চৌচিল্লা, মৃতদেহ সৎকারের অদ্ভুত প্রথা তাদের

ঢাকা, সোমবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৫ ১৪২৭,   ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চৌচিল্লা, মৃতদেহ সৎকারের অদ্ভুত প্রথা তাদের

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৭ ৬ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১০:৩০ ৭ অক্টোবর ২০২০

ছবি: পেরুর চৌচিল্লা

ছবি: পেরুর চৌচিল্লা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত আছে মৃতদেহ সৎকারের নানা উপায়। কেউ কবরে সমাহিত করেন। কেউ পুড়িয়ে সৎকার করেন। তবে এগুলো বেশ স্বাভাবিক প্রচলিত প্রথা। তবে বিশ্বের অনেক দেশে মৃতদেহ মাটি চাপা কিংবা পোড়ানোর কাজও করেন না। 

কিছু জাতি আছে শকুনের খাবার হিসেবে মৃহদেহ উতসর্গ করে, কেউ আবার মমি করে। কোথাও কোথাও মৃহদেহ পুড়িয়ে স্যুপ বানিয়ে খাওয়ার রীতি। আফ্রিকার এক নৃগোষ্ঠী আছে, তারা তো মৃতের মগজ খায়। এটাই তাদের রীতি। এভাবেই তারা তাদের মৃত প্রিয়জনকে সম্মান জানায়।

মমিগুলো এভাবে বসিয়ে রাখা হয় আজ জানাবো পেরুর মৃতদেহ সৎকারের এক অভিনব উপায়ের কথা। প্রত্নতাত্ত্বিক কিংবা অদ্ভুত রীতিনীতি থেকে পেরু অন্যান্যদের তুলনায় বলতে গেলে পিছিয়েই আছে। তাদের খুব বেশি জানা যায় না। তবে তাদের মৃতদেহ সৎকারের এই অদ্ভুত রীতি বেশ আলোচনায় এসেছে। 

১৯২০ এর দশক, নাজাকা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন অঞ্চলে একটি কবরস্থান আবিষ্কৃত হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা অন্য একটি গবেষণার কাজ করতে গিয়ে এটির খোঁজ পান। কবরস্থানটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২ কিলোমিটার। মরুভূমির বুকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কবরস্থানটি প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি পুরানো।এই কবরস্থানে পোরোমা শৈলীর ১৩ টি প্রাক-ইনকা সমাধি রয়েছে। 

চৌচিল্লায় রাখা মৃতদেহভাবছেন হয়তো, কবরস্থান পাওয়া যেতেই পারে। তবে এর বিশেষত্ব কি? আছে এই সমাধিস্থলে পাওয়া যায় মমি করা বেশ কিছু মৃতদেহ। আর এদের সমাধিগুলো আয়তক্ষেত্রাকার। একে বলা হয় চৌচিল্লা। ছোট ছোট প্রাচীর দিয়ে একেকটি মৃহদেহ রাখা হত। অনেকটা ঘরের মতো। তবে উপরে কোনো ছাদ দেয়া হত না। অনেক সময় একই চৌচিল্লাতে দুইটি মৃতদেহও রাখা হত।  

চৌচিল্লা কবরস্থানে ইন্ডিয়ানা জোন্স কিংডম অফ দ্য ক্রিস্টাল স্কালের শুটিং করা হয়। যদিও ছবিতে চৌচিল্লার নাম ধরে উচ্চারণ করা হয়নি। তবে কবরস্থানের বিভিন্ন সামগ্রী দেখে ধারনা করা হয়।   
  
নাজকা সংস্কৃতিতে কোনো সদস্য মারা যাওয়ার পরে তার দেহটি মমি করা হতো এবং কাপড় পড়িয়ে শরীরে রং দিয়ে আঁকা হতো তারপরে তাদের রোদে পোড়া ইট দিয়ে নির্মিত সমাধিতে রাখা হতো। এই কবরস্থান দেখে মনে হবে এটি ছোট ছোট ঘরে হয়তো পুতুল সাজিয়ে রেখেছে। এগুলো মন খারাপ করে যেন বসে আছে।

একটি চৌচিল্লা পেরুভিয়ান মরুভূমির শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মানব দেহগুলো আপনাআপনি সংরক্ষিত হয়ে যেত। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বিশ্বাস করেন যে, তাদের পোশাকের রজন হলো এমন একটি উপাদান যা মৃতদেহগুলোকে ব্যাকটেরিয়া এবং পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করেছিল। যা দ্রুত দেহগুলো ধ্বংস করতে পারে।     

হাজার বছরেরও বেশি সময় পরে এখনো অনেক মৃতদেহে চুল এবং চামড়া বিদ্যমান। এমনকি দেহগুলো মোড়ানোর জন্য ব্যবহৃত কাপড়গুলো এখনও উজ্জ্বল রঙিন। যা শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হলেও পুরোপুরি বিবর্ণ হয়নি। ডাকাতরা এই সমাধিগুলো লুট করে সমাধিতে রাখা মৃতদেহ (মমি) মরুভূমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রেখে যায়।

ডাকাতরা এভাবে মৃতদেহের সবকিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে যায় বর্তমানে এই সব মমি যত্ন সহকারে সমাধিসৌধের অভ্যন্তরে পুনরায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এখানে এক ডজন বা তার বেশি সমাধি ছিল। তবে এখনো হাড়ের টুকরা,কাপড়ের টুকরা মৃৎশিল্প মরুভূমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে থাকতে দেখা যায়।

পেরুতে এটিই একমাত্র প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান যেখানে সমাধি কক্ষে সমাধিস্তরের সঙ্গে প্রাচীন মমি এবং কঙ্কালের অবশেষ দেখা যায়।  

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে