পবিত্র এই দ্বীপে নারীরা নিষিদ্ধ, পুরুষরা থাকেন উলঙ্গ

ঢাকা, রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১০ ১৪২৭,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পবিত্র এই দ্বীপে নারীরা নিষিদ্ধ, পুরুষরা থাকেন উলঙ্গ

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৭ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৩৪ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: জাপানের ওকিনোশিমা দ্বীপ

ছবি: জাপানের ওকিনোশিমা দ্বীপ

জাপানের ছোট্ট দ্বীপ ওকিনোশিমা। জাপানের দক্ষিণ-পূর্বের চারটি বড় দ্বীপের অন্যতম কিয়ুসুর উত্তর-পশ্চিম উপকূলে রয়েছে এই ওকিনোশিমা দ্বীপ। প্রাচীনকাল থেকেই বহির্বিশ্বের সঙ্গে জাপানের বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ওই দ্বীপপুঞ্জ থেকেই চীন ও কোরীয় ভূখণ্ডের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী রাস্তা রয়েছে। ওকিনোশিমায় রয়েছে একটি মন্দির। নাম মুনাকাতা তাইশা। 

যে দ্বীপে এই মন্দিরটি রয়েছে সেখানেই নারীরা নিষিদ্ধ। এই দ্বীপকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণার সুপারিশ করেছে ইউনেস্কো। ওকিনোশিমা নামে দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের এই দ্বীপটিকে ‘এতটাই পবিত্র বলে মানা হয়’ যে সেখানে শুধু পুরুষরাই যেতে পারবেন, নারীদের পা ফেলতেই দেয়া হয় না সেখানে। জাহাজের নিরাপদ যাত্রার জন্য এখানে নানা রকমের আচার অনুষ্ঠান পালিত হতো। এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে এখনো নানা রকমের নিষেধাজ্ঞা চালু আছে।

জাপানের ওকিনোশিমা দ্বীপএর একটি হচ্ছে, এ দ্বীপে নারীরা যেতে পারবেন না। তবে ছাড় রয়েছে পুরুষ দর্শনার্থীদের ক্ষেত্রে। পুরুষরা নগ্ন হয়ে সমুদ্রে স্নান করে তবেই সেখানকার ধর্মস্থানে প্রবেশ করতে পারেন। ওকিনোশিমায় থাকেন এক পুরোহিত। তিনিই ওই দ্বীপে অবস্থিত মন্দিরের দেবীর উপাসক। কয়েক শতাব্দী ধরেই এই প্রথা চলে আসছে। তবে ২০১৯ সাল থেকে আর জাপানের ওকিনোশিমা দ্বীপে ঢুকতে পারে না কোনো দর্শনার্থী। এই কথা ঘোষণা করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। তারাই গোটা ওকিনোশিমা দ্বীপটির দেখভাল করেন। প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী এই দ্বীপটি বাঁচাতেই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।

আগেও চাইলেই ওই দ্বীপে পুরুষরা প্রবেশ করতে পারতেন না। সব সময়ই সীমিত সংখ্যক দর্শনার্থীর জন্যই খোলা হতো মন্দির। চলতি বছরে এক উৎসবের সময় মাত্র দু’ঘণ্টার জন্য ২০০ জন পুরুষ সেখানে ঢুকতে পেরেছিলেন। তবে মন্দির কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এভাবে মানুষ দ্বীপে ঢুকতে থাকলে, খুব শীঘ্রই ওই দ্বীপ আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।

মন্দিরটিমন্দিরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরের বছর থেকে পুরোহিত ছাড়া বাকি সকলের জন্য বন্ধ করা হচ্ছে দ্বীপের দরজা। মুখপাত্র বলেন, ‘ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত হওয়ায় দ্বীপের সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে আরো কঠোর হওয়া প্রয়োজন। ২০০ জন মানুষ এলেও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।’ তবে তিনি জানিয়েছেন, গবেষণা বা সংরক্ষণসংক্রান্ত কাজের জন্য ওই দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া যাবে।

তবে সেটাও সীমিত সময়ের জন্য। দ্বীপে পা রাখার আগে পুরুষদের সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে সমুদ্রে স্নান করে নিজেদের শুদ্ধ করে নিতে হয়। বছরে মাত্র একটি দিন ২৭ মে, মোট ২০০ জন পুরুষকে এই দ্বীপে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। তবে এই দ্বীপ থেকে ফেরার সময় কোনো স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ, একটি ঘাসের টুকরোও নয়। তাছাড়া এ দ্বীপে যাওয়ার বিবরণ তারা কাউকে কখনো বলতে পারবেন না। মন্দিরের এক পুরোহিত জানিয়েছেন, পূর্ব নির্ধারিত সংখ্যার বেশি দর্শনার্থীদের এখানে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। 

নারীদের জন্য নিষিদ্ধ এই দ্বীপবছরের বাকি দিনগুলো মন্দিরের দরজা খোলা থাকে শুধু শিন্টো পুরোহিতদের জন্যই। বেশি মানুষের উপস্থিতি এই দ্বীপের শান্তি ও ঐতিহ্যের পক্ষে ক্ষতিকর বলেই মনে করেন তিনি। ইউনেস্কোর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নারীরা যেহেতু গর্ভবতী হন, তাই তাদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দ্বীপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শিন্টো পুরোহিতেরা। বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা পেলেও ওকিনোশিমা দ্বীপের দরজা নারীদের জন্য নিষিদ্ধই থেকে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মন্দির ছাড়াও দ্বীপটিতে হাজারেরও বেশি সোনার আংটি এবং মূল্যবান সম্পদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। মন্দিরের দায়িত্বে থাকা মুনাকাতা তাশিয়া গোষ্ঠীর এক পুরোহিতের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেশের উন্নতি ও নাবিকদের সুরক্ষার জন্য মন্দিরের দেবীর কাছে এই রত্নগুলো উৎসর্গ করার চল ছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস