এই পরমাণু বিজ্ঞানীদের মৃত্যু রহস্য আজও অজানা

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৩ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

এই পরমাণু বিজ্ঞানীদের মৃত্যু রহস্য আজও অজানা

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:০৯ ২ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১১:৫৮ ২ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সবচেয়ে সিনিয়র পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফখরিযাদে শুক্রবার তেহরানের কাছে দামাভান্দ কাউন্টির আবসার্দ এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলেও, তিনি মারা যান।

সম্প্রতি ইরানের এই বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যু ঘিরে উত্তাল বিশ্ব। ইরানের বোমার জনক হিসেবে পরিচিত বিজ্ঞানী মোহসেন ফাকরিজাদের রহস্যমৃত্যুতে অভিযোগ উঠেছে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে। কূটনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে।
 
তবে পরমাণু বিজ্ঞানীর এভাবে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ভারতে রয়েছে এমন অনেক উদাহরণ। ভারত একটি পরমাণুশক্তি সম্পন্ন দেশ। বিশ্বের কয়েকটি পরমাণু ক্ষমতা সম্পন্ন দেশের মধ্যে অন্যতম। 

তবে এই বিশেষ আবিষ্কারের পিছেন যাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তাদের অনেকেরই জীবন যেন কোনো এক রহস্যজনক অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছে। 

দেশের এমন অনেক পরমাণু বিজ্ঞানীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, যাদের মৃত্যু রহস্য উদঘাটন হয় না। উদঘাটন করার চেষ্টাও খুব একটা হয় না। আত্মহত্যা বা অজ্ঞাত কারণ দেখিয়েই মামলার ইতি টানে পুলিশ।

এটা তো সত্যি যে বিশ্বের অনেক দেশের কাছেই ভারতের এই উন্নতি যথেষ্ট হিংসার কারণ। তাই ষড়যন্ত্রের প্রশ্নও কিন্তু একেবারে এড়িয়ে দেয়া যায় না। 

সম্প্রতি এক আরটিআই-এর ভিত্তিতে এমন কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে যা সত্যিই চিন্তার কারণ। বম্বে হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলাও হয়। তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টিম তৈরি করার আবেদন জানানো হয়।

হোমি জাহাঙ্গীরহোমি জাহাঙ্গীরের মৃত্যু

১৯৬৬ সালের ঘটনা। ভারতে পরমাণু বিজ্ঞানের জনক হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার মৃত্যু হয়। ভিয়েনা থেকে এবার ইন্ডিয়ার বিমানে আসছিলেন তিনি। জানা যায়, ওই বিমানের কোনও যান্ত্রিক গোলযোগের খবর ছিল না। 

এমনকি মাঝপথেও নিয়ম মেনে বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি নেই বলে রিপোর্ট করা হয়। আর তার ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যে ভেঙে পড়ে বিমানটি। হোমি ভাবা সহ মোট ১১০ জন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়। এই ঘটনা নিয়ে আর কোনও তদন্ত এগোয়নি ভারত সরকার।
 
লোকনাথন মহালিঙ্গমের মৃত্যু

২০০৯ সালে কায়গা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্রজেক্টের বৈজ্ঞানিক লোকনাথন মহালিঙ্গম সকালে হাঁটতে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি। পাঁচদিন পর প্রজেক্টের পাশের কালী নদী থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বয়স হয়েছির ৪৮ বছর।

উমং সিং ও পার্থ প্রতিম বাগ

ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে মৃত্যু হয় দুই তরুণ বিজ্ঞানীর উমং সিং ও পার্থ প্রতিম বাগ। রহস্যজনকভাবে মডিউলার ল্যাবে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় দু’জনের।

মহাদেবন পদ্মনাভন আইয়ার

২০১০ সালে দক্ষিণ মুম্বইয়ের বাড়িতে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তিনি ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের মেকানিকেল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। দেওয়ালে ও মেঝেতে ছিটেফোঁটা রক্তের দাগ ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি।

উমা রাওয়ে

২০১১ তে বিএআরসি বিজ্ঞানী উমা রাওয়ের মৃত্যু হয়। ঘুমের ওষুধ খেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেকে জোশ ও আবিশ শিবম

ভারতে ব্যালিস্টিক সাবমেরিন আইএনএস আরিহন্তের জন্য কাজ করছিলেন কেকে জোশ ও আবিশ শিবম। দু’জনের দেহ উদ্ধার হয় রেললাইনে। তাদের বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

মহম্মদ মুস্তাফা

কালাপক্কমের ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটমিক রিসার্চের ২৪ বছরের তরুণ তুর্কি মহম্মদ মুস্তাফার মৃতদেহ মেলে তারই বাসভবনে। তার হাতের কবজি কাটা অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ আত্মহত্যার তত্ত্ব খাড়া করলেও এই মৃত্যুর আসল কারণ আজও জানা যায়নি।

সবার মৃত্যুই রহস্য হয়ে রয়েছেতিতাস পাল

বার্কের ২৭ বছরের এই বৈজ্ঞানিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় মুম্বই থেকে। বার্ক ক্যাম্পাসের নীলগিরি বিল্ডিংয়ের ঘরে তাকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মেলে। বারবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে তার বাবা পুলিশে খবর দেন। অথচ সেই রহস্য আজও উদ্ধার হয়নি।

ডালিয়া নায়েক

সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের বর্ষীয়ান বৈজ্ঞানিক নাকি রাসায়নিক খেয়ে আত্মহত্যা করেন। অবসাদই কারণ বলে জানায় পুলিশ। অথচ তার বন্ধুরা জানান, ডালিয়া একজন হাসি-খুশি স্বভাবের মানুষ ছিলেন।

এছাড়াও বার্কের আরও পাঁচ পরমাণু বৈজ্ঞানিকের রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়। তারা হলেন, অবদীশ চন্দ্র(২০০০ সালে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার তত্ত্ব), আশুতোষ শর্মা ও সৌমিক চৌধুরি (২০১০-এ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার তত্ত্ব), অক্ষয় পি চবন (২০১০-এর এপ্রিলে বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার তত্ত্ব), সুভাষ সোনাওয়ানে। 

এছাড়াও বিভিন্ন গোপন সামরিক প্রজেক্টে যুক্ত থাকা বেশ কয়েকজন ভারতীয়র অস্বাভাবিক মৃত্যুর আসল কারণ এখনো জানা যায়নি। তাদের মধ্যে রয়েছেন তিরুমালা প্রসাদ তেনকা, বলদেব সিং(হ্যালের চিফ পাইলট)-সহ আরও বেশ কয়েকজন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস