দুই স্ত্রীর টানাটানিতে আট বছর ডিপ ফ্রিজে স্বামীর লাশ
15-august

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২,   ১ ভাদ্র ১৪২৯,   ১৭ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

দুই স্ত্রীর টানাটানিতে আট বছর ডিপ ফ্রিজে স্বামীর লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:০৫ ৩০ জুলাই ২০২২   আপডেট: ২৩:০৮ ৩০ জুলাই ২০২২

খোকন ওরফে খোকন নন্দী ওরফে খোকন চৌধুরী ওরফে খোকা চৌধুরী ওরফে রাজীব চৌধুরী- ফাইল ফটো

খোকন ওরফে খোকন নন্দী ওরফে খোকন চৌধুরী ওরফে খোকা চৌধুরী ওরফে রাজীব চৌধুরী- ফাইল ফটো

দীর্ঘ আট বছর ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের ডিপ ফ্রিজে পড়ে আছে এক ব্যক্তির লাশ। দুই স্ত্রীর আইনি লড়াইয়ের কারণে দাফন বা সৎকারের জন্য লাশটি এখনো নিয়ে যায়নি কেউ। এরইমধ্যে লাশটি শুকিয়ে যাচ্ছে।

এ কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সহকারী সেকান্দার।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় মর্গের ফ্রিজ নষ্ট হয়েছে। তখন থেকে লাশ সংরক্ষণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে আমরা আদালতের নির্দেশে বিবাদমান লাশটি সংরক্ষণে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের ডিপ ফ্রিজে রয়েছে খোকন ওরফে খোকন নন্দী ওরফে খোকন চৌধুরী ওরফে খোকা চৌধুরী ওরফে রাজীব চৌধুরীর লাশ। ধর্ম নির্ধারণের লক্ষ্যে দুই ধর্মের দুই স্ত্রীর আইনি লড়াই নিষ্পত্তি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত লাশটি সেখানেই রাখা আছে।

নিহত ব্যক্তির দ্বিতীয় স্ত্রী দাবিদার হাবিবা আকতার খানম বলেন, স্বামীর লাশ আট বছর ধরে মর্গের ফ্রিজে রয়েছে। সাত মাস আগে লাশটি দেখে এসেছিলাম। লাশটি শুকিয়ে গেছে। মনে হচ্ছে বিকৃত হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। দুই স্ত্রীর মধ্যে স্বামীর লাশ যেই পাই না কেন একটা ব্যবস্থা করা উচিত।

তিনি বলেন, বয়স হয়েছে আমার। আইনি ঝামেলা মেটাতে চাইলেও মামলার নিষ্পত্তি করতে অপরপক্ষের অনীহা রয়েছে।

হাবিবার দাবি, ১৯৮০ সালের ২ এপ্রিল প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হলফনামার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন খোকন নন্দী। ১৯৮৪ সালের ১৫ জুলাই তাকে বিয়ে করেন তিনি। মৃত্যুর আগে খোকন হাবিবার সঙ্গেই থাকতেন।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, ২০১৪ সালের ১৫ জুন খোকনকে (৭০) বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির ১১ দিন পর তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর প্রথম স্ত্রী মিরা নন্দী লাশের দাবি করলে দ্বিতীয় স্ত্রী হাবিবা আপত্তি তোলেন। পরে তার ধর্ম নির্ধারণ জটিলতার বিষয়টি পুলিশ ও আদালত পর্যন্ত গড়ায়। প্রথমে তার লাশ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়। তবে দীর্ঘ মেয়াদে লাশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি জানিয়ে আদালতের কাছে আবেদন করে বারডেম কর্তৃপক্ষ। একই বছরের ২৩ অক্টোবর সহকারী জজ আদালত এক আদেশে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে লাশটি সংরক্ষণের আদেশ দেন। এরপর ১৫ নভেম্বর খোকনের লাশ গ্রহণ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ।

মিরার আইনজীবী কিশোর রঞ্জন মণ্ডল বলেন, সব নথিপত্রে খোকন নন্দী নামটি রয়েছে। তবে খোকন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হলফনামার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন মর্মে একটি কাগজ আদালতে জমা দেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী হাবিবা। কাগজটি জালও হতে পারে। হাইকোর্টে রিভিশন করা হয়েছে। রিভিশনের শুনানি হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

English HighlightsREAD MORE »