পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক এসব স্থানে গেলেই জীবন মৃত্যুর ঝুঁকি

ঢাকা, শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক এসব স্থানে গেলেই জীবন মৃত্যুর ঝুঁকি

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪০ ২৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১২:১৪ ২৭ অক্টোবর ২০২০

ছবি: শ্যাম্পেন লেক

ছবি: শ্যাম্পেন লেক

পৃথিবীতে এমন অনেক স্থান রয়েছে যেসব স্থানে যাওয়াটাই প্রাণনাশের কারণ হতে পারে। জায়গাগুলো এতটাই ভয়ংকর যে বলে বোঝানো যাবে না! আজ তেমনই পৃথিবীর ভয়ংকর কিছু স্থান সম্পর্কে জানবো-

কিলার লেক 

পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অসাধারণ সব হ্রদ বা জলাশয় রয়েছে। অনেকেই অবকাশ যাপনের জন্য বেছে নেন হ্রদবেষ্টিত কোনো স্থানকে। 

তবে ক্যামেরুনে রয়েছে এমন একটি হ্রদ যাতে অবকাশ যাপন তো দূরের কথা এর ২৩ মাইলের মধ্যে গেলেই মারা যেতে পারেন। স্থানীয়ভাবে এই হ্রদটিকে বলা হয় কিলার লেক মানে খুনি হ্রদ। 

তবে এর আসল নাম নয়োজ। ১৯৮৬ সালে এই হ্রদ থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর বুদবুদ বের হওয়া শুরু করে। এই কার্বন-ডাই-অক্সাইড সালফার ও হাইড্রোজেনের সঙ্গে মিশে বায়ুমন্ডলে চলে যায়। 

কিলার লেকসেসময় এই গ্যাসের প্রভাবে অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় ১৭০০ মানুষ ও ৩৫০০ গবাদিপশু মারা যায়। যারা বেঁচে ছিল তাদেরকেও দীর্ঘমেয়াদি কষ্টকর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া যেমন ক্ষত, টিস্যু পোড়া এবং শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা প্রভৃতিতে ভুগতে হয়েছিল। 

এরপর থেকেই এই হ্রদটির নাম হয়ে যায় খুনি হ্রদ। এরকমটি হওয়ার কারণ হলো, এটি একটি মৃত আগ্নেয়গিরি জ্বালামুখের পাশে অবস্থিত। 

এর উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও এটি লাভায় পরিপূর্ণ এবং এর মধ্য থেকেই কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়। পর্বতের এই অংশটি ওক পর্বতমালার অন্তর্গত যা ক্যামেরুনের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত।

শ্যাম্পেন লেক

নাম শুনে মনে করতে পারেন এই লেকে বোধ হয় পানি থেকেই শ্যাম্পেন হয়। আসলে তা নয়। এই লেকের পানি থেকে কার্বন-ডাই-অ্ক্সাইডের বুদবুদ বের হওয়ার ধরন অনেকটা শ্যাম্পেনের বুদবুদের মতো।

নিউজিল্যান্ডের উয়া-ও-তাপু’তে অবস্থিত এই লেকটি। এই স্থানটি আবার রুটুরুয়াতে অবস্থিত। মাউরি ভাষা থেকে অনুবাদ করলে জানা যায় ওয়া-ও-তাপু এর অর্থ হচ্ছে পবিত্র পানি অথবা রঙিন পানি। 

শ্যাম্পেন লেকআর রুটুরুয়া শব্দের অর্থ হচ্ছে কাহুমাতামমিও, যে ছিল লর্ড মারিওর চাচা যিনি এই অঞ্চলটি আবিষ্কার করেছেন। পুরো রুটুরুরা অঞ্চলটিই তীব্রভাবে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, পানি, বাষ্প ও আরো বহু অদ্ভুত প্রাকৃতিক বৈশিষ্ঠ্যে গঠিত ও পরিপূর্ণ।

বিয়ার লেক আরোরা

শ্যাম্পেনের পরই আসছে বিয়ার লেক অরোরা। এই লেকটি আলাস্কায় অবস্থিত। আর আরোরা বলতে বুঝায় বিয়ার লেক এর আকাশের মনরোম রঙ্গিন আলোর খেলা। 

এটাকে উত্তরের আলো বলা হয়। বিয়ার লেক আরোরা প্রকৃতির এক আশ্চর্য সৃষ্টি। আকাশের এই রঙ্গিন খেলাকে নিয়ে রয়েছে অনেক লোককথা। এর ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। 

প্রাচীন লোককথা থেকে জানা যায়, এই আনিন্দ্য সুন্দর আলোর ঝলকানি সৃষ্টি করেছিলো রোমাঞ্চ সূর্যদয়ের দেবতা আরোরা। 

বিয়ার লেক আরোরাতবে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করে যে, সুর্যবায়ুর সঙ্গে যখন পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সংঘর্ষ ঘটে তখনি এই রহস্যময় আলোর উৎপত্তি হয়।

নরকের দরজা

ভয়ংকর এই স্থানটি তুর্কমেনিস্তানের কারা-কুর মরুভূমির দারভাযা গ্রামের পাশে অবস্থিত। ১৯৭১ সালের তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি কোম্পানি গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য খনন কাজ চালায়। 

তখনই ঘটে এক বিশাল বিস্ফোরণ। বন্ধ হয়ে যায় গ্যাসক্ষেত্রটি। মারা যায় অনেক লোক। আর সৃষ্টি হয় বিশাল আগুনে ভরা বড় বড় গর্ত। 

আর এই বিশাল গর্ত থেকে ক্রমাগত নির্গত হচ্ছে মিথেন গ্যাস আর তার থেকে আগুন। এই আগুনের তাপ এত বেশি যে তার পাশে দুই মিনিটের বেশি দাঁড়ানো সম্ভব নয় কিছুতেই। আর এরপর থেকেই স্থানটির নাম ‘নরকের দরজা’।

নরকের দরজারেসট্রাক প্লায়া

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মৃত্যু উপত্যকায় অবস্থিত এই স্থানটি আমেরিকানদের কাছেই এক রহস্য। এই স্থানটির সবচেয়ে রহস্যময় বিষয় হলো এর বুকে ভেসে বেড়ানো পাথরগুলো। 

কীভাবে এই পাথরগুলো ভেসে ভেসে এসেছে তার কোনো কুলকিনারা কেউ করতে পারেনি। এই ভেসে বেড়ানোর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে বায়ু প্রবাহ। 

শীতকালে যখন এই মরুভুমিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় তখন রেসট্রেক প্লেয়া প্রচুর পিচ্ছিল হয়ে যায়। তখন প্রবল বায়ু প্রবাহের ফলে পাথরগুলো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করে।

রেসট্রাক প্লায়াওয়াদী জ্বীন

২০০৯-২০১০ সালের দিকে সৌদি সরকার এই ওয়াদি জ্বীন নামক স্থান দিয়ে একটি রোড বানানোর পরিকল্পনা করে। তবে রাস্তা তৈরির কাজ ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত করার পর সমস্যা শুরু হয়। 

হঠাৎ দেখা যায়, কাজ করার যন্ত্রপাতি আস্তে আস্তে মদিনা শহরের দিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে। যেন কেউ যন্ত্রপাতিগুলো মদিনার দিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে। 

তবে কে পাঠাচ্ছে কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। পিচ ঢালাই করার জন্য বড় বড় রোলার গাড়িগুলো বন্ধ থাকলেও আস্তে আস্তে উপর দিকে উঠতে থাকে এবং মদিনা শহরের দিকে নিজে নিজে চলতে শুরু করেছে। 

ওয়াদী জ্বীনশোনা যায়, এমন কি পেপসির বোতলসহ পানির বোতল এবং যে পানি রাস্তা ফেলা হয় সেগুলোও নিচের দিকে না গিয়ে উপরে মদিনার দিকে যাওয়া শুরু করে। এই সব দেখে কর্মরত শ্রমিকরা ভয় পেয়ে যায়। তারা কাজ করতে অস্বীকার করে। 

রাস্তাটির কাজ যেখানে বন্ধ করা হয় সেখানে চারিদিকে বিশাল বিশাল কালো কালো পাহাড়। ওখানেই শেষ মাথায় গোল চক্করের মতো করে আবার সেই রাস্তা দিয়েই মদিনা শহরে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

সৌদি নাগরিকরা সহজে কেউ এই স্থানটিতে যেতে চায় না। ওয়াদি জ্বীন জায়গাটির অবস্থান মদিনার আল বায়দা উপত্যকায়। উপত্যকাটি মসজিদে নববীর উত্তর পশ্চিম দিকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

শ্বেত মরুভূমি

শ্বেত মরুভূমিমিশরের ফারাফ্রা মরুদ্যানের ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে এই শ্বেত মরুভূমিটি অবস্থিত। মরুভূমিটিকে দেখে অবাস্তব মনে হলেও এটিই বাস্তব। অনেক বছর আগে সাহারা মরুভূমি পানির নিচে ডুবে ছিল। 

সে সময় সাহারা মরুভূমির একটি অংশে খড়িমাটি জমতে থাকে। খড়িমাটি জমতে জমতে এক সময় এই অংশটুকু পানির উপরে ভেসে ওঠে। জমে থাকা এই খড়িমাটি থেকেই এই শ্বেত মরুভূমির সৃষ্টি।

স্নেক আইল্যান্ড

স্নেক আইল্যান্ডব্রাজিলের স্নেক আয়ারল্যান্ড। চার লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের দ্বীপটিতে বছরের পর বছর ধরে রাজত্ব করে চলেছে গোল্ডেন ল্যান্সহেড নামের ভয়ংকর বিষধর এক প্রজাতির সাপ।

স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, দ্বীপটির প্রতি বর্গমিটার এলাকায় পাঁচটি করে সাপের দেখা মেলে। ব্রাজিলের নৌবাহিনী এ দ্বীপটিতে সাধারণের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস