এই গর্তের শেষ খুঁজে পাওয়া কঠিন, ঘটে ভুতুড়ে কাণ্ড

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৮ ১৪২৭,   ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শেষ পর্ব

এই গর্তের শেষ খুঁজে পাওয়া কঠিন, ঘটে ভুতুড়ে কাণ্ড

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৭ ১ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:৩১ ১ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: গুগল ম্যাপ থেকেও দেখা যায় গর্তটি

ছবি: গুগল ম্যাপ থেকেও দেখা যায় গর্তটি

মেল’স হোল নামক একটি গর্ত, যার কোনো শেষ নেই! এতে কোনো কিছু ফেললেও শব্দ হয় না। এমনকি গর্তের মুখে দাঁড়িয়ে জোরে শব্দ করলেও তা প্রতিফলিত হয় না। আজ সেই রহস্যময় গর্ত সম্পর্কে জানাব। ওয়াশিংটনের এলনসবার্গে এই গর্তটির অবস্থান। এটি তলাবিহীন গর্ত নামেও পরিচিত। 

আরো পড়ুন: রহস্যময় গর্ত, মৃত পশুকে ফেললেও হয়ে যায় জীবিত!

এই চ্যানেলে অনেক রহস্যপূর্ণ গল্প শোনানো হয়েছে। যা সেই সময় ছিল তুমুল জনপ্রিয়। এ রেডিও চ্যানেলে যেসব রহস্যপূর্ণ গল্প এ পর্যন্ত ব্রডকাস্ট করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি রহস্যপূর্ণ গল্প রয়েছে। যা সবাইকে অবাক করে দেয়। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে আপনারা নিশ্চয় জেনেছেন মেল ও তার প্রতিবেশীরা গভীর এই গর্তটি কেন অতিপ্রাকৃত বলে মনে করে। আজকে শেষ পর্বে থাকছে গর্ত সম্পর্কিত আরো রহস্যময় কিছু তথ্য-

গর্তটিমেল ওয়াটার হঠাৎ করে পাশের গ্রামে এরকম আরো একটি গর্ত দেখতে পান। একেবারে হুবহু আগের গর্তটির মতো আরেকটি গর্ত। গর্তটি দেখে মেল ওয়াটার প্রথমে যে কাজটি করেন, সেটি হলো গর্তের উপর থেকে উচ্চ স্বরে চিৎকার করেন। তিনি পরীক্ষা করার চেষ্টা করে, এই গর্ত থেকে কোনো প্রতিধ্বনি ফিরে আসে কিনা? 

আরো পড়ুন: রহস্যময় গর্ত, মৃত পশুকে ফেললেও হয়ে যায় জীবিত!

তবে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, এ গর্ত থেকে আগের গর্তটির মতো কোনো প্রতিধ্বনি ফিরে আসছে না। পরবর্তীতে মেল ওয়াটার সেই হোস্টের সঙ্গে মিলে রিসার্চ করতে শুরু করে দেয়। কেননা এই গর্ত সম্পর্কে এখনো তেমন কেউই জানে না। আর এখানে গভমেন্ট এখনো কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ করেনি। 

তারা সেই নতুন গর্তে নতুন করে রিসার্চ করতে শুরু করে দেয়। কেননা এখানে তারা যা খুশি তাই করতে পারবে। রিসার্চের ফলাফল দেখে তারা আবারো সেই আগের মতই অবাক হয়ে যায়। তারা প্রথমে একটি লম্বা দড়ির সঙ্গে একটি ছাগলকে বেঁধে সেই গর্তের মধ্যে নামিয়ে দেয়। 

নেই কোনো শেষকিছু সময় পরেই সে ছাগলটিকে তুলে নিয়ে আসে। তারা লক্ষ্য করেন, ছাগলটি ডাকাডাকি করছে এবং অদ্ভুত সব শব্দ করছে। কিছুদিন পরেই সে ছাগলটি মারা যায়। মারা যাওয়ার পর ছাগলটিকে তারা ভালো করে রিসার্চ করে যা দেখতে পারলো তা দেখার জন্য তারা কখনোই প্রস্তুত ছিল না। 

তারা দেখতে পেল যে, ছাগলের ভেতর থেকে মাংস রান্না করার মতো সিদ্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে উপরের অংশটি স্বাভাবিক ছাগলের মতোই রয়েছে। তারা অবাক হয়ে ভাবতে থাকে, এটা কীভাবে সম্ভব উপরের অংশ স্বাভাবিকই আছে, তবে ভেতরের সমস্ত অংশ সিদ্ধ হয়ে গিয়েছে। 

আরো পড়ুন: ২০০০ বছর ধরে পরিত্যক্ত এই নগরী

পরবর্তীতে তারা সেই ছাগলটিকে একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে ঢেকে রাখে। দুই মাস পরে সে জায়গায় গিয়ে তারা সেটাকে উন্মুক্ত করে যা দেখতে পায়, সেটা ছিল অবিশ্বাস্য। তারা দেখতে পায় ছাগলটির শরীরের ভেতরের একটি অংশ নড়াচড়া করছে। 

তারা যখন সেটিকে ভালো করে দেখার জন্য বের করে তখন তারা সেখানে দুইটি অদ্ভুত ক্রিয়েচার দেখতে পায়। দুইটি এমন এলিয়েন ক্রিয়েচার যা আপনারা মেন ইন ব্ল্যাক মুভিতে দেখেছেন। সে দুইটি ক্রিয়েচার শুধু ওই দুইটি লোককে একভাবে চুপচাপ দেখছিল। তাদের কিছুই করছিল না।

মেল ওয়াটারতারপর তারা ভয় পেয়ে ক্রিয়েচার দুইটিকে লাথি মেরে গর্তের মধ্যে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে তারা দুইজন আশেপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, গর্তের পাশে সেই এলিয়েন বাচ্চাটিকে প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায়। তারা অনুমান করে যে, সেই বাচ্চাটি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। 

এই ঘটনার পর তারা আরও একটি পরীক্ষা চালায়। তারা এক বালতি পানি দড়ি দিয়ে বেঁধে সে গর্তের মধ্যে নামিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পরে তারা বালতিটি উপরে তুলে আনে। এবারো তারা যা দেখতে পেল, তা দেখার জন্য তারা কখনোই প্রস্তুত ছিল না। বালতির পানিগুলো বরফের টুকরায় পরিণত হয়ে গিয়েছে। 

আর অবাক করা কথা হলো তারা যখন বরফের টুকরোগুলোকে স্পর্শ করলো তারা অতিরিক্ত গরম অনুভব করলো। যা মোটেই কাম্য ছিল না। আপনারা একবার কল্পনা করে দেখুন তো, কীভাবে একটি বরফ এতটা গরম হতে পারে? হ্যাঁ, এমন ঘটনাই ঘটেছিল তাদের সঙ্গে। 

তারা অবাক হয়ে ভাবতে থাকে যে, কীভাবে একটি ছাগলের উপরের অংশটি ঠিক থেকে ভেতর থেকে সিদ্ধ হয়ে গেল? আবার এক বালতি পানি কীভাবে বরফে পরিণত হলো তাও আবার উত্তপ্ত? কী হচ্ছে এগুলো? গর্তের আশেপাশের বাসিন্দারা আরো জানায় যে, কোনো কোনো সময় রাতে গর্তের মধ্যে থেকে নীল রঙের আলো দেখতে পাওয়া যায়।

গভীর এক গর্তসেই আলো কোনো একটা তারার দিকে ফোকাস করে জ্বলতে থাকে। আর তারা এটা ভাবতে থাকে, সেই তারাটির সঙ্গে এলিয়েনের কী কোনো কানেকশন রয়েছে? এটা কী ওয়ার্ল্ড হোল? নাকি রহস্যপূর্ণ কোনো মিস্টেরিয়াস ব্ল্যাক হোল? পরবর্তীতে সেই গর্ত দুইটিকে সরকার ও সিক্রেট এজেন্সি লুকিয়ে রেখেছে। 

এখন এগুলোকে গুগল ম্যাপেও দেখতে পাওয়া যায় না। এই ঘটনাগুলোর পড়ে গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন, এই দুইটি রহস্যপূর্ণ গভীর গর্তের মতো আরও অনেক রহস্যপূর্ণ গর্ত রয়েছে আমাদের এই পৃথিবীতে। আর এসব গর্তের ফোকাস রয়েছে তারা বা নক্ষত্রের দিকে। 

তারপর থেকে মেল ওয়াটারকে সেই গর্তের আশেপাশে আর কখনোই দেখা যায়ুন। এমনকি সেই রেডিও শোয়ের হোস্টও মেল ওয়াটারের সম্পর্কে পরবর্তীতে আর কোনো কিছুই জানাননি। এই রহস্যপূর্ণ গর্তের উপর বিশ্লেষণ করে জানতে পারে, এই গর্ত প্রাচীনকাল থেকেই ছিল। হয়তো বা সেগুলোকে এলিয়েনরাই তৈরি করেছিল। অথবা হয়তো বা এটাই ছিল প্রাচীন এলিয়েনদের গবেষণার ফলাফল।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস