চিৎকাররত অবস্থায় রয়েছে মমি হওয়া নারী ও পুরুষ

ঢাকা, বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭,   ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চিৎকাররত অবস্থায় রয়েছে মমি হওয়া নারী ও পুরুষ

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৯ ১৯ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৪:৩৭ ১৯ জুলাই ২০২০

ছবি: চিৎকাররত নারীর মমি

ছবি: চিৎকাররত নারীর মমি

মিশরীয়দের পিরামিড আর মমি এই দুই বিষয় নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এই বিংশ শতাব্দীতে এসেও মানুষের আগ্রহ সেসময়ের ফারাওদের মমি রহস্য সম্পর্কে। 

সাধারণত মিশরের রাজবংশ কিংবা উচ্চবংশীয় ব্যক্তিদের সেসময় মমি করা হত। তাদের ধারণা ছিল, এতে মৃত্যুর পরের জীবনে তারা সুখে থাকবে। এজন্য খুব যত্ন নিয়েই দামী পোশাক, গয়না, অস্ত্র দিয়ে তাদের মমি সজ্জিত করে দেয়া হত। 

প্রত্নতাত্ত্বিক বা গবেষকরা প্রায়ই মিশরের পিরামিড এবং আশেপাশে অঞ্চলগুলোতে অনেক মমি আবিষ্কার করেছেন। অনেক মমি ছিল পরিত্যাক্ত অবস্থায়। আবার কিছু ছিল প্রায় লুকায়িত। আজ যে দুটি মমির কথা জানাবো, সেগুলো গবেষকদের বেশ বিস্মিত করে দেয়। এই মমি দুটিকে বলা হয় দ্য স্ক্রিমিং ম্যান মমি বা দ্য স্ক্রিমিং ওম্যান মমি। 

ভাবছেন দুটি মমির কথা একসঙ্গে কেন বলছি? আসলে এই মমি দুটির মধ্যে অদ্ভূতভাবে একটি বিষয়ে মিল রয়েছে। সেটি হলো দুটি মমির মুখ দেখে মনে হচ্ছে তারা চিৎকার কর অবস্থায় মারা গেছে। মুখ অনেকটা চিৎকারের ভঙ্গিতে রয়েছে। আর ওভাবেই তাদের মমি করা হয়েছে। 

প্রিন্সের মমিপ্রথমটি একজন পুরুষের মমি। তিনি ছিলেন মিশরের ২০ তম রাজবংশের যুবরাজ। বিখ্যাত মিশরবিদ ডা. জাহি হাওয়াস এবং প্রাচীন মমি স্ক্যান করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক সম্প্রতি দ্য স্ক্রিমিং ম্যান মমির সিটি স্ক্যান এবং ডিএনএ বিশ্লেষণ করেছেন।  

তারা ধারণা করছেন, এটি রাজা তৃতীয় রামেসের পুত্র যুবরাজ পেন্টাভেরের। ইতিহাসবিদদের মতে, পিতাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত হয় যুবরাজ পেন্টাভের। এজন্য তাকে ইতিহাসে দ্য হারেম প্লট নামে অভিহিত করা হয়। এই অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছিল তাকে। যাজকত্ব তাকে মিশরের অশুচি বলে আখ্যা দেন।  

এ কারণেই পেন্টাভেরের মৃতদেহ অন্যদের মতো যত্নে মমি করা হয়নি। নিম্ন নামের ভেড়ার চামড়ায় জড়ানো ছিল এই মমিটি। অন্য সব রাজকীয় মমিগুলো যত্ন সহকারে সাদা লিনেনে জড়িয়ে দেয়া হত তখন। ধারণা করা হয়, মৃত্যুর আগে যুবরাজ পেন্টাভের চিৎকার করেছিলেন। তাই মারা যাওয়ার পরও তার মুখ হা করা অবস্থাতেই ছিল। 

দ্বিতীয় মমিটি একজন নারীর মমি ছিল। তার পরিণতিও যুবরাজ পেন্টাভেরের মতো হয়েছিল কিনা তারই সন্ধান করছিলেন গবেষকরা। আহরাম সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ১৮৮১ সালে দইর এল-বাহারি ক্যাশে পাওয়া গিয়েছিল এক নারীর মমি। তার চেহারায় হিমশীতল চিৎকারের ভঙ্গি ছিল। 

তাই এটি দ্য স্ক্রিমিং ওম্যান মমি হিসেবে পরিচিতি পায়। তার মাথা ডান দিকে কাত করা ছিল। পায়ে জড়ানো ছিল লিলেন কাপড়। একেবারে গোড়ালি পর্যন্ত পুরোপুরি ঢাকা ছিল কাপড় দিয়ে। এই নারীর মমিটিতে যুবরাজ পেন্টাভেরের মতো অযত্নের ছাপ ছিল না। বরং বেশ দামী কাপড়, সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়েছিল মমিতে।  

চিৎকাররত নারীমিশর টুডের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই নারীর সিটি স্ক্যানের ফলাফলে দেখা যায় তিনি যুবরাজের আরো ৬০ এর দশক আগে মারা গিয়েছিলেন। গবেষকরা এই নারীর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে অনেক উচ্চ প্রযুক্তির স্ক্যানিং, কম্পিউটারাইজড টোমোগ্রাফি তৈরি করেছিল। যা নির্দেশ করে যে, ওই নারী মারাত্মক অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস আক্রান্ত হয়েছিলেন। 

তার সারা শরীরের ধমনিতে এরইমধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিল রোগটি। এথেরোস্ক্লেরোসিস (ধমনি স্ক্লেরোসিস) হল ধমনী গহ্বর সংকুচিত হয়ে রক্তনালিগুলোতে বাধা সৃষ্টি করে। এটিকে বলে ডিজেনারেটিভ রোগ। সিটি স্ক্যানগুলো তার ধমনী প্রাচীরের মধ্যে উচ্চ ক্যালেসিফিকেশনের অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে।

ধারণা করা হয় তিনি হার্ট আট্যাকে মারা গিয়েছিলেন। প্রায় ৩৫০০ বছর আগে মিশরের নানা নথি থেকে জানা যায়, এখনকার মতো তখনো বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যুর কারণ ছিল হার্ট আট্যাক। নতুন গবেষণায় ধরে নেয়া হয়েছে, করোনারি ভাস্কুলার থ্রোম্বোসিস রোগের কারণে চিৎকারকারী নারীর হার্টের পেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যা তার আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়েছিল।

তার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার ফলে তার মাথা ডানদিকে কাত হয়ে পড়েছিল এবং চোয়ালের পেশি শিথিল হয়ে গেছে। যে কারণে তার মুখ খুলে গিয়েছিল। যা ভয়ঙ্কর চিৎকার বলে মনে হচ্ছে। আর শরীরকে সোজা করে রাখার জন্য হয়তো পা এবং গোড়ালিতে আবৃত রাখা হয়েছিল। এসব কিছুই আধুনিক গবেষণার ফলে জানা সম্ভব হয়েছে। 

গবেষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে শত শত কিংবা হাজার হাজারো বছর পূর্বের ঘটে যাওয়া ঘটনা নিত্যদিন উন্মুক্ত হচ্ছে চোখের সামনে। উম্মোচিত হচ্ছে মমি রহস্য। তাদের মৃত্যুর কারণ ও বংশ পরিচয়ও মিলছে এভাবেই। 

সূত্র: অ্যাসাইন্টঅরিজিন

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস