তিন বছর ‘সংসার’, যে কারণে খুনি হয়ে গেল প্রেমিকা
15-august

ঢাকা, সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২,   ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯,   ০৯ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

তিন বছর ‘সংসার’, যে কারণে খুনি হয়ে গেল প্রেমিকা

মাগুরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩৭ ৫ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১১:৩৯ ৫ আগস্ট ২০২২

আটক আহিনা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

আটক আহিনা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

২০১৪ সাল থেকে ঢাকার চাকরি করেন আলী নূর বিশ্বাস। সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালানো শুরু করেন তিনি। এরই মধ্যে তার পরিচয় হয় আহিনা খাতুনের সঙ্গে। পরে সস্পর্কে জড়ান তারা। একপর্যায়ে বিয়ে না করেও প্রায় তিন বছর স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন তারা। 

সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে এসে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেন আলী নূর বিশ্বাস। এ খবরে ক্ষুব্ধ হন আহিনা খাতুন। পরে ভাড়া বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় বটি দিয়ে আলী নূর বিশ্বাসকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। র‍্যাবের হাতে আটকের পর এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেনে তিনি।

নিহত আলী নূর বিশ্বাস মাগুরার শ্রীপুরে হোগলডাঙ্গা গ্রামের মো. বাহাদুর বিশ্বাসের ছেলে। ৩০ জুলাই আশুলিয়ার জিরাবো নামাপাড়া এলাকার দেলোয়ার বেপারীর বাসায় তাকে হত্যা করা হয়। সেখানেই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন তারা।

বৃহস্পতিবার রাতে হোগলডাঙ্গা গ্রামের কবরস্থানে আলী নূরকে দাফন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, আলী নূর কোরবানির ঈদে বাড়িতে বেড়াতে এলে শ্রীপুরের খামারপাড়া গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। আলী নূর স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি রেখে ঢাকার সাভারে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন।

নিহত আলী নূরের বড়ভাই নূর আলম বলেন,আলী নূর কোরবানির ঈদে বাড়ি আসলে পারিবারিকভাবে তাকে আমরা ১৪ জুলাই বিয়ে দেই। তার আগে ভাইকে আমরা জিজ্ঞাসা করেছি তার কোনো পছন্দ আছে কিনা। সে আমাদের জানায় তার কোনো পছন্দ নেই। তাই শ্রীপুরের খামারপাড়া গ্রামে তাকে বিয়ে দেই। এখনো নতুন বউকে আমরা ঘরে তুলতে পারিনি। তার আগেই আমার ভাই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। 

আমার ছোট ভাই ২০১৪ সাল থেকে ঢাকার চাকরি করে। সম্প্রতি সে চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছিল। আমরা জানতে পেরেছি ঢাকায় থাকাকালীন অবস্থায় আসামি আহিনা খাতুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে গভীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। সস্পর্কের একপর্যায়ে দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সাভারের জিরাবো বাজার এলাকায় মা হোটেলের পাশে একটি টিনশেডের ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করে। 

নিহত আলী নূর বিশ্বাস ও আটক আহিনা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরো বলেন, বিয়ের পর ১৭ জুলাই ঢাকায় ফিরে আলী নূর আবার আহিনার সঙ্গে বসবাস করতে থাকে। এরই মধ্যে আলী নূরের বিয়ের কথা জানতে পেরে আহিনার মনে ক্রোধ এবং প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয়। ৩০ জুলাই রাতে খাবার শেষে উভয়েই ঘুমিয়ে পড়ে। আহিনা ভোররাতে আলী নূরকে ঘুমন্ত অবস্থায় বটি দিয়ে মাথা, গলা এবং বুকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করলে র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরপর র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন আহিনা খাতুন।


র‌্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মামুদ খান জানান, আসামি আহিনার সঙ্গে নীলফামারীর মিজানুর রহমানের প্রথম বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের কারণে বিয়ের দেড় বছর পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। ওই পরিবারে তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে আলী নূরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখান থেকে শুরু হয় তাদের সম্পর্ক। শেষ পর্যন্ত আলী নূরকে হত্যা করেন আহিনা। 

নিহত  আলী নূরের বাবা মো. বাহাদুর আলী বলেন, আহিনা খাতুন নামে একজন বিবাহিত নারীর সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে হয়েছে তা আমরা কেউ জানতাম না। সেও কোনো দিন আমাদের বিষয়টি বলেনি। তাই তাকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করিয়েছি। সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে আমার ছেলের হত্যাকারী আটক হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ছেলের হত্যাকারীর বিচার দাবি করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআরএস

English HighlightsREAD MORE »