যে দুই বাঙালি বিজ্ঞানীর হাত ধরে পৃথিবী বদলেছে

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাংলাদেশে জন্ম নেয়া বিজ্ঞানীরা

যে দুই বাঙালি বিজ্ঞানীর হাত ধরে পৃথিবী বদলেছে

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৯ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: জগদীশ চন্দ্র বসু ও ডাক্তার শাহ এম ফারুক

ছবি: জগদীশ চন্দ্র বসু ও ডাক্তার শাহ এম ফারুক

এ দেশের মাটিতে জন্ম নেয়া অনেক বাঙালি বিজ্ঞানী মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পরিবর্তনশীল পৃথিবীকে সুন্দর করে সাঁজাতে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের অবদানও কম নয়। তাদের অবদান সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই সম্যক ধারণা নেই। 

পরিচিত এবং অপরিচিত ২১ জন বাঙালি বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে আমাদের সাত পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব। এই পর্বে তুলে ধরা হবে বিজ্ঞানের একজন অমর প্রতিভা জগদীশ চন্দ্র বসু ও কলেরার কারণ আবিষ্কার ডাক্তার শাহ এম ফারুকের অসামন্য অবদান সম্পর্কে-

আরো পড়ুন: আঠালো ভাতে তৈরি চীনের মহাপ্রাচীর! রইল আরো মজার তথ্য

বৈজ্ঞানিক জগদীশ চন্দ্র বসুর অবদান মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি একাধারে পদার্থবিজ্ঞান এবং উদ্ভিদবিদ্যায় অসামান্য অবদান রেখে শুধু বাঙালির ইতিহাসে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও স্বর্ণাক্ষরে নিজের নাম লিখেছেন।

জগদীশ চন্দ্র বসুজগদীশ চন্দ্র বসু

বিজ্ঞানের একজন অমর প্রতিভা জগদীশ চন্দ্র বসু প্রথম মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির ওপর সফল গবেষণা করেন যার ফলশ্রুতিতে আবিষ্কৃত হয় রেডিও। তার উল্লেখযেযাগ্য আবিষ্কারের মধ্যে রয়েছে মাইক্রোওয়েভ রিসিভার ও ট্রান্সমিটারের উন্নয়ন এবং ক্রেসকোগ্রাফ যন্ত্র যা দিয়ে গাছের বৃদ্ধি নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা যায়। উদ্ভিদের জীবনচক্র তিনি প্রমাণ করেছিলেন।

জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্ম ১৮৫৮ সালের ৩০শে নভেম্বর ময়মনসিংহে। তার পরিবারের আদি বাসস্থান ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে বিক্রমপুরের রাঢ়িখালে।

আরো পড়ুন: রহস্যময় সব মন্দির, কোনোটির ছাদ নেই আবার কোনোটি ভেসে রয়েছে পানিতে

তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ফরিদপুরের একটি স্কুলে। এরপর ১১ বছর বয়সে তিনি কলকাতা চলে যান এবং সেখানে সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৮৭৫ সালে এন্ট্রাস পাশ করেন। 

বিজ্ঞানের স্নাতক হন তিনি ১৮৭৯ সালে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান ইংল্যাণ্ডে। ইংল্যাণ্ডের কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বিষয়ে বি.এ. পাশ করেন। ১৮৮৪ সালে লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি. ডিগ্রি লাভ করেন।

জগদীশ বসুর প্রায় সমসাময়িক ইতালীয় বিজ্ঞানী গুগলিয়েমো মার্কনি একই সময়ে বৈদ্যুতিক চুম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে শব্দ তরঙ্গ পাঠাতে সফল হয়েছিলেন। কিন্তু জগদীশ বসু তার আবিষ্কারকে নিজের নামে পেটেন্ট না করায় বেতার আবিষ্কারের জন্য স্বীকৃত দাবিদার হন মার্কনি।

জগদীশ চন্দ্রের আবিষ্কারইংল্যাণ্ড থেকে স্বদেশে ফেরার পর তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন। বৈদ্যুতিক তরঙ্গের ওপর তার গবেষণার কাজ তিনি শুরু করেন ১৮৯৪ সালে। এর ফলশ্রুতিতে ১৮৯৬ সালে লণ্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অফ সায়েন্স উপাধি পান।

জগদীশ চন্দ্র বসুকে বলা হয় ভারতীয় উপমহাদেশে বিজ্ঞান চর্চ্চার জনক। বাংলাদেশের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা মনে করেন, বেতার যন্ত্রের প্রথম উদ্ভাবক হিসাবে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

যদিও বেতারের আবিষ্কারক হিসাবে বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন মার্কনি। কারণ জগদীশ বসু এটার আবিষ্কারকে নিজের নামে পেটেন্ট করেননি। এ কারণেই এই আবিষ্কারের জন্য তার দাবি স্বীকৃত হয়নি বলে জানান দ্বিজেন শর্মা।

আরো পড়ুন: পবিত্র এই দ্বীপে নারীরা নিষিদ্ধ, পুরুষরা থাকেন উলঙ্গ

বেতার কাজ করে বৈদ্যুতিক চুম্বক তরঙ্গের ভিত্তিতে, যে তরঙ্গ নিয়ে জগদীশ বসু গবেষণা করেছিলেন। যদিও তার সময়কালে ও পূর্বে এই তরঙ্গ নিয়ে গবেষণার কাজ করছিলেন মার্কনিসহ বিভিন্ন দেশে একাধিক বিজ্ঞানী। 

তবে কলকাতার বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বসু বিজ্ঞান মন্দিরের গবেষক ড. দিবাকর সেনের বর্ণণায়, জগদীশ বসুই প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ বা মাইক্রোওয়েভ বলে জানা যায়।

সামনের সারিতে বাঁদিকে মেঘনাদ সাহা, মাঝখানে জগদীশ বসু, পেছনের সারিতে বাঁদিক থেকে দ্বিতীয় সত্যেন্দ্রনাথ বোসলন্ডনের রয়্যাল ইন্সটিটিউশনে মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গের ব্যবহার প্রথম উপস্থাপন করার তিন বছর পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে জগদীশ বসু তার আবিষ্কৃত হর্ন অ্যান্টেনা কীভাবে কাজ করে তা প্রদর্শন করেন।

তার মাইক্রোওয়েভ আবিষ্কারের ব্যাপারটা ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আজকের দিনে মহাকাশ বিজ্ঞানে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে, টেলিভিশন সম্প্রচারে এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে মাইক্রোওয়েভ কাজে লাগে। কম্যুনিকেশনের (যোগাযোগ) ক্ষেত্রে আরও বিশেষ করে এই তরঙ্গ কাজে লাগে।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় যখন সাবমেরিন ও রাডার এলো, তখন মানুষ বুঝতে পারল এই মাইক্রোওয়েভের গুরুত্ব কতটুকু? তিনি যখন এই আবিষ্কার করেছিলেন, তখন তার কোনো ব্যবহারিক প্রয়োগ ছিল না। 

মার্কনি এবং তদানীন্তন বিজ্ঞানীরা যোগাযোগের জন্য যে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ব্যবহার করেছিলেন তা তারা করেছিলেন লঙ্গার ওয়েভ (দীর্ঘ তরঙ্গ) ব্যবহার করে- মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে নয়।

আরো পড়ুন: সৌদির শীর্ষ ধনকুবের, সব অর্থই দান করেছেন আল্লাহর পথে

অর্থাৎ জগদীশ বসুর আবিষ্কার ছিল অতি ক্ষুদ্র বেতার তরঙ্গ, যার থেকে তৈরি হয়েছে আজকের মাইক্রোওয়েভ। যা পরবর্তীতে সলিড স্টেট ফিজিক্স-এর বিকাশে সাহায্য করেছিল। পরে তিনি পদার্থ বিজ্ঞানের আরও গুরুত্বপূর্ণ নানা আবিষ্কার করেন যেমন- ডিটেক্টর, রিসিভার ইত্যাদি।

চৌকো মুখ ফানেল আকৃতির একটি হর্ন অ্যান্টেনা তিনি আবিষ্কার করেছিলেন। যা আজ বিশ্বে যুদ্ধকালীন যোগাযোগ, বা রাডার যোগাযোগের জন্য অপরিহার্য। এছাড়াও অনেক ধরনের রিসিভার উনি তৈরি করেছিলেন যা আজো বহুল ব্যবহৃত।

আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের অত্যন্ত দুরূহ বিষয়ে তার আবিষ্কার নিয়ে ইংল্যাণ্ডে বক্তৃতা দিয়ে বিশ্ব-খ্যাত বহু বিজ্ঞানীকে চমকে দিয়েছিলেন জগদীশ চন্দ্র বসু। লন্ডনের একটি দৈনিক পত্রিকা ডেইলি এক্সপ্রেস তাকে গ্যালিলিও-নিউটনের সমকক্ষ বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি দিয়েছিল।

জগদীশ চন্দ্র বসুগাছকে আঘাত করলে গাছ কীভাবে সাড়া দেয়, সেটা জগদীশ বসু যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করে দেখান। যা ছিল উদ্ভিদ বিজ্ঞানের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা আবিষ্কার। তবে পদার্থ বিজ্ঞানে এমন অসাধারণ অবদান সত্ত্বেও জগদীশ চন্দ্র বসু সারা বিশ্বে খ্যাতিলাভ করেছিলেন উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিসেবে।

যদিও জগদীশ চন্দ্র বসু আদৌ উদ্ভিদবিজ্ঞানী ছিলেন না। তবে ওয়্যারলেস রিসিভিং ইন্সট্রুমেন্ট (তার-বিহীন গ্রাহক যন্ত্র) নিয়ে কাজ করতে করতে তিনি একটা অদ্ভুত জিনিস দেখলেন।

তিনি দেখেন, একটি টিনের তারকে মোচড় দিলে তার ভেতরে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মাত্রায় যেমন বিদ্যুত তরঙ্গ তৈরি হয়, তেমনই আঘাত করলে গাছের ভেতরেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। একই ঘটনা ঘটে প্রাণীদেহেও। 

বিজ্ঞানী তখন প্রশ্ন তুললেন তাহলে জীবনের সংজ্ঞা কী হবে? এবং এখান থেকেই জন্ম নিল আধুনিক জৈব-পদার্থ বিজ্ঞান। জনপ্রিয় ধারণা হলো, এই বিজ্ঞানী সবার আগে আবিষ্কার করেছিলেন গাছপালার প্রাণ আছে। 

জানা যায়, অতি প্রাচীনকাল থেকে ভারতবর্ষের মানুষ বিশ্বাস করতো গাছ একটা জীবন্ত স্বত্ত্বা। একই বিশ্বাস ছিল অ্যারিস্টটলেরও। তাহলে জগদীশ বসুর আবিষ্কারে নতুনত্ব কোথায় ছিল?

গাছের যে প্রাণ আছে তার কিছু স্থূল লক্ষ্মণ সম্পর্কে মানুষ জানত। যেমন- গাছ জন্ম নেয়, বড় হয়, একদিন মরেও যায়। তবে বাইরের কোনো উদ্দীপক বস্তু ব্যবহার করলে বা গাছকে আঘাত করলে গাছ কীভাবে সাড়া দেয়? সেটা জগদীশ বসু যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করে দেখান। যা উদ্ভিদ বিজ্ঞানের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা আবিষ্কার।

গাছের প্রাণ আছে তিনিই প্রমাণ করেনগাছের সাড়া দেয়ার বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করতে জগদীশ বসু সূক্ষ্ম সব যন্ত্র তৈরি করেন। আর সেসব সাধারণ কারিগর দিয়েই তিনি তৈরি করেছিলেন। যেগুলো কলকাতার বসু বিজ্ঞান মন্দিরে সংরক্ষিত রয়েছে।

এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছিলেন তিনি যা দিয়ে দেখিয়েছিলেন একটা গাছ এক সেকেণ্ডে কতটা বাড়ে। তার আবিষ্কৃত ক্রেসকোগ্রাফ যন্ত্র উদ্ভিদদেহের সামান্য সাড়াকে লক্ষগুণ বৃদ্ধি করে প্রদর্শনের ক্ষমতা রাখত।

তার গবেষণা জড় ও জীব জগত সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলে দিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, জড় এবং জীব জগতের মধ্যে পার্থক্য খুবই সামান্য। এতই সামান্য যেখানে জড় পদার্থ জীবের মতো আবার জীব জড় পদার্থের মত ব্যবহার করে।

জগদীশ বসু ১৮৯৯ থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত জীব ও জড় বস্তুর প্রতিক্রিয়ার ওপর গবেষণার কাজ করেছিলেন। জানা যায়, জগদীশ চন্দ্র বসু ভারতে বিজ্ঞান চর্চ্চা ও গবেষণার প্রসার ঘটাতে কলকাতায় ১৯১৭ সালে যে বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেটি সম্ভবত ভারতের অন্যতম সবচেয়ে প্রাচীন বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র।

এই কেন্দ্রটি ভারতের বহু নামকরা বিজ্ঞানীকে গবেষণার কাজে অনুপ্রাণিত করেছিল। যেমন- সিভি রামান, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বোস, প্রফুল্ল চন্দ্র রায় প্রমুখ। 

জগদীশ চন্দ্র বসু সবার আগে বিজ্ঞান বিষয়ে বাংলায় লিখেছিলেন, যা এখনো বাংলা ভাষায় লেখা আদর্শ বিজ্ঞান বিষয়ক বই হিসাবে বিবেচিত। বিজ্ঞানও যে একটা সংস্কৃতি সেটা প্রমাণ করে গেছেন জগদীশ চন্দ্র বসু, বলেছেন ড. দ্বিজেন শর্মা, তিনি আমাদের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানে তার অবদান সেই অর্থে একটা বিরাট মূল্যবান সাংস্কৃতিক অবদান।

জগদীশ চন্দ্র বসু মারা যান কলকাতায় ১৯৩৭ সালের ২৩শে নভেম্বর। মুন্সীগঞ্জের রাঢ়িখালে তার পৈত্রিক বাড়িটি ১৯৯৪ সালে একটি স্কুল ও কলেজে পরিণত করা হয়। যার বর্তমান নাম সার জগদীশ চন্দ্র বসু ইন্সটিটিউশন ও কলেজ। 

কলেজ ভবনটির ঠিক মাঝখানে অবস্থিত একতলা বাড়িটি হচ্ছে জগদীশ চন্দ্র বসুর আদি বাড়ি। বাড়িটিতে জগদীশ চন্দ্র বসুর স্মৃতি রক্ষার্থে তার ছবি, লেখা চিঠি ইত্যাদি দিয়ে একটি সংরক্ষণাগার তৈরি করা হয়েছে।

ডাক্তার শাহ এম ফারুকডাক্তার শাহ এম ফারুক

ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে কীভাবে মারাত্মক কলেরা হয় তার কারণ আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশের এক বিজ্ঞানী। আন্তর্জাতিক কলেরা রোগ গবেষণা কেন্দ্র বা আইসিডিডিআরবি’র আণবিক জেনেটিক্স বিভাগের প্রধান ডাক্তার শাহ এম ফারুক ও তার গবেষণা দল এ আবিষ্কার করেন। 

বিশ্বব্যাপী কলেরার কারণ হিসেবে নতুন ধরণের ব্যাকটেরিয়াকে দায়ী বলে ধারণা করা হত। তবে গবেষক দলটি প্রমাণ করে দিয়েছে, ‘ভিবরিও’ নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে মানুষ আক্রান্ত হয় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ গবেষণায় মাধ্যমে দেখানো হয়, কীভাবে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া ভিবিরিও’র সংস্পর্শে এসে একে আরো কার্যকরী বা শক্তিশালী করে তোলে।

ডাক্তার শাহ এম ফারুক ২০০৫ সালে উন্নয়নশীল দেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে চিকিৎসা বিজ্ঞানে (TWAS Prize-2005) সর্বোচ্চ পুরুষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে এই স্বীকৃতি অর্জনের নেপথ্যে রয়েছে সায়েন্টিফিক জার্নালের পাবলিকেশন। 

তিনি এ পর্যন্ত বিশ্বমানের ১০০’র উপরে পিয়ার রিভিউড গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। তার গবেষণার মান পৃথিবীর বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় যেমন- হার্ভার্ড, কেমব্রিজের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিজ্ঞানীদের সঙ্গে তুলনীয়। সম্প্রতি (২০১০) তার গবেষণালব্ধ তথ্য বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা সায়েন্টিফিক জার্নাল নেচার এ প্রকাশিত হয়েছে। পরের পর্বটি পড়তে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গেই থাকুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস