চিত্রনায়িকা শিমুকে হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় ফরহাদ, নারকীয় বর্ণনা স্বামী নোবেলের

ঢাকা, সোমবার   ২৩ মে ২০২২,   ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

চিত্রনায়িকা শিমুকে হত্যায় সরাসরি অংশ নেয় ফরহাদ, নারকীয় বর্ণনা স্বামী নোবেলের

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২০ ২১ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৯:২৮ ২১ জানুয়ারি ২০২২

শিমুর স্বামী সাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ- ফাইল ফটো

শিমুর স্বামী সাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ- ফাইল ফটো

চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যা মামলার গ্রেফতার শিমুর স্বামী সাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। সেই জিজ্ঞাসাবাদে শিমুকে হত্যার নারকীয় বর্ণনা দেন নোবেল।

শুক্রবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুমায়ুন কবির।

সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির বলেন, ১৬ জানুয়ারি সকালে নোবেলের গ্রিন রোডের বাসায় হত্যাকাণ্ড হয়। ঘটনার কিছু সময় আগে সেখানে উপস্থিত হন ফরহাদ। ফরহাদ নোবেলের বাল্যবন্ধু। প্রায় ৪০ বছরের তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ফরহাদ ছিল বেকার। মাঝে মধ্যে নোবেলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলতো ফরহাদ। ১৬ জানুয়ারি সকালে দুই হাজার টাকা ধার নিতে ফরহাদ নোবেলের বাসায় যায়। এ সময় তাকে চা দেন শিমু।

তিনি আরো বলেন, ফরহাদ ড্রয়িং রুমে বসেই চা খাচ্ছিল। এরই মধ্যে পাশের বেডরুমে নোবেল ও শিমুর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। হইচই শুনে ফরহাদ ড্রয়িং রুম থেকে শিমুর বেডরুমে যায়। এ সময় মেজাজ হারিয়ে শিমুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় নোবেল। সেখানে ফরহাদ হাজির হলে নোবেল তাকে সহায়তা করতে বলে। ফরহাদ ছিল নোবেলের বাধ্যগত। এজন্য সে নোবেলের কথামতো শিমুকে চেপে ধরে। এরপর দুজন মিলে শিমুকে গলাটিপে হত্যা করে।

শিমু ও নোবেলে মধ্যে কী নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল জানতে চাইলে তা এড়িয়ে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, নোবেল ও ফরহাদ গত বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশ আরো তদন্ত করছে।

এর আগে, সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ জানায়, দাম্পত্য কলজের জেরে নোবেল নিজেই শিমুকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে বাল্যবন্ধু ফরহাদকে ডেকে এনে মরদেহ গাড়িতে তুলে কেরানীগঞ্জে ফেলে আসেন তারা। তবে তিনদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর নতুন তথ্য পাওয়ার কথা জানান কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির। 

এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে শিমু হত্যার দায় স্বীকার করে নোবেল ও ফরহাদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। বর্তমানে আসামিরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগমের আদালত এ আসামিদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশে ঝোঁপের ভেতর থেকে রাইমা ইসলাম শিমুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৪১ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী সপরিবারে ঢাকার কলাবাগানের গ্রিন রোড এলাকায় বসবাস করতেন। মরদেহটি শনাক্ত করার পরপরই এ হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে।

পরদিন ১৮ জানুয়ারি ঢাকা জেলার এসপি মারুফ হোসেন সরদার সংবাদ সম্মেলনে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সুপার ঢাকার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেরানীগঞ্জ সার্কেলের নেতৃত্বে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি ও মামলার তদন্তকারী অফিসার ভিকটিম চিত্রনায়িকা শিমুর বাসায় যান এবং তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা শুরু করেন। পরিকল্পিতভাবে এ চিত্রনায়িকাকে হত্যার পর খুনিরা মরদেহটি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হযরতপুরে ফেলে যায়।

তিনি আরো বলেন, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলেও তারা (খুনি) কিছু চিহ্ন রেখে যায়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলমতগুলো জব্দ করি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভিকটিম চিত্রনায়িকা শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল (৪৮) ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে (৪৭) আটক করি। রাতেই আটক দুজনকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা মেলে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

English HighlightsREAD MORE »