শেষ সময়ে রাজশাহীতে আমে আগুন
15-august

ঢাকা, সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২,   ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯,   ০৯ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

শেষ সময়ে রাজশাহীতে আমে আগুন

রাজশাহী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৯ ৫ আগস্ট ২০২২  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

আমের মৌসুম প্রায় শেষ। তবুও রাজশাহীর বাজারগুলোতে রয়েছে আমের সহজলভ্যতা। শেষ সময়ে এসেও ক্রেতাদের আমের চাহিদা তুঙ্গে থাকায় দামেও আগুন। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের অধিকাংশ ক্রেতাই সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা কিংবা ধনাঢ্য ব্যক্তি। সাধারণ ক্রেতা নেই বললেই চলে।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাজশাহীর শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনাল, সাহেব বাজার, লক্ষীপুর সহ কয়েকটি স্থানে সরেজমিন ঘুরে এসব তথ্য মিলেছে।

রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনাল এলাকায় দেখা গেছে আমের সবচেয়ে বেশি সমারোহ। বর্তমানে বাজারে মিলছে- বারি-৪, আম্রপালি, আশ্বিনা, ঝিনুক আশ্বিনা ও গৌরমতি আম। এর মধ্যে বারি-৪ জাতের আম স্বাদ ও ধরনভেদে দুই প্রকারের পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য দামেও রয়েছে ব্যবধান।  

গাছে আমের ঘাটতি ও মানুষের আম কেনার চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে দাম। বর্তমানে বাজারে বারি-৪ জাতের আম আকার, ধরন ও স্বাদভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে। বাজারে এখনও আম্রপালির অস্তিত্ব মিললেও ব্যবসায়ীরা কেজি প্রতি এর দাম হাকছেন ২৫০ টাকা। তবে প্রথমদিকে গৌরমতি ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম স্বাদের আশ্বিনা ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বেশি স্বাদের ঝিনুক আশ্বিনা জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে।  

বিক্রেতারা বলছেন, শেষের দিকে আমের চড়া দাম হলেও আম বিক্রি নিয়ে একটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। আমের বাজারে পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে। তবে চাহিদানুসারে আম সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। একারণে রাজশাহীর বাইরের জেলা থেকে আম সংগ্রহ করে আনতে হচ্ছে তাদের।

ব্যবসায়ীরা জানান, রাজশাহী জেলার মধ্যে মোহনপুর, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় সামান্য কিছু আশ্বিনা ও বারি-৪ আম মিললেও তারা অধিকাংশ আম আনছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা থেকে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের দাম নওগাঁ জেলার চেয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বেশি। দামের এ তারতম্য হওয়ায় এই বাজারের চার ভাগের তিন ভাগ আম আনছেন নওগাঁর সাপাহার এলাকা থেকে।

প্রতি বছর শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনাল এলাকায় বসে আমের দোকান। প্রথমদিকে এখানে প্রায় ২০ থেকে ২২ দোকান বসলেও বর্তমানে রয়েছে ৮ থেকে ১০টি আমের দোকান।

এই এলাকার আম ব্যবসায়ী মোমিন ইসলাম বলেন, শিরোইল বাস টার্মিনাল আম বাজারের অধিকাংশ ক্রেতাই স্থানীয়। স্থানীয় ক্রেতারা আম কেনেন ৫কেজি, ১০কেজি অথবা ২০কেজি করে। আর ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা অন্যান্য স্থানের বাইরের যাত্রীরা আম কেনেন বড়জোড় দুই থেকে তিন কেজি। তারপরও প্রতিদিন এক একেক জন ব্যবসায়ী প্রায় ২০ মণ করে আম বিক্রি করছেন।

শেষ সময়ে আমের দাম ও জোগানের বিষয়ে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ তথ্য কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল কাফি বলেন, গত বছর করোনার কারণে বন্ধ ছিল পরিবহন। গত বছর ফলন বেশি থাকলেও আমের কেনার মতো বাজারে মানুষ ছিল না। কিন্তু এবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক, কিন্তু গাছে আম নেই। আর তাই চাহিদা বেশি হওয়ায় প্রথম থেকেই চড়া দাম। শেষ সময়ে আমের পর্যাপ্ততা না থাকায় ব্যবসায়ীরা চড়া দাম নেয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ

English HighlightsREAD MORE »