নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি, জিন ও ধাতুর উদ্ভাবক এই বিজ্ঞানীরা দেশের গর্ব

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৪ ১৪২৭,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাংলাদেশে জন্ম নেয়া বিজ্ঞানীরা-৩

নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি, জিন ও ধাতুর উদ্ভাবক এই বিজ্ঞানীরা দেশের গর্ব

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৮ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী

ছবি: বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী

এ দেশের মাটিতে জন্ম নেয়া অনেক বাঙালি বিজ্ঞানী মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পরিবর্তনশীল পৃথিবীকে সুন্দর করে সাঁজাতে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের অবদানও কম নয়। তাদের অবদান সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই সম্যক ধারণা নেই। 

আরো পড়ুন: যে দুই বাঙালি বিজ্ঞানীর হাত ধরে পৃথিবী বদলেছে

পরিচিত এবং অপরিচিত ২১ জন বাঙালি বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে আমাদের সাত পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব। এই পর্বে তুলে ধরা হবে বিজ্ঞানের অমর প্রতিভা উলের প্রোটিন থেকে চিকিৎসা পদ্ধতির আবিষ্কারক আজম আলী, রেকডি জেনেটিক রিকম্বিনেশনের জিনের উদ্ভাবক আবেদ চৌধুরী ও সংকর ধাতুর উদ্ভাবক আব্দুস সাত্তার খানের অসামন্য অবদান সম্পর্কে-

উলের প্রোটিন থেকে চিকিৎসা পদ্ধতির আবিষ্কারক আজম আলী

আজম আলীআজম আলী উলের প্রোটিন থেকে এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। যার মাধ্যমে অগ্নিদগ্ধ ও রাসায়নিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রোগীর ত্বক ও মাংশপেশীর আরোগ্য সম্ভব। আগুনে মানুষের শরীরের ত্বক ও মাংস উভয়ই ঝলসে যায়। 

বাজারে যে ওষুধগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো শুধু ক্ষত স্থানের ত্বকই তৈরি করে। আর আজম আলী কাজ করেছেন উল নিয়ে। উলে কেরাটিন নামের প্রোটিন থাকে। এই প্রোটিনটা মানুষের নখ ও চুলেও পাওয়া যায়। 

এই বিজ্ঞানী নিউজিল্যান্ডে পাঁচ বছর ধরে এটা নিয়ে কাজ করেছেন। এই কেরাটিনকে রি-ইঞ্জিনিয়ারিং করে তিনি কেরাজেল, কেরাডাম ও কেরাফোম তৈরি করেছেন। ক্ষত স্থানে এগুলো ব্যবহার কররে শুধু ত্বকই নয়, মাংসপেশির টিস্যুও তৈরি করবে। 

আরো পড়ুন: বিশ্বসেরার তালিকায় রয়েছেন এদেশের বিজ্ঞানীরাও, কেউ প্রযুক্তিবিদ কেউবা জ্যোতির্বিদ

তাছাড়া তুলনামূলক ৪০ গুণ দ্রুত কাজ করবে এটা। ২০১০ সালে তিনি নিউজিল্যান্ডের বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বোচ্চ সম্মানজনক পুরস্কার বেয়ার ইনোভেটর পুরস্কার পান।

রেকডি জেনেটিক রিকম্বিনেশনের জিনের উদ্ভাবক আবেদ চৌধুরী

উদ্ভাবক আবেদ চৌধুরীআবেদ চৌধুরী আধুনিক জীববিজ্ঞানের প্রথম সারির গবেষকদের একজন। তিনি পড়াশোনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন স্টেট ইনিস্টিটিউট অফ মলিকুলার বায়লজি এবং ওয়াশিংটন স্টেটের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ ইনিস্টিটিউটে। 

১৯৮৩ সালে পি.এইচ.ডি গবেষণাকালে তিনি রেকডি নামক জেনেটিক রিকম্বিনেশনের একটি নতুন জিন আবিষ্কার করেন। যা নিয়ে আশির দশকে আমেরিকা ও ইউরোপে ব্যাপক গবেষণা হয়। তিনি অযৌন বীজ উৎপাদন (এফআইএস) সংক্রান্ত তিনটি নতুন জিন আবিষ্কার করেন।

যার মাধ্যমে এই জিনবিশিষ্ট মিউটেন্ট নিষেক ছাড়াই আংশিক বীজ উৎপাদনে সক্ষম হয়। তার এই আবিষ্কার এপোমিক্সিস এর সূচনা করেছে যার মাধ্যমে পিতৃবিহীন বীজ উৎপাদন সম্ভব হয়।

একজন বাঙ্গালী জিনবিজ্ঞানী, বিজ্ঞানলেখক এবং কবি। তিনি বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং ক্যানবেরা শহরে বসবাস করেন। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে শৈবাল ও অন্তরীক্ষ গ্রন্থটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে তার কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ। 

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট হেলথ, ম্যাসাচুসেটস ইনিস্টিটিউট অব টেকনলজি এবং ফ্রান্সের ইকোল নরমাল সুপিরিয়রের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। 

বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থায় একদল বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে গঠিত গবেষকদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অনেক পেশাদরী জার্নালে তাঁর লেখা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি সহজবোধ্য ভাষায় বাংলা ও ইংরেজিতে অনেক নিবন্ধ লিখেছেন।

সংকর ধাতুর উদ্ভাবক আব্দুস সাত্তার খান

আব্দুস সাত্তার খানতিনি নাসা ইউনাইটেড টেকনোলজিস এবং অ্যালস্টমে কাজ করার সময়ে ৪০টিরও বেশি সংকর ধাতু উদ্ভাবন করেছেন। এই সংকর ধাতুগুলো ইঞ্জিনকে আরো হালকা করেছে। যার ফলে উড়োজাহাজের পক্ষে আরো দ্রুত উড্ডয়ন সম্ভব হয়েছে। 

সেইসঙ্গে ট্রেনকে আরো গতিশীল করেছে। তার উদ্ভাবিত সংকর ধাতুগুলো এফ-১৬ ও এফ-১৭ যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন।

আব্দুস সাত্তার খান বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত মহাকাশ গবেষক। কর্মজীবনে তিনি নাসা, ইউনাইটেড টেকনোলজিসের প্র্যাট এন্ড হুইটনি এবং অ্যালস্টমে (সুইজারল্যান্ড) কাজ করেছেন। 

আব্দুস সাত্তারের গবেষণা এবং মহাকাশে তার প্রয়োগের জন্য তিনি নাসা, আমেরিকান বিমানবাহিনী, ইউনাইটেড টেকনোলজি এবং অ্যালস্টম থেকে অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ব্রিটেনের রয়েল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির একজন পেশাদার রসায়নবিদ এবং নির্বাচিত ফেলো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস