার বাইরে। গড়ে প্রতি বছর ২১৮ বিলিয়ন ডলার আয় করতেন। ২০১২ সালে পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালালে অল্টারিও ধরা পড়েন। সঙ্গে তার ৬৫ জন সহযোগীও ধরা পড়ে।

আরো পড়ুন: ভুতুড়ে জমিদার বাড়ির রহস্যময় এক দিঘী, প্রচণ্ড খরাতেও শুকায় না পানি!

তার কাছ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার জব্দ করা হয়। টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল থেকে শুরু করে সব সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তার ধরা পড়ার খবর। অবসান হয় র‌্যাফেলা গডমাদারের দৌরাত্ম্য।

জেমেকার থমসনজেমেকার থমসন

খুব খারাপ পরিবেশে বাস করতেন এইন নারী। তিার পরিবেশই তাকে অপরাধী তৈরি করে। বেঁচে থাকার জন্য তাকে অপরাধী হতেই হত। স্বামীর সঙ্গে কোকেনের ব্যবসা করতেন থমসন। ১৯৮০ সালে লস এঞ্জেলেসে এক নম্বর ড্রাগ ডিলার ছিল। 
একদিন গাড়ি ধোয়ার সময় থমসনের স্বামীকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এখনও মাদক বেঁচে কোটি কোটি টাকা আয় করছে জেমেকার। এরপর নতুন সহযোগীর সঙ্গে ব্যাবসা চালিয়ে যান। তবে সেই সহযোগী ধরা পরে ও জেরায় থমসনের নাম নেয়।

রোসেটা কুটোলো

১৯৩৭ সালে জন্ম নেয়া রোসেটা কুটোলোকে মাফিয়া সাম্রাজ্যের ‘সিস্টার অব রাফায়েল’ নামেও ডাকা হত। জীবনের শুরুতে এই ধূসর চুলের নারী খুবই ধার্মিক ছিলেন। মায়ের সঙ্গে একাকী ইতালির নেপলসের একটি গ্রামে বসবাস করতেন। গোলাপের চাষ করতেন।

রোসেটা কুটোলোইতালির কুখ্যাত মাফিয়া রাফায়েল কুটোলোর বোন তিনি। রোসেটা একটি দূর্গ কিনেছিলেন। তার ভাই মাদক সম্রাট রাফায়েল জীবনের অধিকাংশ সময় জেলেই বন্দি ছিলেন। সেসময় দৌড়াত্ম চালান রোসেটা। ভাইয়ের পরিবর্তে মাদক চোরাচালান ব্যবসার দায়িত্ব নেন এই নারী। জেল থেকে রাফায়েল যে নির্দেশ এবং পরামর্শ দিতেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন রোসেটা। 

রোসেটা কুটোলো একটি দুর্গ নির্মাণ করেন। সেখানেই আড়ালে চলত তার চোরাচালান ব্যবসা। ১৬ শতকে তৈরি এই দূর্গে ৩৬৫টা ঘর ছিল। ছিল টেনিস কোর্ট, সুইমিং পুল। পনের বছরের অধিক সময় ধরে গোলাপ চাষের আড়ালে ভাইয়ের মাদক সম্রাজ্যে ভাইয়েরই নির্দেশে নিভৃতে কাজ করে গেছেন এই নারী।

ভাইয়ের এই সংগঠনের দায়-দায়িত্ব নিষ্ঠাভরে পালন করার কারণে জেলে থেকেও রাফায়েল তার মাদক সাম্রাজ্যকে অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। পুলিশের সন্দেহ, রোসেটা সেসময় থেকেই এই সংগঠনকে শক্ত হাতে ধরতে না পারলে এই সংগঠন ভেঙ্গে পড়ত। সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে পুলিশের কাছে ধরা দেন রোসেটা কুটোলো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস