অর্থের বিনিময়ে মৃত ব্যক্তির না বলা কথা জানান তিনি
পৃথিবীতে জ্যোতিষশাস্ত্রের চর্চা বেশ অনেকখানিজুড়ে। শিরনাম পড়ে হয়তো তেমনই কারো কথা ভাবছেন। তবে না, তিনি কোনো জ্যোতিষী নন। ৫২ বছর বয়সী বিল এডগার মৃত ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করেন। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হাজির হয়ে তিনি তাদের হয়ে লোকজনের কাছে অপরাধের কথা স্বীকার করেন।
এজন্য তাকে নানা ধরনের সমস্যাও পোহাতে হয়। তবে এখন এই কাজ করাটাই তার জীবিকা নির্বাহের উপায়। তিনি একজন 'কফিন কনফেসর', যার অর্থ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার একটা নির্দিষ্ট সময়ে উঠে দাঁড়িয়ে খামের ভেতর থেকে একটা কাগজ বের করেন এবং কফিনে শায়িত লোকটির না বলা কথাগুলো সেখান থেকে পাঠ করেন।
এজন্য তিনি নেন প্রায় ১০,০০০ অস্ট্রেলিয় ডলার। ভাবছেন এমন একটি কাজের কথা কীভাবে মাথায় আসল এডগারের। বিলের মাথায় যখন এই কাজটি করার আইডিয়া আসে তখন তিনি অস্ট্রেলিয়াতে মৃত্যুপথযাত্রী এক রোগীর ব্যক্তিগত গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করছিলেন।
মৃত্যুর বিষয়ে আমরা কথাবার্তা বলতাম, মৃত্যুর পর জীবন কেমন হবে - এধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো। একদিন তিনি বললেন, 'আমি আমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য কিছু করতে চাই।' আমি তখন তাকে ওই অনুষ্ঠানে নিজের সম্পর্কে নিজের প্রশংসা করার ধারণা দেই।
আরো পড়ুন: বাংলার এই বিশ্বাসঘাতক ছিলেন শ্রেষ্ঠ ব্যাংকার, দেউলিয়া হতেও সময় লাগেনি
কিন্তু লোকটি তখন বলেন যে শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে তিনি যেসব কথা বলতে চান সেগুলো তার পরিবার ও বন্ধুরা পছন্দ করবে না। ফলে তারা সম্ভবত তার লিখে যাওয়া বার্তা পাঠ করা থেকে বিরত থাকবেন অথবা তারা রেকর্ড করা অন্য কিছু বাজাবেন। তখন আমি তার হয়ে এই কাজটা করার প্রস্তাব দেই। আর এভাবেই কাজটা শুরু হয়ে গেল।
অর্থের বিনিময়ে তিনি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে হাজির হন, তার আগে মৃতদেহের পাশে সারা রাত ধরে বিলাপ করেন, উইল পাঠ করে শোনান এবং মৃত ব্যক্তির বাড়ি থেকে স্পর্শকাতর জিনিসপত্র সবার অগোচরে সরিয়ে নেন। যেকোনো জিনিস হতে পারে যেমন- ড্রাগ, বন্দুক, অর্থ।
একবার তিনি এরকম এক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বক্তব্য রাখছিলেন। তখন মৃত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু হঠাৎ করে তার কথা থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। তখন এডগার তাকে চুপ করে বসতে বলেন। এরপর তার বন্ধু যেসব কথা বলে গেছে, তা বলতে শুরু করেন। সেই ব্তিযক্নিতি ছিলেন মৃত ব্যক্তির বন্ধু। সেই ব্যক্তি যখন মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন তখন এই ঘনিষ্ঠ ওই বন্ধু তার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করার ব্যাপারে তাকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
বিল জানান, এর পর ওই ব্যক্তি সুর সুর করে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে চলে যান। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে আরো কয়েকজন ব্যক্তিকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
বিল এডগারের কাজ কেমন হয়েছে সে বিষয়ে তার ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে ফিডব্যাক, রিভিউ কিংবা অভিযোগ পাওয়া সম্ভব নয়। তবে বিল বলেন, বিষয়টা যে খুব ভালো তা নয়, তবে এটা তো তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। ফলে তারা যেভাবে এই পৃথিবী থেকে চলে যেতে চান, সেভাবেই যেতে পারবেন।
এডগারের কাছে বেশিরভাগ মানুষ আসেন তাদের গোপন কথাগুলো বলতে। আর তাকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে যারা নিতে আসেন। তাদের বেশিরভাগই আসেন মৃতব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ কাগজ, দলিল কিংবা অর্থের সন্ধান পেতে। একবার এক নারী তার কাছে এসেছিলেন, তার স্বামীর সম্পত্তির খবরা খবর জানতে।
আরো পড়ুন: সিরাজউদ্দৌলার অবৈধ সেই সন্তান আজ কোথায়?
অনেকেই শেষ যাত্রায় তার পছন্দের মোবাইল ফোন সঙ্গে নিতে চান। কেউবা খাবার, পানীয়, অ্যালকোহল, সিগারেট নিতে চান। একবার নাকি এক নারী এসেছিলেন। তিনি শেষ যাত্রায়ও অন্তর্বাস পরতে চান, একথা বলতে।
এডগার এ পর্যন্ত প্রায় ২২০০ মৃত ব্যক্তির না বলা কথা জানিয়েছেন। তবে আগে যখন তখন যেকোনো জায়গায় তিনি যেতে পারেন তবে এখন আগে থাকেই বুকিং দিয়ে রাখতে হয়। না এমন নয় যে আপনার মৃত্যুর দিনের বুকিং। আসলে বুকিং বলতে নিজের না বলা কথা বা ইচ্ছা আপনি আগে থাকেই এডগারকে জানিয়ে আসবেন। তারপর আপনি মারা যাওয়ার পর এডগার আপনার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলে আসবে। এজন্য আপনাকে পুরো টাকাটা কিন্তু আগেই দিতে হবে।