ত্বক নয় মার্বেলের মূর্তির উপর উল্কি এঁকেই বিখ্যাত তিনি

ঢাকা, বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৬ ১৪২৭,   ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ত্বক নয় মার্বেলের মূর্তির উপর উল্কি এঁকেই বিখ্যাত তিনি

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১০ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: ফাবিও ভিয়ালে

ছবি: ফাবিও ভিয়ালে

অনেকেই আছেন ত্বকে নানা রঙের নানা আকারের উল্কি বা ট্যাটু আঁকতে পছন্দ করেন। নায়ক, গায়ক, খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ট্যাটু করে থাকেন। এটা কারো নেশা অন্য কারো পেশা।

আমাদের দেশেও এর বেশ জনপ্রিয়তা। তবে ইতালির এক শিল্পী ত্বক নয়, মার্বেলের মূর্তির উপর উলকি এঁকে খ্যাতি অর্জন করেছেন। কম বয়সী ফাবিও ভিয়ালে কঠিন এই প্রক্রিয়া আয়ত্ত করে মার্বেলকে নতুন মাত্রা দিচ্ছেন। ট্যাটু বা উল্কি করা তেমন কষ্টের কাজ নয়। তেমন কোনো ব্যাথা ছাড়াই শরীরে এটি করা যায়। তারপরও ফোবিও কেন এই কাজ করেছেন তাও মানুষের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এক নারী মূর্তিতে করেছেন উল্কি  ফাবিও ভিয়ালে এই কাজে বিশেষ ধরনের রং, স্প্রে গান, ফাইল ও স্টিল উল ব্যবহার করেন। ইতালির উত্তরে টুরিন শহরে থাকেন। সেখানেই তিনি মার্বেলের ভাস্কর্যের উপর উল্কি আঁকেন। ফাবিও বলেন,মার্বেলের উপর উল্কি আঁকার মাধ্যমে আমার কাছে দুটি জগতের মেলবন্ধন ঘটছে। একটি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। অন্যটি নতুন আলোকে প্রাচীন ভাস্কর্যগুলোকে সবার সামনে তুলে ধরা। 

কারারা মার্বেল দিয়ে তৈরি হাতের মুঠোর দাম প্রায় ১২.০০০ ইউরোএক্ষেত্রে যতটা সম্ভব ছিদ্রে ভরা মার্বেল বেছে নিতে হয়, যেটি রং ভালো করে ধারণ করতে পারে। কেননা মসৃণ পাথরে রং করলে তা ত্বকে করা উল্কির মতো ডেখাবে না। কালির রং শুধু ভাস্কর্যের উপরিভাগেই সীমিত থাকে না।  ধারালো ছেনি দিয়ে সেই রংয়ের কিছু অংশ চেঁচে নিতে হয়। অতিরিক্ত রঞ্জক পদার্থ স্টিল উলের সাহায্যে সরিয়ে নেয়া হয়।

একটি মূর্তিতে উল্কি আঁকতে তার সময় লাগে প্রায় চার দিন মার্বেলের মূর্তির উপর উলকি বসানোর কাজ শেষ করতে প্রায় চার দিন সময় লাগে ফোবিওর।  তিনি টুরিন শহরে ভাস্কর্ষ নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আর ব্যবহারিক কাজ শিখেছেন কারারা অঞ্চলের বিখ্যাত উন্মুক্ত খাদে গিয়ে। 

বিখ্যাত একটি পাথরের উল্কি করা মূর্তি এটি
 মার্বেল দিয়ে ফাবিও ভিয়ালে চোখ ধাঁধানো সব বস্তু সৃষ্টি করেন। যেমন ‘ধন্যবাদ ও আবার দেখা হবে' নামের কাগজের ঠোঙা।  দেখলে মনে হবে, স্টাইরোফোম দিয়ে তৈরি একটি হাত।  প্লাস্টিকের ডাওয়েলও আসলে একটা ভাঁওতা।  কালো মার্বেল দিয়ে তৈরি ‘ব্ল্যাক ফিস্ট’ যেন চামড়া দিয়ে তৈরি।

ফাবিও সাদাসিদা মূর্তিগুলোতে দিয়েছেন রঙিন রূপ একটি গোটা মার্বেলের খণ্ড দিয়ে তিনি ফলের ঝুড়ি তৈরি করেন।‘আগালা’ নামের প্রায় ৬০০ কিলো ওজনের একটি নৌকাও তৈরি করেছেন ফাবিও।  এমন সব চমকের কারণে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে শহর থেকে শহরের বাইরেও। ফোবিওর মূর্তি প্রদর্শন করা গ্যালারির মালিক পিয়েত্রো গালিয়ার্দি বলেন, মার্বেল নিয়ে কাজ করে তিনি যে আনন্দ পান, তা স্পষ্ট টের পাওয়া যায়।  তবে তিনি বিশাল কোনো কীর্তির পথে না গিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই খেলাচ্ছলে সৃষ্টির কাজে মেতে ওঠেন।

ফাবিওর করা পাথরে উল্কি তারপর সেই পাথরের উপর উলকিও আঁকলেন তিনি।  কারারা মার্বেল দিয়ে তৈরি হাতের মুঠোর দাম প্রায় ১২.০০০ ইউরো।  ফাবিও ভিয়ালে ক্রেতাদের বায়না অনুযায়ী নয়, নিজের পছন্দমতো উলকি আঁকেন। যেমন মিলোর ভিনাসের উপর জাপানি চেরি ফুলের মোটিফ। তিনি বলেন,  আমি সবসময়ে ট্যাটু-টেমপ্লেট বেছে নিয়ে ভাস্কর্য ও মোটিফের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করি। সেই মোটিফ মার্বেলের উপর ফুটিয়ে তুলে তার প্রত্যেকটি রেখাকে ভাস্কর্যের আকৃতির সঙ্গে মানানসই করে তোলাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।

ফাবিও ভিয়ালে ত্বকে নয় উল্কি করেন মার্বেলের পাথরের মূর্তিতে ফাবিও প্রতিনিয়ত তার উলকির প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটিয়ে চলেছেন। অবশ্য তার নিজের ত্বকের উপর একটিও উলকি নেই। ফোবিও পাথরের সাদাসিদা মূর্তিগুলোতে আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়েছেন। তিনি সবসময় চেয়েছেন সাধারণের মাঝে নতুনত্ব আনতে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে