‘দুই শতাধিক’ পিকআপ ভ্যান চুরিতে সঙ্গী ছিলেন স্ত্রীও

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২,   ৫ মাঘ ১৪২৮,   ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

‘দুই শতাধিক’ পিকআপ ভ্যান চুরিতে সঙ্গী ছিলেন স্ত্রীও

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:০৪ ১৩ নভেম্বর ২০২১  

চক্রের প্রধান আজিজুল- ছবি: সংগৃহীত

চক্রের প্রধান আজিজুল- ছবি: সংগৃহীত

কারাগারকে সংশোধনাগার বলা হয়। কিন্তু পিকআপ ভ্যান চোর চক্রের সদস্য হিসেবে গ্রেফতার হয়ে সাত মাস কারাভোগের পর সংশোধন নয়, বরং ভয়ংকর শপথ নেন বাগেরহাটের আজিজুল শেখ রাজু। পিকআপ ভ্যান চুরির মাধ্যমে আরো অর্থের মালিক হওয়ার শপথে গড়ে তোলেন নতুন চোর চক্র। গত দুই বছরে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকা থেকে চুরি করেছেন দুই শতাধিক পিকআপ ভ্যান। এসব চুরিতে রাজু সঙ্গী করেছেন নিজের স্ত্রীকেও। 

রাজধানীর ডেমরা থেকে রাজুসহ পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এসব তথ্য সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে। আজিজুলের দ্বিতীয় স্ত্রী উম্মে হানি। সাত মাস আগে আজিজুল দ্বিতীয় বিয়ে করার পর উম্মে হানিও চোর চক্রে জড়িয়ে পড়েন। অন্যান্য গ্রেফতারকৃতরা হলেন-ফজলু, ইউসুফ ও আবদুল্লাহ শিকারি।

ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, চুরির পর গাড়ির মালিককে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদায় করাই চক্রের মূল কৌশল।

ডিবি জানায়, কদমতলী থানার একটি মামলার তদন্তে এ চক্রের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে। চুরির পর চক্রের সদস্যরা নামে-বেনামে নিবন্ধন করা মুঠোফোনের সিম ব্যবহার করে গাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তে মালিকের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা নিতো তারা। যদি ভুক্তভোগী ব্যক্তি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান, তবে ওই গাড়ির যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করতো তারা। অভিযানে পাঁচটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবির ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, আজিজুল লেখাপড়া না করলেও তিনি খুবই ধূর্ত। দুই শতাধিক পিকআপ ভ্যান চুরি করেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। টাকা নেয়ার জন্য বিকাশ ও নগদের অ্যাকাউন্টও করা হয়েছে বেনামে। নির্দিষ্ট নম্বর দিয়েই কেবল তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।   

ডিবি কর্মকর্তারা জানান,  বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও গ্যারেজ থেকে মিনি পিকআপ চুরি করে চক্রের সদস্যরা। এ ক্ষেত্রে তারা ‘মাস্টার কি’ ব্যবহার করে। তারা মূলত গভীর রাতে গাড়ি চুরি করে। চুরির কিছুক্ষণ পরে গাড়ির মালিককে ফোন করে তারা টাকা দাবি করে।

চক্রের প্রধান আজিজুলকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ডিবি জানায়, আজিজুল ১৯৯৭ সালে কিশোর বয়সে বাগেরহাট থেকে ঢাকায় আসেন। শুরুর দিকেএকটি পোশাক কারখানায় কাজ নেন। ২০০৮ সালে বাসচালকের সহকারীর কাজ নেন তিনি। ২০১৫ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জে গিয়ে অটোরিকশা চালানো শুরু করেন। অটোরিকশা চালাতে গিয়েই তিনি চোর চক্রে জড়িয়ে পড়েন। তখন একটি পিকআপ ভ্যান চুরি করলে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পেতেন। ২০১৮ সালে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর নতুন চক্র গড়ে তুলে বেশি আয় করার সিদ্ধান্ত নেন আজিজুল । সাত মাস পর কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে নতুন একটি চক্র গড়ে তোলেন তিনি। তার চক্রের অধিকাংশ সদস্যই অটোরিকশাচালক।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

English HighlightsREAD MORE »