সৌন্দর্য দিয়ে হিংস্রতা ঢেকে রাখেন এই ভয়ংকর নারী অপরাধীরা 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১২ ১৪২৭,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

প্রথম পর্ব

সৌন্দর্য দিয়ে হিংস্রতা ঢেকে রাখেন এই ভয়ংকর নারী অপরাধীরা 

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:১৫ ৩ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১১:১৮ ৩ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: সান্ড্রা আভিলা বেলট্রান

ছবি: সান্ড্রা আভিলা বেলট্রান

নারীরা সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক। তবে সৌন্দর্য ব্যবহার করে যখন কেউ কুখ্যাত হয় তখন সে সৌন্দর্যের কদর আর কেউ করে না। কখনো বা অধিক সুন্দরী দেখেলেও ভীতু হয়ে যান সবাই। নারীর বিশেষণ হলো- মমতাময়ী, কমলতা, আবেগপ্রবণ ও শান্তির প্রতীক। 

আরো পড়ুন: নৃশংসভাবে বলি দেয়া হয় এই কুমারীকে, প্রকৃতিই তাকে করেছে মমি

তবে সব নারীই যে আদর্শের প্রতিরূপ হবেন তা কিন্তু নয়। এই পৃথিবীতে এমন অনেক নারী রয়েছে যাদের ভয়ংকর কর্মকাণ্ডের কথা জানলে আপনি আঁতকে উঠবেন। খুন, মাদক, চোরাচালান, ডাকাতি, ব্যাংক লুটসহ কোথায় জড়িত নেই এই তারা! দুনিয়া কাঁপানো এমনি কয়েকজন দুধর্ষ নারী মাফিয়াদের গল্প নিয়ে থাকছে সাতরঙের বিশেষ আয়োজন। আজকে পড়ুন প্রথম পর্ব-

সান্ড্রা আভিলা বেলট্রান

সান্ড্রা আভিলা বেলট্রানসান্ড্রা আভিলা বেলট্রানের জন্ম ১৯৬০ সালের ১১ অক্টোবর। তার চোখে মুখে সবসময় লেগে থাকত দুষ্টুমি। তার মুচকি হাসি দেখে সবাই তার প্রেমে পড়ে যেত। তবে কেউ জাপন না তার এই হাসির পেছনে লুকিয়ে রয়েছে হিংস্রতা। তাকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোতে গড়ে ওঠে এক বিশাল মাদক জগৎ। 

আরো পড়ুন: স্বামীর অজান্তে একই বাড়িতে প্রেমিককে লুকিয়ে রাখেন ১৭ বছর

দেশের সবচেয়ে বড় ড্রাগ ডিলার ও গ্যাংস্টার হয়ে ওঠে সান্ড্রা আভিলা বেলট্রান। এই ড্রাগ মাফিয়া কয়েক বিলিয়ন ডলারের মালিক। মাদক সাম্রাজ্যে তাকে ‘দ্য কুইন অব দ্য প্যাসিফিক’ নামে ডেকে থাকেন অনেকে। 

সান্ড্রা আভিলা বেলট্রানতার দু’চোখের দিকে তাকালেই পুরুষরা কাবু হয়ে যান। এমন জাদু মাখানো দু’চোখ যে খোদ পুলিশ কর্তারা পর্যন্ত তার প্রেমে হাবুডুবু খেতেন। মেক্সিকোর দুই পুলিশ কর্তাকে পকেটে পুরছিল সান্ড্রা। দুইবার দুই পুলিশকে বিয়ে করেছিল। 

আরো পড়ুন: ভোগবিলাসে মত্ত রানির কারণেই ফ্রান্স হয় ফকির, ঘটে ‘ফরাসি বিপ্লব’!

ড্রাগ ব্যবসার কাজে নামিয়েছিল দুই স্বামীকে। পরে সুযোগ বুঝে দু’জনকেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে সান্ড্রাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মাদক, বেআইনি অস্ত্র চোরাচালানসহ আরো কিছু অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। তবে পুলিশকে বেলট্রান জানিয়েছিল, কাপড় বেঁচে সংসার চালাতে হয় তাকে।

মেলিসা ক্যালডেরন  

মেলিসা ক্যালডেরন  মাফিয়া জগতের আরেক নাম কার্লা হোমোলকা। তিনি এতটাই কুখ্যাত যে তার নাম শুনলে যে কেউ ভয়ে দৌড়ে পালাতে বাধ্য। নৃশংস এই নারীর ভয়ংকর কর্মকাণ্ড জানলে আপনিও আঁতে উঠবেন। 

আরো পড়ুন: বাংলার বধূর সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠার পেছনে করুণ ইতিহাস

কাউকে অপহরণ করে বাড়িতে ফোন করে মুক্তিপণ চাওয়া, মুক্তিপণ না মিললে অপহৃতের বাড়ির সামনেই তার লাশ ফেলে আসাসহ এমন দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটানো মেলিসার বাম হাতের কাজ। সবসময় তার সঙ্গে থাকে দুটি মেশিনগান।

মেলিসা ক্যালডেরন  ১২ আগস্ট ১৯৮৪ সালে মেক্সিকোতে জন্ম নেন মেলিসা ক্যালডেরনের। তিনি একদমই কম বয়সে গড়ে তুলেন এক বিশাল মাদক সাম্রাজ্য। সেই সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র সম্রাজ্ঞী মেলিসা মারগারিতা ক্যালডেরন ওজেদা। মাদক সম্রাট পেড্রোর দ্বিতীয় সহকারী ছিলেন এই লাস্যময়ী।

মেলিসা মাফিয়া জগতে ‘লা চায়না’ নামে অধিক পরিচিত। যেকোনো জঙ্গি সংগঠন তাকে লুফে নিতে সর্বদা তৈরি। তবে ড্রাগ দুনিয়ার বাইরে তার আর কিছুতেই বিশ্বাস নেই। সান্ড্রা পরবর্তী মেক্সিকোর সবচেয়ে নৃশংস নারী গ্যাংস্টার মেলিসা। দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ানক নামগুলোর তালিকায় তার নাম এসেছে।

মেলিসা ক্যালডেরন  মেক্সিকো পুলিশের দেয়া তথ্যানুযায়ী, মেলিসার বায়োগ্রাফি বেশ আকর্ষণীয়। ২০০৫ সালে অসৎসঙ্গে পড়ে এই ব্যবসায় তার হাতেখড়ি হয়। আরেক মাদক সম্রাট এল চ্যাপো গুজম্যানের হাত ধরে তার উত্থান ঘটে। 

মাত্র তিন বছরের মাথায় ২০০৮ সালেই দিব্যি বনে যান মাফিয়া কুইন নামেই। মেজাজি মাথা ও সুন্দর চেহারার জন্য এ সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী হতে তার বিশেষ দেরি হয়নি।

পুলিশের আরেকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মেলিসা ক্যালডেরন কম করে হলেও ১০৫ জনকে গুলি করে খুন করেছে। ৩২ বছরের মেলিসার অধীনে ৩০০ জন কুখ্যাত খুনি ও গুণ্ডা অপরাধমূলক কাজ করে থাকে। আপাতত বন্দি মেলিসা। 

বনি পার্কার

বনি পার্কারবনি এলিজাবেথ পার্কারের জন্ম ১৯১০ সালের ১ অক্টোবর। তার স্বামী ছিলেন ক্লাইড চেস্টনাট ব্যারো। তারা দু’জনেই ছিলেন অপরাধ জগতের বাসিন্দা। একে অন্যের পরিপূরক হয়ে অন্ধকার জগতে পথ চলতেন তারা দু’জনে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, তারা মহামন্দার সময় যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটক বেশে ডাকাতি ও মানুষ হত্যা করেন। তাদের কীর্তিকলাপ ১৯৩১ এবং ১৯৩৫ সালের মধ্যে মার্কিন জনগণের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে। তারা এখনো তাদের ডজনখানেক ব্যাংক ডাকাতি এবং ছোট দোকান বা গ্রামীণ গ্যাস স্টেশন লুটের কারণে পরিচিত। 

বনি পার্কার তার স্বামীর কোলেপুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্থানীয়দের মতে, তাদের গ্যাংটি নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন পপ লোকসাহিত্যিক আর্থার পেন পরিচালিত ১৯৬৭ সালের বনি অ্যান্ড ক্লাইড চলচ্চিত্র মাধ্যমে তাদের অধ্যায় সম্পর্কে সবাই জানতে পারে। যেখানে ফায়ে ডুনাওয়ে এবং ওয়ারেন বিটি এই জুটিতে অভিনয় করেছিলেন।
 
মেরি অ্যান কটন

মেরি অ্যান কটননিজের মা এবং ১৩ সন্তানকে হত্যা করেন নিষ্ঠুর এই নারী। সারাটি জীবনই শুধু টাকার পিছনে ছুটেছেন। টাকা রোজগারের আশায় ও দ্রুত ধনী হতে গিয়ে নিজেহকে বিলিয়ে দিয়েছেন অসৎ কর্মকাণ্ডে। একের পর এক বিয়ে করেছেন। 

স্বামীদের ইনসুরেন্সের টাকা লোভে তাদেরকে সুকৌশলে করেছেন হত্যা। তিনি ইনসুরেন্সের পলিসির টাকা পাবার জন্য তার ৪ জন স্বামীর মধ্যে ৩ জনকেই হত্যা করেন। বাকি একজন ভাগ্যবান হওয়ায় বেঁচে যান এই ভয়ংকর নারীর হাত থেকে।

তার জীবনী নিয়ে হয়েছে সিনেমাএই নারী জন্ম হয় ৩১ শে অক্টোবর ১৮৩২ সালে। তিনি ছিলেন একজন বৃটিশ সিরিয়াল কিলার। যিনি তার সৎ ছেলে চার্লস এডওয়ার্ড কটনকে বিষক্রিয়ায় হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। অতঃপর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ২৪ শে মার্চ ১৮৭৩।

জানা যায়, তিনি শুধু স্বামী ও সৎ ছেলেকেই নয়, নিজের মাসহ ১৩ সন্তানকেও হত্যা করেছেন। তিনি আর্সেনিক বিষ প্রয়োগ করেই হত্যাকাণ্ড চালাতেন। এ কারণেই তাকে সহজে পুলিশরা ধরতে পারত না। সেই সুযোগে তিনি ঘটাতেন ভয়ংকর সব হত্যাকাণ্ড।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস