নারীদের সহায়তায় সবজি চাষে বিপ্লব
15-august

ঢাকা, সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২,   ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯,   ০৯ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

নারীদের সহায়তায় সবজি চাষে বিপ্লব

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৬ ৫ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ২১:৫৮ ৫ আগস্ট ২০২২

সবজি ক্ষেত দেখছেন এক নারী- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সবজি ক্ষেত দেখছেন এক নারী- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝালকাঠির শহর থেকে কীর্তিপাশা হয়ে এগিয়ে গেলেই দেখা যায় বিখ্যাত ভীমরুলী বাজার। খালের পাড় ঘেঁষে ভাসমান বাজারে যেতে যেতে চোখ প্রশান্ত করবে চিরায়ত গ্রাম-বাংলার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। এক সময়ের মেঠোপথ এখন পিচঢালা পাকা সড়ক। ঝালকাঠি শহর থেকে মাত্র ৩০ মিনিটেই পৌঁছানো যায় ভীমরুলী বাজারে। প্রতিদিন এখানে নৌকায় করে আনা হয় বিভিন্ন সবজি। পেয়ারাজ্য খ্যাত এ এলাকায় শুধু পেয়ারা বা আমড়াই নয়, চাষ হয় বিভিন্ন জাতের শাক-সবজিও। এসব সবজি উৎপাদনে পুরুষের পাশাপাশি এখানকার নারীদেরও সামান অবদান রয়েছে। পুরুষরা বাজারজাত করণের কাজ করলেও মূলত নারীরাই সবজি উৎপাদনে মূল ভূমিকা পালন করে থাকে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৩৬টি গ্রামে ১২ মাসই বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়ে থাকে। মূলত শীত ও বর্ষা এ দুই মৌসুমে সবজির উৎপাদন বেশি হয়। এসব গ্রামে নারীদের সহায়তায় সবজি চাষে বিপ্লব এসেছে। নারীদের এই উদ্যোগকে সফলতা দিতে তাদের সাহায্যে পাশে থাকেন পুরুষরা। তারা বাজারজাতকরণের কাজটিই বেশি করেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার এখন সবজি চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। এর মধ্যে বিনয়কাঠি, নবগ্রাম, কীর্ত্তিপাশা ও গাভারামচন্দ্রপুর এই চারটি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম সবজি চাষে বিশেষ অবস্থানে রয়েছে। এই চার ইউনিয়নে ১২ মাসই সবজির চাষ হচ্ছে। নারীরাই এখানে বেশি চাষ করে থাকেন। এই নারীদের সবজি চাষে উৎসাহ দেওয়ার জন্য কৃষি বিভাগ সব সময়ই কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সদর উপজেলায় বর্ষা মৌসুমে দেড় হাজার হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়ে থাকে। এ মৌসুমে উৎপাদন হয় ২২ হাজার মেট্রিক টন সবজি।

ঝালকাঠি কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সদর উপজেলার ৩৬টি গ্রামের উৎপাদিত সবজি দিয়ে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা ও বরিশালসহ আরো কয়েকটি জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পদ্মাসেতু হওয়ায় এখন সহজেই ট্রাকে এসব সবজি চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নারীদের এই বিপ্লব ঘটানো চাষের ফলেই মূলত সবজি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ঝালকাঠি জেলা।

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

সবজি চাষের মধ্যে অন্যতম গ্রামগুলো হলো- ভীমরুলী, ডুমুরিয়া, বেশাইনখান, গোপীনাথকাঠি, শংকরধবল, খেজুরা, স্থানসিংহপুর, বেউখির, পাঁঞ্জিপুথিপাড়া, পূর্ব বাউকাঠি, মিরাকাঠি, বহারামপুর, দিয়াকুল, আতাকাঠি, পশ্চিম ভাওতিতা, দেউড়ি, রাজাপুর, নাগপাড়া, গৈয়া, জগদীশপুর, হিমান্দকাঠি, দাঁড়িয়াপুর, শিমুলেশ্বর, বাউকাঠি, শতদশকাঠি, বিকনা, কাপড়কাঠি, আতা, আটঘর, কাঁচাবালিয়া, রমজানকাঠি, দোগলচিড়া, বেতরা, বালিগোনা, শাখাকাঠি ও গাবখান।

কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সবজির ক্ষেতে নারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ সবজি তুলছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন। সবজিক্ষেত শসা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল, চাল কুমড়া, বেগুন, বরবটি, ঢেঁড়স, পুই শাক, লাল শাক, ডাটা শাক, পাট শাক, করলাসহ বিভিন্ন সবজিতে ভরপুর।

স্থানীয়রা জানান, এসব গ্রামে উৎপাদিত শাক-সবজি জেলার চাহিদা পূরণ করে ঢাকা ও বরিশালে পাঠানো হচ্ছে। গ্রাম ঘুরে ঘুরে পাইকাররা ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠান। আবার নৌকায় করে স্থানীয় ভীমরুলীসহ অন্যান্য বাজারে নিয়ে গেলে পাইকাররা সেখান থেকে কিনে নিয়ে যান। পরিমাণে অল্প হলে হাটে সবজি বিক্রি করতে নিয়ে যান নারীরা।

কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ডুমরিয়া গ্রামের কৃষাণী রীতা রানী মণ্ডল বলেন, আমরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে কাজ করে সবজি ফলাই। বাড়ির পুরুষরা এগুলো বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। আমাদের এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।

ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি আরো বলেন, এক সময় এসব গ্রামে নারীরা এত কাজ করতেন না। তখন পেয়ারা, নারকেল, সুপারি আর সামান্য ধান উৎপাদন হতো। সে সময় প্রায় ঘরেই অভাব ছিল। কিন্তু এখন নারীরা মাঠে কাজ করেন। এখন প্রায় ১২ মাসই সবজির চাষ হয়। অভাবও ঘুচে গেছে।

ডুমুরিয়া গ্রামের কৃষক পঙ্কজ বড়াল বলেন, নারীরা ক্ষেতের কাজ করে সংসারের রান্নাসহ ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনার দায়িত্বও পালন করেন। অনেক সময় নৌকা বেয়ে সবজি বাজারে নিয়ে বিক্রিও করেন তারা। এসব কাজে পুরুষরা পাশে থেকে সাহায্য করেন।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলার যেসব গ্রামে সবজি চাষ হয়, সেখানে আমরা কারিগরিসহ সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। কৃষিক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ অর্থনীতির অবস্থা আরো মজবুত করছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এইচএন/জেএইচ

English HighlightsREAD MORE »