রহস্যময় সব মন্দির, কোনোটির ছাদ নেই আবার কোনোটি ভেসে রয়েছে পানিতে

ঢাকা, রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১০ ১৪২৭,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

রহস্যময় সব মন্দির, কোনোটির ছাদ নেই আবার কোনোটি ভেসে রয়েছে পানিতে

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২০ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: সূর্য মন্দির

ছবি: সূর্য মন্দির

সমগ্র ভারতবর্ষই যেন রহস্যের আঁতুরঘর! হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত এমন সমস্ত রহস্য লুকিয়ে রয়েছে যা জানলে অবাক হবেন। ভারতে অনেক মন্দির ছড়িয়ে আছে পুরো দেশে যাদের সুন্দর পরিকল্পনা এই দেশের স্থাপত্যকৌশলের সৌন্দর্য কে তুলে ধরে। 

তবে এমন কিছু মন্দির আছে যাদের স্থাপত্যতে সামান্য হলেও অস্বাভাবিকতা রয়েছে। তেমনি কয়েকটি মন্দিরের রহস্য নিয়ে থাকছে আজকের লেখা। এসব মন্দিরের পরতে পরতে রয়েছে অজানা আর বিস্ময়ের গন্ধ।
 
কোনারকের সূর্য মন্দির

সূর্য মন্দিরশিল্পনৈপুণ্য ও সৃষ্টিশীলতা আজও মানুষকে মুগ্ধ করে এই মন্দির। কলিঙ্গ রীতিতে তৈরি মন্দিরের চূড়াগুলো পিরামিড আকৃতির। একটি রথের মতো দেখতে মন্দিরটি। যার ২৪টি চাকা টানার জন্য রয়েছে ৭টি ঘোড়া। শোনা যায়, মন্দিরের যে অংশটি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল তাতে ৫২ টনের একটি চুম্বক ছিল। যার প্রভাবে মূল বিগ্রহটি শূন্যে থাকত। আর মন্দিরের চাকাগুলি এভাবে তৈরি যাতে সূর্যের আলোয় পড়া ছায়ার সূত্র ধরে সময় নির্ধারণ করা যায়।

বৃহদীশ্বর মন্দির

বৃহদীশ্বর মন্দিরদক্ষিণ ভারতের চোল সাম্রাজ্যের অন্যতম নিদর্শন। আয়তনে নিরিখে এটি ভারতে সপ্তম বৃহত্তম হিন্দু মন্দির। প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন গ্রানাইট পাথর দিয়ে মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছে। একটি বিশাল নন্দীর মূর্তি রয়েছে। যা একটিই গ্রানাইট পাথর খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে। মন্দিরটির শৃঙ্গ ৬৬ মিটার উঁচু। যেখানে ৮০ টনের একটি খোদাই করা পাথর রয়েছে। হাজার বছর আগে কীভাবে ওই পাথরটি সেখানে পৌঁছনো হয়েছিল তা আজও রহস্য।

বীরভদ্র মন্দির

বীরভদ্র মন্দির শৈলির কারুকাজ করা রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের এই মন্দিরে। বিশাল এই মন্দিরের সৌন্দর্য যেমন মুগ্ধ করে তেমনই আশ্চর্য করে এর রহস্য। মন্দিরে প্রায় ৭০টি স্তম্ভ রয়েছে। একটি পাশের স্তম্ভগুরেঅ ভূমি স্পর্শ করে না। মন্দির থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি নন্দীর মূর্তি আছে। একটি পাথর খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে সেটি। মন্দিরে একটি বিশাল পায়ের ছাপ রয়েছে। যা দিয়ে অনবরত জল প্রবাহিত হয়। জনশ্রুতি সেটি নাকি হনুমানের পায়ের ছাপ।

পদ্মনাভস্বামী মন্দির

পদ্মনাভস্বামী মন্দির বিশ্বের ধনীতম মন্দিরের তালিকায় পড়ে এই মন্দিরটি। এর ভিতরে রহস্যময় ছয়টি ভল্ট রয়েছে। ২০১১ সালে ইন্ডিয়ান সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পাঁচটি ভল্ট খোলা হয়। প্রচুর পরিমাণে সোনা, রত্ন, প্রাচীন মূর্তি পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে ছয় নম্বর ভল্টটি খোলা সম্ভব হয়নি। ভল্টের দরজায় সাপের প্রতিকৃতি রয়েছে। যার মনের শক্তি সবচেয়ে বেশি এমন মানুষই নাকি গরুড় মন্ত্রের মাধ্যমে দরজাটি খুলতে পারবেন।

কৈলাস মন্দির

কৈলাস মন্দিরমহারাষ্ট্রের ইলোরা গুহায় অবস্থিত এই মন্দিরটি। একটি মাত্র পাথর খোদাই করে বিশাল এই মন্দিরটি তৈরি হয়েছে। শোনা যায়, মন্দিরটি তৈরি করতে ১৮ বছর লেগেছিল। এর আয়তন তাজমহলের সমান।

ভেক্কালি অম্মান মন্দির 

ভেক্কালি অম্মান মন্দির তামিল নাড়ুতে অবস্থিত এই মন্দিরের মূর্তির ঘরে কোনো ছাদ নেই। জানা গেছে, অনেকবার চেষ্টা করার পরও মূর্তির ঘরে কোনো ছাদ দেয়া যায়নি। যার ফলে ভগবান বর্তমানে সূর্যের আলোতে বসে আছেন।

শিব মন্দির, বারানসী 

শিব মন্দির, বারানসী উত্তর প্রদেশের বারানসীতে এই মন্দির প্রায় ১৫০ বছর আগে তৈরী করা হয়। এটি অন্যতম পবিত্র মন্দির বলে বিবেচিত। ১৮৩০ সালে এই মন্দির সিন্ধিয়া ঘাট তৈরি সময় পানিরে জোয়ারে পড়ে যায়। তখন থেকেই মন্দিরটি অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় গঙ্গায় ডুবে আছে।

স্তম্ভেশ্বর মহাদেব মন্দির

স্তম্ভেশ্বর মহাদেব মন্দিরগুজরাটের এই ১৫০ বছরের পুরনো শিব মন্দিরটি আরব সাগর এবং বে অব কেম্বয়ের সঙ্গমস্থল স্থিত। এখানে শুধু সকালবেলাতে বা ভাটার সময় যাওয়া যায়। জোয়ারে এটি ডুবে যায় তাই এটি অদৃশ্য মন্দির নামে জনপ্রিয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস