৫ হাজার মিলিয়ন বছরেও এই গুহার গোলোক ধাঁধাঁর উত্তর মেলেনি 

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

৫ হাজার মিলিয়ন বছরেও এই গুহার গোলোক ধাঁধাঁর উত্তর মেলেনি 

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৪ ২৬ অক্টোবর ২০২০  

ছবি: ৫ হাজার বছর ধরে গঠিত এই গুহা

ছবি: ৫ হাজার বছর ধরে গঠিত এই গুহা

নানা সময় বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার গুহার হদিস মিলেছে। যেগুলো প্রাকৃতিকভাবেই চুনা পাথরে গঠিত হয়েছে। এমনই এক গুহা এর ওয়াং ডং। এটিকে বলা হয় পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম গুহা। এটি প্রায় পাঁচ হাজার মিলিয়ন বছর ধরে চুনা পাথর দিয়ে গঠিত হয়েছে। এর আগের অবস্থানে অর্থাৎ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহা হচ্ছে "সন ডং"।

এটি ভিয়েতনামে অবস্থিত। কিন্তু এই সন ডং গুহার এই বিশ্ব রেকর্ড এবার কেড়ে নেয়ার পথে সদ্য আবিষ্কৃত চায়নার "এর ওয়াং ডং" গুহা। এর অর্থ দ্বিতীয় রয়্যাল গুহা। আরো পরিষ্কার করে বললে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম গুহা এটি।

পৃথিবীর মধ্যে যেন আরেক পৃথিবীচীনের ওয়াওলং কাউন্টি এর ওয়ালং কাস্ট প্রদেশের রঞ্জিয়াগৌ গ্রামের নিকটে অবস্থিত,একটি বিশাল গুহা ব্যবস্থা। স্থানীয় নাইট্রেটের খনি শ্রমিকরা জানতেন যে ১৯৫ মিটার গভীর নিউবিজি তিয়ানকং সিঙ্কহোলের নীচে কিছু একটা লুকানো আছে।

আরো পড়ুন: বিশ্বের প্রথম সমকামী পুরুষ, শত বছর ধরে শুয়ে আছেন একই কবরে

গুহা বিশেষজ্ঞ এবং পেশাদার ফটোগ্রাফারদের একটি দল সম্প্রতি চীনের চঙকিং প্রদেশে এক মাসব্যাপী অভিযানের সময় প্রথমবারের মতো এর ওয়াং ডং গুহা ব্যবস্থাটি অনুসন্ধান করেছিল।এটি লম্বায় ৪২,১৩৮ মিটার (১৩৮,২৫১ ফুট) এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ৪৪১ মিটার (১,৫৪৭ ফুট)।

গুহার ভেতর রয়েছে গোলোক ধাঁধাঁ গুহাটি ৪৪৮,৩ মিলিয়ন বছর থেকে ৪৫৩,৭ মিলিয়ন বছর পূর্বে অর্ডোভিশিয়ান সময়কার চুনাপাথর দ্বারা গঠিত। এটি ক্যামব্রিয়ান এবং সিলুরিয়ান পিরিয়ডের মধ্যে প্যালিয়োজোইক যুগের দ্বিতীয় সময়কালের সঙ্গে সম্পর্কিত বা নির্দেশ করে। এর ওয়াং ডং এর খুব কাছেই সান ওয়াং দোং নামে আরেকটি বড় গুহা অবস্থিত। 

বাইরের বিশ্বের কাছে এই গুহা সাম্প্রতিক সময়ে আবিষ্কৃত হলেও স্থানীয়দের কাছে অনেক আগে থেকেই এই গুহা বেশ পরিচিত। এই গুহা এতটাই বড় যে, এর ভেতরে রয়েছে নিজস্ব আবহাওয়া ব্যবস্থা। আরো রয়েছে খাল,বিল, পাহাড়,আকাশ যাতে রয়েছে মেঘ এবং কুয়াশাও।

গুহার ভেতরে রয়েছে খাল, বিল আকাশ এই গুহার আশ্চর্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি হলো প্রায় ১২.৫ একর জায়গা নিয়ে বিস্তৃত ক্লাউড লেডার হল নামের বিশাল একটি ক্যাথেড্রাল জাতীয় স্থান। যা কমপক্ষে ৮২০ ফুট উঁচু ছাদ সহ বিশাল একটি অঞ্চল যা মেঘ এবং কুয়াশার ঘন স্তর দ্বারা আবৃত। মেঘগুলো এত ঘন যে গুহার উপরের ছাদ দেখা যায় না।এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি চেম্বার।

কিছু কিছু জায়গায় পানির তীব্র স্রোত থাকে  কিন্তু আশা যাওয়া বেশ দূর্গম আর বিপদজনক হওয়ায় এখন পর্যন্ত খুব বেশী অভিযাত্রী এই গুহায় প্রবেশ করেনি। ম্যানচেস্টার থেকে আসা ফটোগ্রাফার এবং রব্বি শন এক মাসব্যাপী অভিযানে ১৫ অভিযাত্রীর একটি দলের সদস্য ছিলেন।

আরো পড়ুন: ২৭০০ মিলিয়ন বছর ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের পাহাড়  

তিনি এই গুহা বিষয়ে বলেন, এর আগে এত বিস্তৃত কোনো গুহা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। সেখানে রয়েছে অসাধারণ কিছু বিষয় যা দেখে সত্যি আমরা অবাক হয়েছি। তিনি আরও বলেন, এই গুহা এত বিশাল যে এর উপরের অর্ধেক অংশ পুরোটাই কুয়াশা এবং মেঘে ঢাকা। এই গুহার সম্পূর্ণ  দৈর্ঘ্য এখন পর্যন্ত পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি।

গুহার ভেতরে বড় বড় পাথরের প্রাচীরএর ভেতরে থাকা পানি পুরোটাই নোনতা স্বাদযুক্ত। যা একেবারেই পান যোগ্য নয়। গুহার ভেতরে অনেক স্থানে পানির পরিমাণ এতটাই বেশি যে সেখানে বিশাল বিশাল স্রোত বয়ে যাচ্ছে। যা আপনাকে সহজেই ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

গুহার ভেতরের গভীরতা এতটাই বিশাল যে সেখানে শীতল আবহাওয়ার পাশাপাশি  আর্দ্রতাও বেশি। স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস নেয়াটা অনেক কষ্টসাধ্য।

এখনো চলছে গবেষণাএই গুহা নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন বেশি কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযাত্রী দল এই গুহার কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন। বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে। এই গুহা নিয়ে চলছে গবেষকদের দিনরাত এক করে গবেষণা।  

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে