বিশ্বসেরা এই শাসকদের সমাধিক্ষেত্র আজো রহস্যের আড়ালে

ঢাকা, সোমবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১১ ১৪২৭,   ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিশ্বসেরা এই শাসকদের সমাধিক্ষেত্র আজো রহস্যের আড়ালে

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১২ ২৮ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:২৬ ২৮ নভেম্বর ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

বিশ্বসেরা রাজা রানি কিংবা এক কথায় বলা যায় শাসকদের নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। তাদের জীবনটাই ছিল অনেকটা এমন। যেমন ধরুন চেঙ্গিস খান কিংবা রানি ক্লিওপেট্রা। হাজার হাজার বছর আগে তারা পৃথিবী শাসন করেছেন। তবে তাদের ব্যাপারে জানার আগ্রহ এখনো মানুষের মেটেনি। বেঁচে থাকতে যতখানি কৌতূহল সৃষ্টি করেছিলেন মরে যাওয়ার হাজার বছর পরও তা বিরাজমান।

বিখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধিক্ষেত্রে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ভীড় জমায়। বিখ্যাত সব রাজা-রানি, কবি ও বিজ্ঞানীদের সমাধিক্ষেত্র ইংল্যান্ডের ওয়য়েস্টমিনিস্টার অ্যাবেতে প্রতি বছর লাখ লাখ দর্শনার্থী আসেন। রক কিংবদন্তি এলভিস প্রেসলি তার বাসভবন গ্রেসল্যান্ডে সমাহিত আছেন, প্রতিবছরে গ্রেসল্যান্ডে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ আসেন। তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে স্ট্যাচু কিংবা জাদুঘরে রাখা আছে তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। 

তবে বিশ্বখ্যাত অনেক শাসনকর্তাদের সমাধিই খুঁজে পাওয়া যায়নি। মারা যাওয়ার পর কোথায় তাদের সমাধি দেয়া হয়েছিল এখনো তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। চলুন এমনই কিছু শাসকের কথাই জানবো আজ-  

চেঙ্গিস খান

চেঙ্গিস খানচেঙ্গিস খানের নাম শোনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না বললেই চলে। অনেকে অবশ্য তাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লুটেরা বলেও অভিহিত করেন। পুরো পৃথিবীর কাছে তিনি একজন নিষ্ঠুর মানব। তার জন্মস্থান মঙ্গোলিয়ায়। চেঙ্গিস খানের জীবন যেমন কালে কালে মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে, তেমনই তার মৃত্যুর ঘটনা ইতিহাসকে করেছে বিস্মিত।

চেঙ্গিস খান ১২২৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য আজও মেলেনি। কারো কারো মতে, তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। আবার কারো মতে, এক রাজকন্যার দ্বারা খোজাকরণ হওয়ায় তার মৃত্যু হয়। 

তবে সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য সূত্র অনুসারে, পশ্চিম জিয়া সাম্রাজ্যে আক্রমণ চালানোর সময় ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছিল। আর মৃত্যুর পর তাকে মঙ্গোলিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানেই কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

আরো পড়ুন: ছেলে হয়েও পিরিয়ড হয়, মানসিক যন্ত্রণায় কাবু তারা

যুগ যুগ ধরে মানুষ এই মঙ্গোলীয় সম্রাটের সমাধিক্ষেত্র খুঁজে বেড়িয়েছে। কেউ কেউ নিজের সমগ্র জীবন অতিবাহিত করেছে এই সমাধি খোঁজার পিছনে। আর কেউবা এখনো খুঁজে চলেছে ইতিহাসের পাতায়। কিন্তু ইতিহাস কি আর এই রহস্যের সমাধান দিতে পারে!

আতিলা দ্য হান

আতিলা দ্য হানআতিলা ছিলেন হুন জাতির একজন শাসক। যিনি ৪৩৪ খ্রিষ্টাব্দ হতে ৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দে তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সিংহাসনে আসীন ছিলেন। এই সাহসী দুর্ধর্ষ যোদ্ধার শাসনামলে হুনিক সাম্রাজ উরাল নদী হতে রাইন নদী এবং দানিউব নদী হতে বাল্টিক সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

তিনি ছিলেন পশ্চিম ও পূর্ব রোমান সাম্রাজের অন্যতম ভীতির কারণ। তিনি দানিউব নদী দুইবার পার হন এবং বলকান অঞ্চল লুট করেন। তবে কন্সট্যান্টিনোপল দখল করতে ব্যর্থ হন। 

আরো পড়ুন: ২০০০ বছর ধরে পরিত্যক্ত এই নগরী 

আতিলা রোমান গল (আধুনিক ফ্রান্স) জয় করারও চেষ্টা চালান। তিনি ৪৫১ সালে রাইন নদী পার হয়ে অরেলিয়ানাম (অরলিন্স) শহর পর্যন্ত মার্চ করে যান। এখানে কাতালোনিয়ান প্লেইন্স এর যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন।

এর কিছুদিন পরই তিনি ইতালি আক্রমণ করেন এবং উত্তর প্রদেশসমূহে ধ্বংসযজ্ঞ চালান। তবে রোম দখল করতে অসমর্থ হন। রোমানদের বিরুদ্ধে তার আরো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে তার আগেই ৪৫৩ সালে আতিলা মৃত্যুবরণ করেন। আজো তার সমাধি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মৃত্যু নিয়েও রয়েছে রহস্য। স্ত্রীর হাতে খুন হয়েছিলেন নাকি এমনিতেই মারা গিয়েছিলেন তা এখনো ধোঁয়াশা। 

রানি ক্লিওপেট্রা

রানি ক্লিওপেট্রাপৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নারীর কথা আসলেই শুরুতে আসে ক্লিওপেট্রার নাম। প্রাচীন মিশরের শেষ ফারাও ছিলেন রানি ক্লিওপেট্রা। তার রাজ্যকে রোমানদের থেকে মুক্ত রাখতে যুদ্ধ করে গেছেন তিনি। সেইসঙ্গে অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলেন এই নারী। তার রুপে মুগ্ধ হয়েছেন অনেক দেশের রাজারা। তবে ছোটবেলাই বিয়ে হয় তার ভাইয়ের সঙ্গে। সে রাজ্যের জন্য। তবে জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পর তিনি মার্ক অ্যান্টনির সঙ্গে জোট বাঁধেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের রাজ্যের সার্বভৌমত্ত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হন। পরাজয়ের পর মার্ক অ্যান্টনিও আত্মহত্যা করেন। এর কিছুদিন পর ক্লিওপেট্রাও আত্মহত্যা করেন। 

আরো পড়ুন: সত্যিই কি সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় রানি ক্লিওপেট্রার?

তবে অনেকের মতে তিনি আত্মহত্যা করেননি, তাকে হত্যা করা হয়েছিল। রোমান রাজার পাঠানো ফলের ঝুড়ির মধ্যে লুকানো সাপের কামড়েই রানির মৃত্যু হয়েছে। ৩৯ বছরের জীবন যতটা নাটকীয় ছিল তার থেকে বেশি আলোচনা জন্ম দেয় তার মৃত্যু রহস্য। 

তার মৃত্যুর পর তাকে অ্যান্টনিওর আশেই সমাহিত করার নির্দেশ দেয়া হয়। ক্লিওপেট্রাকেও আলেকজান্দ্রিয়ায় সমাহিত করা হয়। তবে আলেকজান্দ্রিয়ায় আঘাত হানা ভয়াবহ সুনামি, ভূমিকম্প এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে তার সমাধিক্ষেত্রও হারিয়ে গেছে পানির অতল গহ্বরে। আলেকজান্দ্রিয়ার ৩০ মাইল উত্তরে তাপোসিরিস মাগনা গ্রামে ক্লিওপেট্রার সমাধি খুঁজে পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন একদল প্রত্নতাত্ত্বিক। তবে এখনো এই দাবীর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।

বিদ্রোহী রানি বৌডিকা

বিদ্রোহী রানি বৌডিকা৪৩ খ্রিস্টাব্দে রোমানরা ইংল্যান্ড দখল করে নেয়, তবে তারা ইচানি সম্প্রদায়ের রাজা প্রাসুটাগাসকে নিজ সম্প্রদায় শাসনের অনুমতি দেন। ৬০ খ্রিস্টাব্দে রাজা প্রাসুটাগাসের মৃত্যুর পরই রোমানরা ইচানি সম্প্রদায়ের ভূমি দখল করে নেয়, রানি বৌডিকাকে বন্দী করে। তার দুই মেয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়। রানি বৌডিকা তখন ইচানি ও অন্যান্য সম্প্রদায়কে সংঘবদ্ধ করে ইংল্যান্ডে রোমানদের রাজ্যগুলোতে আক্রমণ শুরু করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৬১ খ্রিস্টাব্দে রানি বৌডিকার বাহিনী পরাজিত হয়। রোমান ইতিহাসবিদ ট্যাসিটাসের মতে বৌডিকা পরাজিত হওয়ার পর বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। আরেকজন রোমান ইতিহাসবিদ ক্যাসিও ডিও'র মতে বৌডিকা যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হয়ে মারা যান। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে/জেএমএস