খুফুর পিরামিডের নিচের গুপ্ত রাস্তা ও ঘরের রহস্য

ঢাকা, শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৭,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

খুফুর পিরামিডের নিচের গুপ্ত রাস্তা ও ঘরের রহস্য

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫০ ২০ অক্টোবর ২০২০  

ছবি: পিরামিডের গুপ্ত ঘরের রহস্য

ছবি: পিরামিডের গুপ্ত ঘরের রহস্য

মিশরের পিরামিডের অনেক নিচে সম্প্রতি একটি গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। তবে এই গুপ্ত ঘরের কথা গবেষকরা অনেক আগেই জানতেন। যা সাধারণ জনতার কাছ থেকে গোপন করে রাখা হয়েছিল। তবে এখনো সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে প্রত্নতত্ত্ব গবেষকরা খুফুর গ্রেট পিরামিডের পাশে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড জায়গার হদিস পান। যা দেখার পর গবেষকদের মনে হয়েছিল গ্রেট পিরামিডের ভিতরে এমন বহু গুপ্ত রাস্তা থাকতে পারে। যার সমন্ধে তারা এখনো জানতে পারেনি।

পিরামিডের নকশাসাবেক পিরামিড গবেষক ডক্টর যাইয়ী হাওয়াস এই গোপন তথ্য জানিয়েছেন। এই আন্ডারগ্রাউন্ড গুপ্ত রাস্তা একটি লম্বা টানেলের মতো চলে গিয়েছে খুফুর গ্রেট পিরামিডের নিচের একটি রহস্যময় চেম্বার পর্যন্ত।

এই চেম্বারে যাওয়ার জন্য তিনটি লেভেলের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। আর প্রত্যেক লেভেলের পর একটি ন্যারো শ্যাফট/সরু সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। 

আন্ডারগ্রাউন্ডের নকশাএই সরু সুড়ঙ্গ মাটির নিচে অনেক গভীরে পৌঁছে গিয়েছে। এই সবগুলো সরু সুড়ঙ্গ পাথরকে খোদাই করে বানানো হয়েছে।

প্রথম লেভেল পর্যুন্ত যে সুড়ঙ্গ খোদাই করা হয়েছে তা মূল ভূখণ্ড থেকে ২০ ফিট পর্যুন্ত নিচে পৌঁছে যায়। প্রথম লেভেলের জায়গা খুব ছোট করে বানানো হয়েছে। এই জায়গাটা সম্পূর্ণ খালি ছিল। 

প্রথম লেভেলের পরের সুড়ঙ্গটির পরিমাপ, প্রথম লেভেল থেকে দ্বিতীয় লেভেল পর্যন্ত ৪৫ ফিট মাটির নিচে পর্যন্ত। দ্বিতীয় লেভেলের চেম্বারটি খুবই অদ্ভুত ছিল। 

আন্ডাগ্রাউন্ডের প্রবেশদ্বারএই চেম্বারে পাথর খোদাই করে সাতটি ছোট ছোট ঘর বানানো হয়েছে। এর মধ্য দুটি ঘরে দুটি তাবু (মৃত দেহ রাখার পাত্র) রাখা আছে।

এই দুটি তাবু গ্রানাইট পাথরের বানানো। দুঃখের বিষয় এই তাঁবুতে কোনো মমি পাওয়া যায়নি। এই তাঁবুর গায়ে অবশ্য কোনো হাইরগ্লাফিকও খোদাই করা নাই। এই দুই তাবু খালি ছিল।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে গ্রানাইটের বানানো এত বড় ও ভারী তাবুকে মাটির এত নিচে এই সরু সুড়ঙ্গ দিয়ে কীভাবে বহন করে আনা হয়েছে?

ভেতরে রয়েছে একটি গুপ্ত লেকডক্টর যাইয়ী হাওয়াস এর ইংরেজি ডকুমেন্টারিতে এই খুফুর পিরামিডের গুপ্ত চেম্বারে প্রবেশের দৃশ্য দেখা যায়। যাই হোক সর্বশেষ চেম্বারে ডক্টর যাইয়ী হাওয়াস যখন সর্বপ্রথম প্রবেশ করেন তখন তিনি নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। 

তিনি দেখেছিলেন, এই চেম্বারে একটি লেক বানানো রয়েছে। লেকটি সম্পূর্ণ জলে পরিপূর্ণ ছিল। এই জল অত্যন্ত পরিষ্কার ছিল। আর এই জলের ভিতর একটি রহ্যসময়ী তাবু রাখা আছে। এই তাঁবুর দৈর্ঘ্য ছিল ৯ ফিট এবং ওজন আনুমানিক ১১ থেকে ১২ টনের মতো।

খুফুর পিরামিডপ্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, এই তাবুকে এত নিচে আনার জন্য প্রথমে সুড়ঙ্গতে বালি প্রবেশ করানো হয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে বালিগুলো সরিয়ে এই তাবুকে নিচে নিয়ে আসা হয়েছে। 

তারা আরও ধারণা করেছে এই আন্ডারগ্রাউন্ডে আরো কিছু গুপ্ত রাস্তা থাকতে পারে। যার সম্পর্কে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। মিশরের পিরামিডের রহস্য যেন শেষ হওয়ার নয়। একের পর এক চমক বিশ্ববাসীর জন্য অপেক্ষা করছে। সেসব রহস্য উদঘাটন এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস