বিশ্বের আশ্চর্য এক স্থান তুরস্কের তুলার প্রাসাদ

ঢাকা, সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৭,   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

বিশ্বের আশ্চর্য এক স্থান তুরস্কের তুলার প্রাসাদ

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৪ ২৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৪:১৬ ২৮ অক্টোবর ২০২০

ছবি: তুরস্কের পামুক্কাল

ছবি: তুরস্কের পামুক্কাল

বিশ্বে যতগুলো মুসলিম দেশ আছে তাদের মধ্যে অন্যতম তুরস্ক। একসময় তুরস্ক পুরো পৃথিবীকে শাসন করত। সবচেয়ে ঝকঝকে আকাশ নাকি দেখা যায় তুরস্কে। এই দেশের গৌরবজ্জল সব ইতিহাস। সে আপনি তুরস্কের অন্যতম শাসনকর্তা সুলতান সুলেমানের বীরত্বগাঁথার কাহিনী বলুন আর তাদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের কথাই বলুন।

আয়া সোফিয়া, আঙ্কারা, মারডিন কিংবা সুলতান সুলেমান মসজিদের মতো দর্শনীয় জিনিসগুলো এই তুরস্কেই অবস্থিত। এছাড়াও নানা কারণে তুরস্ক সারাবিশ্বে বেশ পরিচিত। আজকের লেখায় থাকছে সেই তুরস্কেরই আরেক বিস্ময়কর জায়গার কথা। এটিকে বলা হয় তুলার প্রাসাদ। এর আগে আপনাদের জানিয়েছিলাম ক্যাপাডোসিয়ার কথা।

 তুরস্কের তুলার প্রাসাদ কেন্দ্রীয় আনাতোলিয়ায় অবস্থিত ক্যাপাডোসিয়া সুপরিচিত হয়েছে এর অস্বাভাবিক আকৃতির পাহাড়ের সমন্বয়ে গঠিত রূপকথার রাজ্যের মত সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য। প্রাচীন আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত বেয়ে পড়া ও প্রাকৃতিক ভূমি ক্ষয় থেকে কালে কালে এই অঞ্চলের পাহাড় গুলো এমন উদ্ভট আকৃতি ধারণ করেছে। এর পরে হাজার বছর আগে মানুষ এই পাহাড় গুলোর বুকে খুড়ে খুড়ে বসত বাড়ি, মন্দির ও ভূগর্ভস্থ শহর তৈরি করে।

এবার চলুন জেনে নেয়া যাক তুলার প্রাসাদ সম্পর্কে-  

পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে এখানেএকে কিন্তু অনেকে চেনেন গরম পানির ঝর্ণা হিসেবে। পৃথিবীর একমাত্র স্থান এটি। যেখানে প্রাকৃতিকভাবেই ঝর্ণার পানি গরম। তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমের রাজ্য দেনিজলি। এই দেনিজলি রাজ্যেই দেশটির সবচেয়ে বড় পর্যটন আকর্ষণ পামুক্কালের অবস্থান। তুর্কি শব্দ পামুক্কালের অর্থ কটন ক্যাসল বা তুলার প্রাসাদ। কারণ এটিকে দেখলে তেমনটাই মনে হয়। যেন তুলা দিয়ে বানানো এক বিশাল প্রাসাদ।

আরো পড়ুন: ৫ হাজার মিলিয়ন বছরেও এই গুহার গোলোক ধাঁধাঁর উত্তর মেলেনি  

আবার জায়গাটিতে গেলে আপনি হঠাৎ ভাবতে পারেন, বরফরাজ্যে চলে এসেছেন। কিন্তু পামুক্কালের সঙ্গে তুলা কিংবা বরফ কোনোটিরই সম্পর্ক নেই। তুরস্কের মেন্দেরেস নদী গিয়ে মিশেছে আজিয়ান সাগরে। সেই নদীর উপত্যকায় অবস্থিত এই পামুক্কালে। সেখানকার আবহাওয়াও নাতিশীতোষ্ণ। এই উপত্যকার সবুজ প্রান্তরের মাঝেই আচমকা দাঁড়িয়ে আছে এই তুষার-শুভ্র পামুক্কালে।

প্রাকৃতিকভাবেই এই ঝর্ণার পানি গরম অবশ্য কেবল এই তুষার-শুভ্র সৌন্দর্যই পর্যটকদের আকর্ষণ করার একমাত্র কারণ নয়। বরং যে কারণে চারপাশে সবুজের মাঝেও জায়গাটি সারা বছর এমন ধবধবে সাদা হয়ে থাকে, সেটিই পর্যটকদের আকর্ষণ করার কারণ তা হলো খনিজ লবণ। পামুক্কালের পাহাড়ি উপত্যকাটি খনিজ লবণে সমৃদ্ধ। এই লবণগুলোই জমাট বেঁধে চুনাপাথরের এই তুলার প্রাসাদ গড়ে উঠেছে। আর সেই প্রাসাদজুড়ে আছে অনেক গরম পানির ঝরনা। সেসব ঝরনার পানি জমে জমে এই পাহাড়ি উপত্যকায় কতগুলো পুকুরের সৃষ্টি হয়েছে। 

স্বাভাবিকভাবেই সেই পুকুরগুলোও খনিজ লবণে ভর্তি। আর সে কারণে এখানকার পানিও বেশ উষ্ণ, আরামদায়ক। শুধু যে পুকুরগুলোতে গোসলই করা যায় তা-ই নয়। ওই সাদা লবণগুলো গায়ে মেখে ভূতও সাজা যায়। প্রচুর খনিজ লবণের কারণে জায়গাটি কেবল সুন্দর আর দর্শনীয়ই নয়, বেশ স্বাস্থ্যকরও।

এয়ার বেলুন করে ঘুরে দেখতে পারবেন এই এলাকা তবে পর্যটকদের জন্য পামুক্কালেতে আকর্ষণ আছে আরো। গ্রিক-রোমানদের আস্ত একটা প্রাচীন শহর হিয়েরাপোলিস। পামুক্কালের এই তুলার প্রাসাদের কাছেই সেই শহরের অবস্থান। শহরটিও খুব যত্ন করে সংরক্ষণ করা আছে। একদম আগের মতো করে রাখা আছে সারি সারি রাস্তা, মন্দির, গোসলখানা, গোরস্তান সব। 

আরো পড়ুন: ‘৩৬৫ দিনে এক বছর’ আবিষ্কার করেন এই মুসলিম বিজ্ঞানী 

তবে হিয়েরাপোলিসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অ্যাম্ফিথিয়েটার। প্রাচীন গ্রিক-রোমান আমলের স্থাপত্যকর্মের এক অনন্য নিদর্শন এটি। হিয়েরাপোলিসের এই অ্যাম্ফিথিয়েটারটি নিতান্ত ছোটও ছিল না। একসঙ্গে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসার বন্দোবস্ত আছে। সব মিলিয়ে মনে হয়, সেই প্রাচীন আমলেই পামুক্কালে ঘিরে একটি নগর গড়ে উঠেছিল।

প্রাকৃতিক স্পা করে নিতে পারবেন এই ঝর্ণাতে  সেখানে গ্রিক আর রোমানরা দলে দলে হাওয়া বদল করতে আসত। হিয়েরাপোলিসকে তাই অনেকে প্রাচীন স্পা নগরীও বলে। এই হিয়েরাপোলিসকে কেন্দ্র করে একটা আস্ত জাদুঘরই গড়ে তোলা হয়েছে হিয়েরাপোলিস আর্কিওলজি মিউজিয়াম।

সব মিলিয়ে পামুক্কালে ঘোরাঘুরির জন্য দুর্দান্ত এক জায়গা। সেখানে গেলে যেমন প্রাকৃতিক বিস্ময়ের সাক্ষাৎ মেলে, তেমনি উপভোগ করা যায় মানব-সৃষ্ট প্রাচীন বিস্ময়ও। আর তাই জায়গাটিকে ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করেছে। সে ঘোষণার পর তুরস্ক সরকারও একে সংরক্ষণের জন্য নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে।

তুরস্কের কাপাডোশিয়া  সেখান থেকে সব ধরনের হোটেল সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এমনকি পামুক্কালের পুকুরগুলোতে জুতা পরে নেমে পড়া যায় না আর। এসব কারণে দিন দিন পামুক্কালের সৌন্দর্য যেমন খোলতাই হচ্ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়ও।

চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন হেরিটেজ এই সাইডটি। কিছু দিনের ছুটি নিয়ে সঙ্গীকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন না। ঝর্ণার লবণ গায়ে মেখে গরম পানিতে গোসল। প্রাকৃতিক এই স্পা আপনার সারা বছরের ব্যস্ত জীবনের কাজের চাপ ভুলিয়ে দেবে। নতুন উদ্যোমে আবার কাজ শুরু করতে পারবেন আগামী দিনগুলোর জন্য।    

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে