ঢাকার যে রেস্তোরাঁয় ৭০ বছর ধরে জনপ্রিয় ‘ক্রামচাপ’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১২ ১৪২৭,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ঢাকার যে রেস্তোরাঁয় ৭০ বছর ধরে জনপ্রিয় ‘ক্রামচাপ’

আহসান জোবায়ের ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৯ ১১ অক্টোবর ২০২০  

ছবি: নিউ ক্যাফে কর্ণারের ক্রামচাপ

ছবি: নিউ ক্যাফে কর্ণারের ক্রামচাপ

পুরনো দেয়ালের চৌকাঠ মাড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই আড়াআড়ি দুটো টেবিল চোখে পড়বে। ডানে ঘাড় ঘুরালে আরো চারটি টেবিল সাজানো। পুরনো এই রেস্তোরার প্রবেশ পথেই বসে আছে রেস্তোরার ম্যানেজার অনিল মিত্র। 

আশির দশক থেকে যিনি এই রেস্তোরার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। জমজমাট এই রেস্তোরায় সিট পাওয়ার ‘মুশকিলে আহসান’ করে খাবার খেতে খেতে আপনি হারিয়ে যাবেন এখন থেকে ৭০ বছর আগের সময়কায়। 

যখন এখানে কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের আড্ডা জমতো। সময়ের পরম্পরায় আজ আপনি সেই রেস্তোয় বসে খাবার খেতে খেতে ভাবনার মানসপটে উঁকি দিবে খ্যাতনামা অনেক নাম।

প্রায় ৭০ বছর আগে এই রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠা করেন হরি নারায়ণ ঘোষ। তখন এই এলাকায় আর কোনো রেস্তোরাঁ ছিল না। অদূরেই ঐতিহাসিক বিউটি বোর্ডিং। একসময় সেখানে আড্ডা জমাতেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক ও রাজনীতিকেরা। 

ক্রামচাপতখন থেকেই এখানে আড্ডা দিতেন প্রথিতযশা কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাংবাদিক, চিত্র পরিচালক, নৃত্যশিল্পী, গায়ক, অভিনেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এখানে যারা আড্ডার আসরে আসতেন এদের মধ্যে কবি শামসুর রাহমান, ফজলে লোহানী, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আবুল হাসান, মহাদেব সাহা, আহমেদ ছফা প্রমুখ।

রেস্তোরাঁর বর্তমান স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সোলায়মান মিয়া। ২৬ বছর আগে হাল ধরেছেন এটির। প্রায় সাত দশক ধরে পুরান ঢাকাবাসীর কাছে জনপ্রিয় এই রেস্তোরাঁ। কেবল এলাকার মানুষই নয়, শহরের নানা স্থান থেকে মজাদার হরেক খাবারের স্বাদ নিতে ছুটে আসেন রসনা বিলাসীরা। 

প্রবেশ করতেই দেয়ালে ঝোলানো খাবারের বিভিন্ন পদের মূল্যতালিকা। এলাকার কয়েক জনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, নানা প্রতিকূলতায়ও দীর্ঘদিন যাবৎ খাবারের স্বাদ আর মান ধরে রেখেছে রেস্তোরাঁটি।

স্টিলের প্লেটে পরিবেশন করা হয় ক্রামচাপরেস্তোরাঁটির জনপ্রিয় আইটেম বা পদ হলো ক্রামচাপ। রেস্তোরাঁর শুরু থেকেই এই আইটেম রয়েছে খাবারের তালিকায়। খাসির মাংসের কাটলেটের মতো খাবারটি পরিবেশন করা হয় গরম গরম পাউরুটির সঙ্গে। 

১২৫ টাকায় মিলবে এই খাবার। এছাড়া সকালের নাশতায় ১৫ টাকায় মেলে পরোটা ও ডালভাজি। চাইলে পরোটার সঙ্গে নিতে পারেন ডিম কিংবা খাসির ভুনা। খাসির ভুনা পাবেন ৭০ টাকায়। দুপুর ও রাতের খাবারের তালিকায় রয়েছে মোরগ-পোলাও। দাম পড়বে ১১০ টাকা। 

নাশতার আইটেমে থাকছে আলুর চপ, মোগলাই পরোটা, কাটলেট, চিংড়ি ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই ও ফিশ ফ্রাই। দাম পড়বে মাত্র ১০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যেই। মজার ব্যাপার হলো, রেস্তোরাঁটির শুরু থেকেই এই আইটেমগুলো চলছে।

সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রেস্তোরাঁটি খোলা থাকে। প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে ছোটো ছোটো কয়েকটি চেয়ার-টেবিলে ২৫ থেকে ৩০ জনের বসার ব্যবস্থা। 

ক্যাফে কর্ণারসকাল কিংবা সন্ধ্যার নাস্তায় পুরান ঢাকার অধিকাংশেরই পছন্দের তালিকায় রয়েছে এই রেস্তোরাঁ। দুপুরে মধ্যাহ্নভোজে পাউরুটির সঙ্গে ক্রামচাপের স্বাদ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অনেকেই। কেউ আসেন মোরগ-পোলাওয়ের টানে।

রেস্তোরাঁর অবস্থান

পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে দক্ষিণ দিকে লালকুঠি হয়ে বুড়িগঙ্গার তীরে গিয়ে মিশেছে নর্থব্রুক হল রোড। বাংলাবাজার ও নর্থব্রুক হল রোডের মিলিত স্থান চৌরাস্তা নামে পরিচিত। 

পশ্চিম দিকের সড়কটি বাংলাবাজার হয়ে পাটুয়াটুলি আর পূর্বদিকে একই সড়ক বিউটি বোর্ডিং হয়ে সূত্রাপুরে গিয়ে মিশেছে। বাংলাবাজার সড়ক আর নর্থব্রুক হল রোডের কোনায় ২৮, নর্থব্রুক হদ হোল্ডিংয়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘নিউ ক্যাফে কর্নার’।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস