‘বাংলার ব্যাংক’ জগৎ শেঠ কতটা ধনী ছিলেন?

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৮ ১৪২৭,   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

‘বাংলার ব্যাংক’ জগৎ শেঠ কতটা ধনী ছিলেন?

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১১ ৬ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৫:২৭ ৬ আগস্ট ২০২০

ছবি: জগৎ শেঠ ও তার বাড়ি

ছবি: জগৎ শেঠ ও তার বাড়ি

নবাবী আমলে তিনি নবাবদেরকে টাকা ধার দিতেন। এমনকি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তথা ইংরেজদেরকেও অর্থ ধার দিতেন। এবার ভেবে দেখুন যার কথা বলছি তিনি কতটা ধনী ছিলেন? বলছি পলাশী যুদ্ধের অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী জগৎ শেঠের কথা। তখনকার সময় পুরো বাংলার আর্থিক লেনদেনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল জগৎ শেঠের বাড়ি। আজকের লেখায় থাকছে এই বাড়ির ইতিহাস ও জগৎ শেঠের কলঙ্কিত কর্মকাণ্ড।

মুর্শিদাবাদের প্রতিটি পথ, ঘরবাড়ি, ইট, কাঠ, পাথরসহ ধূলিকণা সবকিছুই যেন সেখানকার ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। মুর্শিদাবাদের নৈশিপুরেই রয়েছে জগৎ শেঠের বাড়ি। কাঠগোলা বাগানের গোপন সুড়ঙ্গপথটি নাকি জগৎ শেঠের বাড়ি পর্যন্ত চলে গেছে। জগৎ শেঠের বাড়ির নাম ‘হাউজ অব জগৎ শেঠ’। আজকের প্রতিবেদনে সেই রহস্যও জানানো হবে। তবে তার আগে জেনে নেয়া যাক জগৎ শেঠ সম্পর্কে।

জগৎ শেঠ পরিচিতি

জগৎ শেঠ বাংলার অত্যন্ত ধনী ব্যাংকার। তার নাম ছিল ফতেহ চাঁদ। ১৮ শতকের প্রথমার্ধে ‘জগৎ শেঠ’ বা বিশ্বের ব্যাংকার উপাধি প্রদান করা হয় তাকে। জগৎ শেঠ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মানিক চাঁদ। তিনি ১৮ শতকের প্রথম দিকে পাটনা থেকে ঢাকা আসেন এবং একটি বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বাংলার দেওয়ান মুর্শিদকুলী খান তার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। এরপর মানিক চাঁদ তার সঙ্গে নতুন রাজধানীতে চলে যান। মুর্শিদাবাদে তিনি ছিলেন নবাবের খুবই প্রিয়ভাজন। পরবর্তীতে নবাবের ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টার পদ লাভ করেন মানিক চাঁদ। 

জগৎ শেঠের বাড়ির গেইট১৭১২ সালে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণের পরপরই সম্রাট ফররুখ সিয়ার ‘নগর শেঠ’ (নগরের ব্যাংকার) উপাধি প্রদান করে মানিক চাঁদকে সম্মানিত করেন। জগৎ শেঠ মূলত একটি উপাধি। সম্পদশীল বা ধনী ব্যক্তিদের সম্মানে ব্যবহৃত হত এই উপাধিটি।  ১৭১৪ সালে মানিক চাঁদের মৃত্যুর পর তার ভ্রাতুষ্পুত্র (দত্তক পুত্র) ও উত্তরাধিকারী ফতেহ চাঁদের নেতৃত্বে পরিবারটি বিপুল খ্যাতি অর্জন করে। মাহমুদ শাহ ১৭২৩ সালে সম্রাট ফতেহ চাঁদকে ‘জগৎ শেঠ’ উপাধি প্রদান করে। এরপর এ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটি দেশে এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়। এর সদর দফতর ছিল মুর্শিদাবাদে এবং ঢাকা, পাটনা ও দিল্লিসহ বাংলার গুরুত্বপূর্ণ শহর ও বাংলার বাইরে এ ব্যাঙ্কের শাখা ছিল। 

সমকালীন দলিল দস্তাবেজে জগৎ শেঠের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কারবার- যেমন ঋণগ্রহণ, ঋণ পরিশোধ, সোনা-রুপার ক্রয়-বিক্রয় ও অন্যান্য লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে। রবার্ট ওর্ম লিখেছেন, এই হিন্দু ব্যবসায়ী পরিবারটি মুঘল সাম্রাজ্যে সর্বাধিক ধনবান ছিল। মুর্শিদাবাদ সরকারের উপর এ পরিবার প্রধানের ছিল প্রচণ্ড প্রভাব। তিনি অধিকাংশ জমিদারের পক্ষে নিরাপত্তা জামিনদার হতেন এবং তার প্রতিনিধিরা ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতেন। রাজ্যের কোথায় কী ঘটছে তা তিনি অন্যদের চেয়ে বেশি জানতেন। প্রতিটি জরুরি ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে তার সহায়তার প্রয়োজন হতো।

জগৎ শেঠ একটি উপাধি হলেও আমরা যার সম্পর্কে বলছি তার নামের সঙ্গে এই উপাধিটি সত্যিকার অর্থেই কলঙ্কিত। তিনি এতটাই সম্পদশালী ছিলেন যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিসহ বিভিন্ন নবাবদের অর্থ ধার দিতেন। অভ্যন্তরীণ ও অন্তর্বর্তী বাজারও ছিল তার নিয়ন্ত্রণেই। বাজার দর ওঠা-নামা, অর্থ মূল্যের হেরফের, সুদের চড়া মন্দা সব কিছুই নির্ধারিত হতো শেঠ বাড়ির ইচ্ছা অনুসারে। বাংলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও বেড়েছিল এই শেঠ বাড়ির উপর ভর করেই।

সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশীর যুদ্ধের ষড়যন্ত্রসিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত

সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে আসীন হওয়ার পর মোহনলালকে নিযুক্ত করেন দেওয়ান হিসেবে। মোহালালের সঙ্গে শেঠদের সংঘাত ছিল। তাকে দেওয়ান হিসেবে নিযক্ত করায় সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয় শেঠদের। সিংহাসনে আসীন হওয়ার পর ইংরেজদের অত্যচার, সম্পদ লুণ্ঠন, ক্রমবর্ধমান শক্তি বৃদ্ধি আর খবরদার বৃদ্ধির মনোভাবকে ভালোভাবে নেয়নি সিরাজউদ্দৌলা। তিনি কলকাতায় ইংরেজ কুঠির আক্রমণ করলে তাদের সঙ্গে চরম আকার ধারণ করে। 

এই অবস্থায় ইংরেজদের হয়েই সিরাজউদ্দৌলার কাছে সাফাই গাইতে আসেন জগৎ শেঠ। ইংরেজদের বিষয়ে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তবে নবাব সেদিন চরম অপমান করে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন জগৎ শেঠকে। জানা যায়, সেদিন নাকি ধনকুবের জগৎ শেঠের গালে সজোরে একটি থাপ্পর মারেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা।

ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত

নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক জগৎ শেঠ চরম অপমানিত হওয়ার পর তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কীভাবে এর বদলা নিবেন সেই বুদ্ধি আটতে থাকেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা শুরু করেন জগৎ শেঠ। তার পরিকল্পনায় যুক্ত করেন বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর ও ঘষেটি বেগমের সঙ্গে। জগৎ শেঠের নির্দেশেই তারা লর্ড ক্লাইভের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে বৈঠক করেন কয়েক দফা। এই ষড়যন্ত্রের কারণেই ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশী যুদ্ধে অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতার সূর্য।

আভিজাত্যে মোড়ানো শেঠ বাড়িপলাশী যুদ্ধের পরই লুট হয় বাংলার সম্পদ

এরপর মীরজাফর নবাব নির্বাচিত হন। নবাব মহলের ও কোষাগারের টাকা সব ভাগ হয় কোম্পানির কর্মচারী, নবকৃষ্ণ, মীরজাফর, আমীরবেগ, রাজবল্লভ, রামচাঁদ প্রমুখের মধ্যে। ১৭৫৭ সালের ৬ জুলাই, অর্থাৎ পলাশী যুদ্ধের মাত্র ১৩ দিন পর লুট হয় বাংলার সম্পদ। একশ নৌকা  সাতশ সিন্দুক বোঝাই লুটের বখরা নিয়ে কোম্পানির জাহাজ ডঙ্কা বাজিয়ে কলকাতায় আসে। নবাবী রীতি অনুযায়ী এসকল অর্থ জগৎ শেঠের হাত দিয়ে পাচার হয়। লর্ড ক্লাইভ পেলেন অতিরিক্ত ১২ লাখ টাকা।

