প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ফাঁসাতে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে হত্যা

ঢাকা, রোববার   ২৪ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৯ ১৪২৮,   ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ফাঁসাতে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৫৫ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১০:৫৬ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

পারুল বেগম।

পারুল বেগম।

বাগেরহাটের মোংলায় ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থীকে ফাঁসাতে এক তরুণীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মেহেরপুরের গাংনীর পারুল বেগম নামে এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। পরে পারুলকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকার সাভারে বাসা ভাড়া করা হয়।

প্রথম দিনই ওই তরুণীকে হত্যা করে লাশের পাশে প্রতিপক্ষ সেই মেম্বার প্রার্থীর ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ফেলে পালিয়ে যায় খুনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ওই জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপির সূত্র ধরে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার এবং হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেফতাররা হলেন- হালিম হাওলাদার, জামাল হাওলাদার ও মশিউর রহমান ওরফে মিলন। জামাল ও মিলন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

এর আগে, ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাভারের বক্তারপুর নামাবাজার এলাকার একটি বাসা থেকে পারুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। পারুলের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সিন্দুর কোটা মটমোড়া এলাকায়।

ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ২০ সেপ্টেম্বর মোংলা থানার ৬ নম্বর চিলা ইউনিয়নের নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ছিলেন হালিম হাওলাদার, বেলাল সরদার ও এশারাত। এর মধ্যে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মেম্বার ছিলেন হালিম হাওলাদার। বেলাল নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে হালিম ভাবছিলেন তিনি পরাজিত হবেন। তাই বেলালকে নির্বাচন থেকে সরাতে ষড়যন্ত্র করেন হালিম। এরপর তিনি পূর্বপরিচিত পিরোজপুরের জামাল হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বেলালকে ফাঁসাতে একটি খুনের পরিকল্পনা করেন তারা। ৩০ হাজার টাকায় খুনের কন্ট্রাক্ট পেয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী পারুলের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় শুরু করেন জামাল। পরে তাকে বিয়ের প্রলোভনে ৭ সেপ্টেম্বর সাভারের বক্তারপুরের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে খুন করেন। ঘটনাস্থলে বেলাল সরদারের এনআইডির ফটোকপি ফেলে পালিয়ে যান তিনি। ওই ঘটনায় সাভার থানায় অজ্ঞাতপরিচয়  ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়।

পিবিআই প্রধান বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে ঢাকায় মশিউরের সঙ্গে হালিমের ঘন ঘন যোগাযোগ হয় বলে আমরা জানতে পারি। এরপর ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পিবিআই। তার নাম জামাল হাওলাদার। তার ছবি সাভারের ওই বাসার কেয়ারটেকারকে দেখালে সবাই জামালকে শনাক্ত করেন। তারা বলেন, পারুলকে নিয়ে জামালই বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। এরপর জামালকে গ্রেফতার করে পিবিআই। মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বেলালকে ফাঁসাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। নির্বাচনের কারণে হালিমকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করেনি পিবিআই। ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন শেষ হওয়ার পর গত সোমবার হালিমকে গ্রেফতার করা হয়। নির্বাচনে বেলাল বা হালিম কেউ জেতেননি। জয় পেয়েছেন তৃতীয় প্রার্থী এশারাত।

বনজ কুমার বলেন, ওই তরুণীকে হত্যার পর জামাল ও হালিম বেশ কয়েকবার ফোনে কথা বলেছেন। প্রতিপক্ষ গ্রেফতার না হলে ফাঁসাতে আরো খুন করার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর