হেলপারের তাড়ায় চালক বাড়ায় বাসের গতি, নিভে যায় ছোট্ট মরিয়মের প্রাণ 

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২,   ৫ মাঘ ১৪২৮,   ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

হেলপারের তাড়ায় চালক বাড়ায় বাসের গতি, নিভে যায় ছোট্ট মরিয়মের প্রাণ 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:২৩ ১৪ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ০৬:১৫ ১৪ নভেম্বর ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চলতি পথে বাসের যাত্রীদের কাছে সাহায্য নিয়ে চলতো ছোট্ট শিশু মরিয়মের জীবন। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার খুব ভোরে বেরিয়েছিলো সে। কিন্তু মরিয়মের আর বাসায় ফেরা হয়নি। বেপরোয়া গতিতে চলা অবস্থায় শিশু মরিয়মকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার সময়ই মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হয় তার। 

এ ঘটনায় রাইদা বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলপার জানায়, শিশুটি নামার সময় বাস থামাতে বললেও চালক তা শোনেনি।

গণমাধ্যমে আসা সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রগতি সরণি এলাকায় ছিল মরিময়। একটি বাসে উঠে আবার একটু পর নেমে যায়। সেখান থেকে রাস্তা পার হয় ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে। কিছুক্ষণ পর রাইদা পরিবহনের বাসটিতে ওঠে বলে ধারণা করা হয়। বাসটি সামনে যাওয়ার পর এক ব্যক্তিকে ওই বাস দেখিয়ে কিছু একটা বলতে দেখা যায়। তখন বাসটি মরিয়মকে ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছিল বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

ফুটেজ বিশ্লেষণের পর অভিযান চালিয়ে রাইদা পরিবহনের ওই বাসটিসহ চালক ও সহযোগীকে আটক করেছে র‍্যাব। কর্মকর্তারা জানান, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি কীভাবে বাস থেকে পড়ে মারা গেলো তার বিস্তারিত জানিয়েছেন চালক ও হেলপার।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানান, শিশুটি বাসের যাত্রীদের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়ার একপর্যায়ে তাকে নেমে যেতে তাড়া দেয় হেলপার। সে নামার সময় চালক জোরে বাসটির গতি বাড়ায়। ওই সময় মরিয়ম তড়িঘড়ি করে নামতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। গাড়ির গতিবেগ তখন ঘন্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার ছিল বলে জানায় চালক।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, শিশুটির শরীরে জখমের চিহ্ন থাকলেও অন্য কোনো আলামত মেলেনি।

খন্দকার আল মঈন বলেন, মেডিকেল রিপোর্টের আগে কোনো কিছু নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তবে তার নাক দিয়ে রক্ত পড়েছিল। মাথায় আঘাত পায় মেয়েটি। এছাড়া অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

English HighlightsREAD MORE »