জগৎ শেঠ এবার তার ভুল বুঝতে পারলেন। এ কোম্পানি তার অচেনা। এরা আর ব্যবসায়ী না, এরা শাসনকর্তা। কোম্পানির অনেক দিনের ইচ্ছে এবার পূরণ হলো। কলকাতায় টাকশাল বসলো, যেটা এত বছর শেঠ বাড়ি আটকে রেখেছিল। এবার আর কোনো উপায় রইল না। এখানে তাদের হাত দেয়ার কোনো এখতিয়ার রইল না। এত বছর শেঠ বাড়িতে বাংলার রাজস্ব জমা পড়ত। তবে এখন ৩ জেলার খাজনা আদায় করবে নন্দকুমার। জমা পড়বে ইংরেজ কুঠিতে। ফলে আর্থিক ও প্রভাব উভয় দিকেই শেঠ বাড়ির ক্ষতি হলো। দিন দিন ইংরেজদের সঙ্গে তাদের বিরোধ বাড়তে থাকলো।

এর মধ্যে মীরজাফরের ছেলে মীরণ বজ্রাঘাতে মারা যায়। এ শোক সইতে পারেনি মীরজাফর। মীরজাফরের পর তার জামাতা মীরকাসিম মসনদে বসেন। মীরকাসিম চেয়েছিলেন ইংরেজদের প্রতাপ দূর করে আলিবর্দির সময় ফিরিয়ে আনতে। এর ফলাফল ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ। আর এ যুদ্ধ জগৎ শেঠ পরিববারকে সর্বস্বান্ত করে দেয়। মীর কাসিম বক্সারের যুদ্ধে হেরে যান এবং যাওয়ার আগে জগৎ শেঠ মহাতপচাঁদ ও তার ভাই স্বরুপচাঁদকে বন্দি হিসেবে মুঙ্গেরে নিয়ে যান।

বক্সারের যুদ্ধমীর কাশিমের পরাজয় ও জগৎ শেঠের পরিণতি 

এদিকে একসময় মীর জাফরকে সরিয়ে তার জামাতা মীর কাশিমকে বাংলার নবাব করা হয়। মীর কাশিম ইংরেজদের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আলীবর্দী খাঁ’র সময় ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। এ কারণেই ইংরেজদের সঙ্গে সংঘটিত হয় বক্সারের যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে আগে জগৎ শেঠের কাছে অর্থ সহায়তা চেয়েছিলেন মীর কাশিম। তবে আশানুরূপ সহযোগিতা না পাওয়ায় হত্যা করা হয় জগৎ শেঠকে। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়েই জগৎ শেঠ পরিবারের সোনালি সময়ের সূর্যাস্ত হয়। জগৎ শেঠের এই বাড়িটি পলাশী ষড়যন্ত্রের আঁতুড়ঘর হিসেবে বিবেচিত হয়। 

পরবর্তী জগৎ শেঠ

জগৎ শেঠ খোসালচাঁদের এক ছেলে ছিল, তার নাম গোকুলচাঁদ। তবে সে তার পিতার জীবদ্দশায় মারা যায়। তখন খোসালচাঁদ তার ভাইপো হীরকচাঁদকে দত্তক নেন। প্রথানুযায়ী তিনি জগৎ শেঠ উপাধি পান। ১৮৭০ সালে তিনি মারা যান। হীরকচাঁদের মৃত্যুর পর তার ছোট ছেলে বিসেনচাঁদ জগৎ শেঠ উপাধি পান। তার এক ছেলে ছিল কিসেনচাঁদ। 

শেঠ বাড়িলর্ড বেন্টিঙ্কের সময়ে তিনি ইংরেজ সরকার কর্তৃক জগৎ শেঠ উপাধি পান। তার মৃত্যুর পর হীরকচাঁদের বড় ছেলে ইন্দ্রচাঁদ জগৎ শেঠ হন। কোম্পানি তাকে বাৎসরিক ১২০০ পাউন্ড পেনশন দিত। তিনি মারা গেলে তার দত্তক পুত্র গোপালচাঁদ জগৎ শেঠ খেতাব পান। ১৮৪৩ সালে লর্ড অকল্যান্ড তাকে ৩০০ রুপি পেনসন দিতে চাইলে তিনি সেটা ফিরিয়ে দেন।

তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী প্রাণ কুমারী দেবী গোলাপচাঁদকে দত্তক নেন। তার চার ছেলে ছিল। বড় ছেলের নাম ফতেচাঁদ। ১৯১২ সালের ৭ই এপ্রিল তিনি কলকাতায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে সোবাগ চাঁদ জগৎ শেঠ উপাধি পান। সোবাগ চাঁদ মহিমাপুরের বাড়িতে ডাকাতের হাতে মারা যান। তখন তার দুই ছেলে বর্তমান ছিল, জ্ঞান চাঁদ জৈন ও বিজয়চাঁদ। এদের পর আর জগৎ শেঠ পরিবার সম্পর্কে জানা যায় না। ১৯১২  সালের পর আর কেউ জগৎ শেঠ উপাধি ধারণ করেননি।

জগৎ শেঠের বাড়ি থেকে কাঠগোলা বাগানের সুড়ঙ্গ পথবিশ্বের সবচেয়ে ধনী বলে খ্যাত ছিল জগৎ শেঠ পরিবার। ১৭০৪ থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত ছিল তাদের উত্তরণের সবচেয়ে সুন্দর সময়। হীরানন্দ সাহু যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, মানিকচাঁদ, ফতেচাঁদ ও মহাতপচাঁদ তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছিলেন। দেশে ও দেশের বাইরে তাদের ব্যাংকিং ব্যবসা প্রসার লাভ করেছিল। তাদের সম্পত্তির সঠিক হিসাব জানা যায়নি। তাদের এই গৌরবময় ইতিহাস কলঙ্কিত করে দিয়েছে পলাশীর যুদ্ধে তাদের ভূমিকা। এরপর তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও তাদের কলঙ্কিত ইতিহাসের জন্য আজো তারা ঘৃণিত।

জগৎ শেঠের বাড়ির গোপন সুড়ঙ্গ রহস্য

বর্তমানে জগৎ শেঠের বাড়িটি একটি সংগ্রহশালা। সেখানে রয়েছে সেকালের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এই বাড়িতে এখনো রয়েছে পুরনো আসবাবপত্র, অস্ত্র-শস্ত্র, সেকালের ব্যবহার্য তৈজসপত্রসহ নানা জিনিসপত্র। সংগ্রহশালার প্রবেশমুখ থেকেই দেখা যায় গোপন সুড়ঙ্গে ঢোকার পথ। সত্যিই এই সুড়ঙ্গ পথটি কাঠগোলা বাগানের সঙ্গে সংযুক্ত।  এই সুড়ঙ্গ পথে দর্শনার্থীরাও প্রবেশ করতে পারে। 

আয়না রহস্যময় আয়না

জগৎ শেঠের বাড়িতে রয়েছে এক রহস্যময় আয়না। যেখানে কিছুতেই মুখ দেখা যায় না। মুখ ছাড়া পুরো শরীরই দেখা যায় আয়নাটিতে। এর রহস্য ভেদ করা বেশ কঠিন। এছাড়াও ঢাকাই মসলিনের একটি কাপড় রয়েছে জগৎ শেঠের বাড়িতে। উল্লেখ্য, জগৎ শেঠরা ঢাকাতেও ব্যবসা করতেন। জগৎ শেঠের বাড়িতে আরো রয়েছে লর্ড ক্লাইভের ব্যবহারকৃত এক পোশাক। যা ইংরেজদের সঙ্গে তার সুসম্পর্কের নিদর্শন। 

এই বাড়ির পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ। তবে কলঙ্কিত অধ্যায়ের কারণে জগৎ শেঠ বাংলার ইতিহাসে একজন ঘৃণিত ব্যক্তি। যার কাছে নবাব ও ইংরেজরা একসময় টাকা ধার নিতেন পরবর্তীতে তার বংশধরদের জীবন কাটাতে হয়েছে সামান্য সরকারি ভাতায়। আসলেই ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করে না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস