খাবার ক্যানে সংরক্ষণের আবিষ্কারক তিনি, ছিলেন একজন ময়রা

ঢাকা, রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৭,   ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

খাবার ক্যানে সংরক্ষণের আবিষ্কারক তিনি, ছিলেন একজন ময়রা

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫০ ২২ অক্টোবর ২০২০  

ছবি: নিকোলাস অ্যাপার্ট ক্যানিং খাবার সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার জনক

ছবি: নিকোলাস অ্যাপার্ট ক্যানিং খাবার সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার জনক

ক্যানের খাবার বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। ব্যস্ত জীবনকে সহপজ করতেই এই ব্যবস্থা। মাছ, মাংস থেকে সবজি সব কিছুই খুব সহজে ক্যানবন্দি অবস্থায় হাতের কাছে পাবেন।

সেই সুদূর কোনো দেশ কিংবা প্রশান্ত মহাসাগরের কোনো মাছ আপনার খেতে ইচ্ছা করল। মুহূর্তেই তা খেতে পারবেন। বাইরের অনেক দেশে এমনভাবে রান্না কিংবা কাঁচা খাবার সংরক্ষণ করে বহু আগে থেকেই। তবে আমাদের দেশেও কিন্তু এগুলো বেশ সহজলভ্য।

নিকোলাস অ্যাপার্টের দেয়া সূত্রেই কাচের জারে খাবার সংরক্ষণ শুরু হয়আচ্ছা কখনো কি মনে হয়েছে কবে থেকে শুরু হয়েছিল খাবারের ক্যানবন্দি অবস্থা। কেনই বা করা হয়েছিল এই প্রক্রিয়া। জানেন কি? সর্বপ্রথম এই প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছিলেন নিকোলাস অ্যাপার্ট। তিনি ছিলেন একজন্ম ময়রা। মানে মিষ্টি বানাতেন তিনি।

নিকোলাস অ্যাপার্ট১৭৪৯ সালের ১৭ নভেম্বর ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলাস অ্যাপার্ট। বায়ুরোধী খাদ্য সংরক্ষণের জন্য তাকে ক্যানিং প্রক্রিয়ার জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৭৮৪ থেকে ১৭৯৫ সাল পর্যন্ত অ্যাপার্ট প্যারিসে একজন ময়রা ছিলেন।

১৭৯৫ সালে তিনি খাদ্য সামগ্রীর সংরক্ষণে পরীক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে তিনি স্যুপ, শাক-সবজি, ফলের রস, দুজাত খাদ্যসামগ্রী, জেলী, জ্যাম ও সিরাপের সংরক্ষণে সাফল্য অর্জন করেন।

নিকোলাস অ্যাপার্টের তৈরি জার সংরক্ষণ করা আছেনিকোলাস অ্যাপার্ট খাদ্য পণ্যকে গ্লাস জারে ভর্তি করে কর্ক দিয়ে ছিপিবদ্ধ করে ফুটন্ত পানিতে রেখে সংরক্ষণ করেন। ১৮১০ সালে অ্যাপাটের খাদ্য সংরক্ষণ প্রণালী জনসম্মুখে প্রকাশের জন্য ফ্রান্সের উৎপাদন মন্ত্রণালয় তাকে ১২,০০০ ফ্রাক প্রদান করেন। অ্যাপার্ট তা গ্রহণ করেন এবং তার উদ্ভাবিত খাদ্য সংরক্ষণ প্রণালী পুস্তকাকারে প্রকাশ করেন। প্রকাশিত বইটির নাম ছিল- দ্য আর্ট অব প্রিজারভিং অ্যানিম্যাল অ্যান্ড ভেজিটেবল সাবস্টেন্সেস।

নিকোলাস অ্যাপার্টের লেখা বইআধুনিক খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতির এটাই প্রথম রান্নার বই হিসেবে পরিচিত। অ্যাপার্টের সম্মানার্থে অনেক সময় ক্যানিং পদ্ধতিকে অ্যাপাটিসাইজেশন ও বলা হয়ে থাকে। খাদ্য সংরক্ষণের ক্যানিং প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন। ১৮৪১ সালের ১লা জুন নিকোলাস অ্যাপার্ট পরলোক গমন করেন।

টিনের কৌটায় খাবার সংরক্ষণের উপায় বের করেন লুই পাস্তুর ১৮৫০ এর দশকে, রসায়নবিদ এবং ব্যাকটিরিওলজিস্ট লুই পাস্তুর, অ্যাপাটিসাইজেশন এর জৈবিক আইনগুলো নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তিনি টিনের কৌটায় খাবার সংরক্ষণের চেষ্টা চালাতে থাকেন। এক্ষেত্রে নিকলাস অ্যাপার্টের লেখা বই তাকে সাহায্য করেছে। অ্যাপার্টের দেয়া পরমার্শ মেনেই তিনি এই চেষ্টা করতে থাকে। অ্যাপার্ট অবশ্য কাচের বোতল এবং গ্লাসে খাবার সংরক্ষণ করতেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে