বলাৎকারে অতিষ্ঠ হয়ে দোকানিকে খুন
15-august

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ আগস্ট ২০২২,   ৩ ভাদ্র ১৪২৯,   ১৯ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

বলাৎকারে অতিষ্ঠ হয়ে দোকানিকে খুন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৭ ৬ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ২০:০৩ ৬ আগস্ট ২০২২

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকায় মুদি দোকানদার শাহাদাত হোসেন খুনের ঘটনায় মো. আদনান জিসান নামে একজনকে আনোয়ারা থেকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর ডিবি পুলিশ।  

শনিবার চট্টগ্রামের মুনসুরাবাদ নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম মহানগর ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর ও পশ্চিম) মুহাম্মদ আলী হোসেন। 

তিনি বলেন, গত ১ আগস্ট চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার দাইয়াপাড়া এলাকায় একটি টয়লেট থেকে মুদি দোকানদার শাহাদাত হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা। এরপরই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে এবং আসামিদের গ্রেফতারে কাজ শুরু করে ডিবি পুলিশ। 

ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু না থাকায় একপর্যায়ে ভিকটিমের মোবাইলের কল লিস্ট পর্যালোচনা করে জিসানকে শনাক্ত করা হয়। শুক্রবার রাতে আসামি জিসানকে গ্রেফতার করা হয়।  ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঝোঁপ থেকে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।  

গত ৪-৫ মাস আগে শাহাদাতের সঙ্গে আসামি জিসানের পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। একদিন জিসানের বর্তমান বাসায় ফিরতে বেশি রাত হলে গেট বন্ধ হয়ে যায়। নিজ বাসায় ঢুকতে না পারায় জিসান শাহাদাত হোসেনের দোকানে গিয়ে তার বাসায় রাত্রীযাপন করতে চাইলে ভিকটিম মো. শাহাদাত হোসেন আসামি আদনান জিসানকে তার বাসায় নিয়ে যায়। এরপর ভিকটিম মো. শাহাদাত হোসেন তার শয়নকক্ষে জিসানকে বলাৎকারের চেষ্টা করেন। জিসান রাজি না হলে ভিকটিম শাহাদাত আসামিকে চুরির দায়ে মামলা করে কারাগারে পাঠাবেন বলে ভয় দেখায়। এরপর ভিকটিম মো. শাহাদাত হোসেন জিসানকে বলাৎকার করে। 

মাঝে-মধ্যেই আসামি জিসানকে তার বাসায় নিয়ে এবং দোকানের পেছনের ঘটনাস্থলে নিয়েও বলাৎকার করত। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ক্রাইম পেট্রোল দেখে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকা থেকে ৪০০ টাকা দিয়ে একটি টিপ ছুরি ক্রয় করে জিসান। শাহাদাতকে খুন করার জন্য এই ছোরা নিজের সঙ্গেই রাখে। খুন হওয়ার ২ দিন আগে ২৮ জুলাই রাতে ভিকটিম মো. শাহাদাত হোসেন আদনান জিসানকে দোকানের পেছনে নিয়ে বলৎকার করে। তখন আসামি জিসানের ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকলেও সাহস করতে না পারায় হত্যা করতে করেনি। 

৩১ জুলাই রাত দেড়টার দিকে জিসান আবার দোকানে নিজ থেকে ফোন করে আসে। তখন শাহাদাত দোকান বন্ধ করে জিসানকে দোকানের পেছনে বাথরুমে নিয়ে যায়। কেউ যেন না দেখে সেজন্য আলো বন্ধ করে দেয়। ভিকটিম আসামিকে বলাৎকার করার জন্য উদ্দত হলে আসামি জিসান পকেট থেকে ছোরা বের করে ভিকটিমের পেটে ৩ বার, রানে ও হাতে একবার করে ছুরিকাঘাত করে। ভিকটিম শাহাদাত চিৎকার করে উঠলে আসামি ভিকটিমের গলা চেপে ধরে। শাহাদাতের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসামি জিসান ঘটনাস্থলে ৭-৮ মিনিট অবস্থান করে। পরে সে তার বোন জামাইয়ের বাড়িতে পালিয়ে যায়। 

জিসান আগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও বর্তমানে কিছু করে না বলেও জানান উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আলী হোসেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/আরআই

English HighlightsREAD MORE »