মাইক্রোসফটের কর্মীদের গাড়ির নম্বরপ্লেট মুখস্ত রাখতেন বিল গেটস

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১৪ ১৪২৭,   ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মাইক্রোসফটের কর্মীদের গাড়ির নম্বরপ্লেট মুখস্ত রাখতেন বিল গেটস

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫১ ১৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৬:১৫ ১৪ অক্টোবর ২০২০

ছবি: বিল গেটস

ছবি: বিল গেটস

বিশ্বের ধনীদের খোঁজ করলে প্রথমেই যে নামটি আসবে, তিনি মাইক্রোসফটের জনক বিল গেটস। সৌম্যদর্শন মানুষটি বিশ্বের পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে আজ ঈশ্বরের প্রতিনিধি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া বিল হয়ে ওঠেন প্রজন্মের রোল মডেল।

১৩ বছর যাবত পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি থাকা বিল একসময় ১২০.৭ বিলিয়ন ডলার পকেটে ঘুরতেন। ম্যাকডোনাল্ডের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেন খাবার কেনার জন্য। বর্তমান বিল গেটসের জীবনে আছে নানা ঘটনা। কিছু আপনাকে শিক্ষা দেবে, কিছু আবার অবাক করবে। সেসব নিয়েই সাজানো আজকের লেখা।  

১৯৯৫৫ সালের ২৮ অক্টোবর ওয়াশিংটনে জন্ম বিলের। পুরো নাম উইলিয়াম হেনরী গেটস। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এই ব্যক্তিকে মাইক্রোসফটের দুনিয়ার জনক হিসেবেই চেনে সবাই। সম্প্রতি মাইক্রোসফটের সঙ্গে পঁয়তাল্লিশ বছরের বন্ধন থেকে স্বেচ্ছা-মুক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন পৃথিবীর শরীর ও মন ভালো করার জন্য। এহেন বিল গেটসের জীবন জুড়ে ছড়িয়ে আছে বিচিত্র স্বাদের নানা কাহিনী। যে কাহিনীগুলোতে জড়িয়ে থাকা বিলের সঙ্গে এখনকার বিল গেটসকে মেলানো যাবে না। চলুন জেনে নেয়া যাক বিল গেটসের জীবনের কিছু অজানা তথ্য-   

স্কুলে দুষ্টু ছাত্রের তকমা পেয়েছিলেন বিল

স্কুলে থাকতে দুষ্টুর তকমা পেয়েছিলেন বিল অত্যন্ত মেধাবী বিলের নামের পাশে ছিল দুষ্টুমির তকমা। এজন্য অনেক বকাও খেতেন শিক্ষকদের কাছে। বিল পড়তেন সিয়াটলের লেকসাইড স্কুলে। মেধাবী হলেও বারবার ফে;ল করতেন স্কুল পরীক্ষায়। এ নিয়ে শিক্ষিকারা রাগারাগি করতেন। কেননা বিষয়গুলো বিলের পছন্দ না হওয়ায় ইচ্ছা করেই পরীক্ষায় কিছু লিখতেন না বিল। বারবার বলেও কোনো কাজ হয়নি। নিজের মন মতোই কাজ করতেন বিল। 

একবার স্কুল কর্তৃপক্ষ বিল গেটসকে বলেছিল, ইংরেজি ক্লাসের জন্য শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন ছোটো ছোটো গ্রুপে ভাগ করে দিতে। বিল গেটস নিজের গ্রুপে কোনো ছাত্রকে রাখেননি। তিনি ছাড়া সেই গ্রুপে বাকি সবাই ছিলেন ছাত্রী। যাদের তিনি পছন্দ করতেন।   

পল অ্যালেন বিল গেটসের সহপাঠী। যিনি মাইক্রোসফটের সহ প্রতিষ্ঠাতা। লেকসাইড স্কুলে তারা কম্পিউটার রুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাতেন। কিন্তু তখন কম্পিউটার ব্যবহার করতে গেলে স্থানীয় ‘সি-কিউবড’ কোম্পানিকে টাকা দিতে হত স্কুল মারফত। বিনাপয়সায় কম্পিউটার ব্যবহার করার জন্য ‘সি-কিউবড’ কোম্পানির অ্যাডমিনদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা শুরু করেছিলেন দুই বন্ধু।

মাথায় সারাক্ষণই নতুন কিছু করার কথা ঘুরত তার। দুই বন্ধু রাতের বেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে ‘সি-কিউবড’ কোম্পানির  ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া কাগজপত্র ঘাঁটতেন। দিনের পর দিন করেছেন এই কাজ। এভাবে ডাস্টবিন ঘাঁটতে ঘাঁটতে একদিন তারা খুঁজে পেয়েছিলেন ‘TOPS-10′ সোর্স কোড। হ্যাক করে নিয়েছিলেন কোম্পানির লোকেদের অ্যাকাউন্ট। বেশ কয়েক মাস পর বিল ও অ্যালেনের কার্যকলাপ ধরে ফেলে কোম্পানি। ততদিনে প্রোগ্রামিং-এ চৌকশ হয়ে উঠেছিলেন বিল ও অ্যালেন।

হার্ভার্ডের ফাঁকিবাজ বিল

কম্পিউটারের প্রতিই তার ছিল বিশেষ ঝোঁকহার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় বিল গেটস থাকতেন হোস্টেলে। ক্লাসে ঠিকমতো উপস্থিত ঠাকতেন না তিনি। কি করতেন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে? বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া তার ভালো লাগত না। তাই ক্লাস না করে পছন্দের কোর্সগুলো করে বেড়াতেন। এজন্য তাকে পোহাতে হয়েছে বিস্তর সমস্যা। তবে যতই পড়ায় ফাঁকি দেন না কেন সব পরীক্ষাতে ‘এ’ থাকত তার। হতবাক হয়ে যেতেন তার শিক্ষকেরাও।অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন বিল। একবার পড়েই মনে রাখতে পারতেন তিনি। 

হার্ভার্ডের তিরিশ বছর ধরে একটি অঙ্কের সমাধান অমীমাংসিত ছিল। সেই জটিল সমস্যার সমাধান করে ফেলেছিলেন বছর বিশেকের বিল । ‘প্যানকেক সর্টিং’ নামের ধাঁধাটির সমাধান করার পর, অঙ্কের প্রফেসরেরা বিলকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। তারা বিলের মধ্যে ভবিষ্যতের বেঞ্জামিন পিয়ার্সকে দেখতে পাচ্ছিলেন। তবে হার্ভার্ড ছাড়ার পর তাকে অনেকেই বোকা বলেছিলেন। তার শিক্ষক পাপাদিমিত্রউ আফসোস করে বলেছিলেন, “অঙ্ক দিয়েই বিশ্বজয় করার ক্ষমতা রাখা বিলের মেধা বিফলে গেল”।

বিল গেটসের সমাধানটি, ১৯৭৫ সালে বিশ্ববিখ্যাত এক ম্যাথস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল। এর কিছুদিন পর, আচমকাই হার্ভার্ড ছেড়ে বিল চলে গিয়েছিলেন নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কে। বন্ধু অ্যালেনকে নিয়ে খুলে ফেলেছিলেন কম্পিউটারের মাইক্রোপ্রসেসরের জন্য কোড তৈরি করার কোম্পানি ‘মাইক্রোসফট’। 

আলবুকার্ক দাবিয়ে বেড়ানো বিল 

আলবুকার্কে এসে বিল লাগামছাড়া হয়ে উঠেছিলেন। বিলের মাইক্রোসফট অফিসের খুব কাছেই মরুভূমি। প্রতিদিন মরুভূমিতে ঢুঁ মারা তার নেশা হয়েগিয়েছিল। রোজই কোনো না কোনো গাড়ি নিয়ে চলে যেতেন মরুভূমিতে। বালির ঝড় তুলে উদ্দামগতিতে গাড়ি চালাতেন মরুভূমির বুক চিড়ে। 

বেপরোয়া বিল

বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে তিনবার জরিমানা দিয়েছিলেন বিল গেটসকোনো কিছুকেই যেন বাঁধা মানতেন না প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আসা বিল। দুঃসাহসিক ক অভিযানে বন্ধুকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। একটি ‘পোর্সে ৯২৮ সুপারকার’ভাড়া নিয়ে দুইজনে গিয়েছিলেন মরুভূমিতে। গাড়ির গতিবেগ তুলে দিয়েছিলেন ঘণ্টায় প্রায় দেড়শো কিমির কাছাকাছি। স্বাভাবিকভাবেই ঘটেছিল দুর্ঘটনা। পোর্সে গাড়িটির তলা কেটে বের করতে হয়েছিল বিল ও তার বন্ধুকে। গাড়িটি সারাতে সময় লেগেছিল এক বছর। 

ট্রাফিক আইন ভাঙার জন্য আলবুকার্ক শহরের পুলিশ বিলকে তিনবার গ্রেফতার করেছিল। এর মধ্যে একজন পুলিশই বিলকে ধরেছিলেন দুইবার। এই দুবারই বিল ‘পোর্সে ৯১১’ নিয়ে আলবুকার্ক থেকে সিয়াটল আসছিলেন। একবার রেড সিগন্যাল মানেননি, অন্যবার সঙ্গে ছিল না লাইসেন্স। তবে তিনবারই ধরা দেয়ার আগে উল্কাগতিতে মাইলের পর মাইল গাড়ি চালিয়ে পুলিশকে নাজেহাল করে ছেড়েছিলেন বিল।

বিল যখন অফিসের বস

বিল ছিলেন খুবই কঠোর বসজানলে অবাক হবেন বৈকি, বিল গাড়ির নাম্বার প্লেট মুখস্ত করতেন। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন , গাড়ির নাম্বার প্লেট মুখস্ত করে রাখতেন। তাও আবার তার অফিসের কর্মীদের। একটু কঠোর বসই ছিলেন বটে! শুরুর দিকে এমনটা করতেন বিল। মাইক্রোসফটের কর্মীদের গাড়ির নম্বার মুখস্ত রাখতেন। তার ঘরের জানালা দিয়ে পার্কিং লটের দিকে তাকিয়ে বুঝে যেতেন কোন কর্মী অফিসে আছেন বা নেই। এই ব্যাপারটি কর্মীদের সাংঘাতিক চাপে রাখত। 

তবে সংস্থা বড় হয়ে যাওয়ার পর অভ্যাসটা বজায় রাখতে পারেননি। ক্ল্যাসিক উইন্ডোজ গেম ‘মাইন সুইপার’-এর পোকা ছিলেন বিল গেটস। তারই সংস্থার তৈরি গেমটি তার কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছিল। একদিন রেগেমেগে নিজের অফিসের কম্পিউটার থেকে গেমটি আন-ইনস্টল করে দিয়েছিলেন।

কাজ পাগল বিল 
অসম্ভব কাজপাগল মানুষ ছিলেন বিল গেটস। দুই তিন না ঘুমিয়েও কাটিয়ে দিতে পারতেন তিনি। তবে তা কাজের জন্য। একটানা কাজ করে যেতে পারতেন একটুও না ঘুমিয়ে। মন চাইলে অফিসের মেঝেতেই খানিক্ষণ ঘুমিয়ে নিতেন। একবার বিলের এক সেক্রেটারি সাপ্তাহিক ছুটি কাটিয়ে অফিসে এসেছেন। এসে যা দেখলেন, তাতে তার চোখ কপালে ওঠার উপক্রম। 

তিনি সকালে অফিসে এসে তার বসকে অফিসের ফ্লোরে অচৈতন্য অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন। বিল গেটস অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ভেবে সেক্রেটারি আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠেছিলেন। সেক্রেটারির চিৎকারে ঘুম ভেঙে যাওয়া বিল গেটসের। তবেখানিক লজ্জাও পেয়েছিলেন তিনি। এরপর উঠে পড়েছিলেন ফ্লোর থেকে। জানা গিয়েছিল শুক্রবার রাতের পর একেবারে রবিবার রাতে ঘুমিয়েছিলেন বিল গেটস। 
 
বইপোকা বিল

বইপোকা বিল বিল যেখানেই যেতেন সঙ্গে থাকত বই। সফরকালে তার একজন কর্মী সঙ্গে থাকত, শুধুমাত্র বইয়ের ব্যাগ বহনের জন্য। বিমানে, গাড়িতে, মিটিংয়ের ফাঁকে বই খুলে বসতেন বিল। শুরুতে সফরের একঘেয়েমি দূর করতে বই পড়তেন তিনি। বছরে প্রায় ৭০-৮০ টি বই পড়েন বিল।  জটিল বইগুলোর মধ্যে থাকে কোয়ান্টাম মেকানিকস ও অ্যালগোরিদমের বইও। বিল বলেন, নতুন জিনিস জানার ও নিজের বোঝার ক্ষমতা যাচাই করার সেরা উপায় হচ্ছে বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকা। 

কৈশোরে বিলের প্রিয় বইয়ের নাম ছিল ‘ওয়ার্ল্ড বুক এনসাইক্লোপিডিয়া’। স্কুলজীবনেই শেষ করে ফেলেছিলেন সব কটি খণ্ড । বইপাগল বিল গেটসের সংগ্রহে আছে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির বিজ্ঞান বিষয়ক লেখার একমাত্র সংকলন ‘কোডেক্স লেস্টার’। দুষ্প্রাপ্য এই পাণ্ডুলিপিটি তিনি ১৯৯৪ সালে নিলামের মাধ্যমে কিনেছিলেন ২২৬ কোটি টাকা দিয়ে।

ভাবুক বিল
বিল যেকোনো বিষয় নিয়ে দিনের পর দিন চিন্তা করে যেতে পারেন। শুধুমাত্র চিন্তা করার জন্য বিল গেটস  প্রত্যেক বছর এক সপ্তাহ ছুটি নেন। প্রচুর বই, খাতা ও  কলম নিয়ে একটি ছোটো ঘরে স্বেচ্ছাবন্দি করে রাখেন নিজেকে। জীবনের গতিকে স্বেচ্ছায় মন্থর করে দিয়ে, এই এক সপ্তাহ ধরে পৃথিবীর নানা সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা করেন। বিল গেটস বলেন, বিশ্বের যেকোনো ভালো কাজে আমি আছি বিল গেটস।

বিল গেটস (ডানে)অমানবিক বিল

বিল গেটস, পৃথিবীর গরীব দেশগুলোর উন্নয়নে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দান করেছেন দু লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার কোটি টাকা। আফ্রিকার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে একবার কিছু স্বেচ্ছাসেবী গিয়েছিলেন বিল গেটসের কাছ থেকে দান পাওয়ার আশায়। সব শোনার পর, ব্ল্যাঙ্ক চেক সামনে রেখে টাকার অঙ্ক বসিয়ে নিতে বলেছিলেন বিল গেটস। 

ভয়ে ভয়ে চেকে টাকার অঙ্ক বসিয়েছিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা। চেকটি কিছুক্ষণ ধরে দেখে বিল গেটস বলেছিলেন, সংখ্যাটি পাল্টাতে হবে। স্বেচ্ছাসেবীরা ভেবেছিলেন চেকটিতে তারা বেশি টাকা লিখে ফেলেছেন। বিল গেটস বলেছিলেন, দাঁড়ান আমি করে দিচ্ছি। এর পর চেকে লেখা সংখ্যাগুলোর ডানদিকে আরো দুটি শূন্য বসিয়ে দিয়েছিলেন।  

অথচ এই বিল অমানবিক হয়ে ওঠেন সন্তানদের বেলায়। বিল গেটস নিজের তিন সন্তানের জন্য জমা রেখেছেন মাত্র দুশো পঁচিশ কোটি টাকা। তার কথায় সন্তানদের জন্য বিশাল টাকা রেখে যাওয়াটা তাদের প্রতি সুবিচার করা নয়। আসলে বিল তার সন্তানদের জন্য যোগ্য পিটার কাজটিই করেছেন। 

বিল গেটসের সন্তানেরা যে বিশ্বসেরা প্রযুক্তি নিয়ে বেড়ে উঠবে, এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। তবে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। প্রযুক্তিবিষয়ক অনুষঙ্গ ব্যবহারে তিন সন্তানের প্রতি বাবা বিল গেটসের আছে কঠিন বিধিনিষেধ। ১৪ বছর বয়স না হলে সন্তানদের হাতে সেলফোন তুলেও দেন না। তবে আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো তার সন্তানেরাও যে একটু গোঁ ধরে, তা-ও অকপটে স্বীকার করেন। 

দরিদ্র বিল

বিল গেটস বিশ্বের সবচেয়ে ধনীদের তালিকায় ১৩ বছর যাবত শীর্ষে ছিলেন বিল। একথা জানেন না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কষ্টের। তাহলে এই তকমা কেন বিলের!  বিলের থেকেও ধনী আছেন একজন, না তিনি জেফ বেজোস নন। তখন পৃথিবীর ধনীদের তালিকায় একনম্বরে বিল গেটস, তাকে এক ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা জিজ্ঞেস করেছিলেন তার চেয়েও ধনী কেউ আছেন কিনা! প্রশ্নের উত্তরে তিনি একটি কাহিনী বলেছিলেন।  

নিউইয়র্ক বিমানবন্দর দিয়ে একবার কোথাও যাচ্ছিলেন বিল গেটস। তিনি তখনও ধনী হননি। বিমানবন্দরের বাইরে থাকা এক কাগজ বিক্রেতার কাছ থেকে কাগজ নিয়ে কাগজটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সঙ্গে খুচরা না থাকায়। কাগজ বিক্রেতাটি বিল গেটসকে বিনামূল্যে কাগজটি দিয়ে বলেছিলেন, তোমায় পয়সা দিতে হবে না। কয়েকমাস পরেই আবার ঘটেছিল একই ঘটনা। সেদিনও বিক্রেতা কাগজটি বিল গেটসকে বিনামূল্যে দিয়ে বলেছিলেন, আমি আমার লাভের পয়সা থেকে কাগজটা তোমায় দিচ্ছি তুমি নাও।

প্রিবারের সঙ্গে বিল গেটস এই কাগজ বিক্রেতাকে উনিশ বছর পর খুঁজে বের করেছিলেন বিল গেটস। দেড় মাসের চেষ্টায় পাওয়া যায় তাকে। এরপর তিনি কাগজ বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তুমি আমায় চেনো? বিক্রেতা তাকে জানায়, হ্যাঁ তুমি বিল গেটস। এরপর বিল গেটস খানিকটা বিস্ময় নিয়েই তাকে বলেন, তোমার কি মনে আছে আমি তোমার থেকে একবার বিনা পয়সায় কাগজ নিয়েছিলাম। 

বিক্রেতা তাকে অবাক করে দিয়ে বলেন হ্যাঁ, আমি  তোমাকে দুবার বিনা পয়সায় কাগজ দিয়েছিলাম। বিল গেটস এরপর কাগজ বিক্রেতাকে বলেছিলেন, তোমার যা দরকার আমায় বলো। আমি তোমায় সাহায্য করতে চাই। কাগজ বিক্রেতা হেসে বলেছিলেন, সে দিনের সাহায্যের মূল্য তুমি কীভাবে মেটাবে! তখন আমি গরিব ছিলাম তুমিও গরিব ছিলে। আজ তুমি বড়লোক, তাই সাহায্য করতে চাইছ। কিন্তু এখন তোমার সাহায্যের আমার আর দরকার নেই।

চোখে পানি এসে গিয়েছিল বিলের। অনুভব করেছিলেন, কাউকে সাহায্য করার জন্য বড়লোক হওয়ার দরকার নেই। দরকার বড় একটি  হৃদয়ের। জীবনের সেরা শিক্ষাটি নিয়ে ফিরে এসেছিলেন ধনকুবের বিল গেটস, তার থেকেও ধনী কাগজ বিক্রেতার কাছ থেকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে