বিয়ে করে বিদেশে বউ পাচার করতেন লিটন

ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বিয়ে করে বিদেশে বউ পাচার করতেন লিটন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:০১ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ২১:০১ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

নারীপাচারে জড়িত গ্রেফতার দুইজন- ছবি: সংগৃহীত

নারীপাচারে জড়িত গ্রেফতার দুইজন- ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসি পাস করে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চাকরি করতেন লিটন মিয়া। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সেখান থেকে চাকরিচ্যুত হন। পরে চলে যান ইরাকে। দেশটির রাজধানীর একটি হাসপাতালে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেন বলে নিজেকে পরিচয় দিতেন। এ পরিচয়ে দেশে বিয়ে করেছেন ছয়টি। বিয়ের পর এসব নারীকে ইরাকে নিয়ে যেতেন। এরপর সেখানে নিয়ে তাদের বিক্রি করে দিতেন। বিয়ের পর এখন পর্যন্ত পাঁচ নারীকে দেশটিতে পাচার করেছেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে অভিযান চালিয়ে নারী পাচারকারী সিন্ডিকেটের মূলহোতা লিটন মিয়াসহ তার আরেক সহযোগী আজাদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, বিয়ার, দেশি-বিদেশি জাল টাকা, পাসপোর্ট ও বিভিন্ন সিল।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রেফতার দুজন সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সদস্য। বিশেষ করে বিউটিপার্লারে কাজ জানা নারী ও নার্সিং পেশায় নিয়োজিত নারীদের পাচার করেন তিনি। সেখানে সুপারশপে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তারা নারীদের পাচার করতেন। ইরাক, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে নিয়ে জিম্মি করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করতেন। এসব দেশে তাদের একাধিক সেফ হাউস রয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক নারী-পুরুষকে তারা পাচার করেছেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়ার পর সুযোগ বুঝে নারীদের বিক্রি করে দেওয়া হতো। চক্রের ১০ সদস্যের মধ্যে সাতজন ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যে আর বাকিরা দেশে এ কাজ করছিল। তিন থেকে চার লাখ টাকার বিনিময়ে এসব নারীকে চাকরির আশ্বাস দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়া হতো। মানবপাচারের প্রথম ধাপে ট্যুরিস্ট ভিসায় দুবাই এরপর ভিজিট ভিসার মাধ্যমে ইরাকে নেয়া হতো। চক্রটি ৩০ থেকে ৪০ জন নারীকে পাচার করেছে। সময়ের ব্যবধানে ইরাকে পাড়ি জমান লিটন। সেখানকার হাসপাতালের বড় কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করতেন। এর ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার লিটন নারীদের প্রথমে ইরাকে মেডিকেল চাকরির প্রলোভন দেখাতেন। এভাবে সখ্য গড়ে বিয়ের প্রলোভন দেখান এবং পাঁচ-ছয়জনকে বিয়ে করেন। অনেককে টেলিফোনে কিংবা সরাসরি দেশে এসে বিয়ে করেছেন। লিটন ২০১৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ইতালিতে ছিলেন। এ সময়ই তিনি বিয়েগুলো করেন। এসব বিয়ে লিটন পাচারের উদ্দেশ্যে করেন বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

র‌্যাবের কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সর্বশেষ পাচার হওয়া এক নারী র‌্যাবকে জানান, তিনি ইরাকে সেফ হাউসে থাকাকালে সেখানে ১৫ থেকে ২০ জনকে দেখেছেন। সেফ হাউস থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর এ নারী ইরাকের একটি হাসপাতালে চাকরি করতেন। পরে সেখান থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন। গ্রেফতার লিটন মিয়া ২০১৯ সালের পর আর ইরাকে যেতে পারেননি। পরে দেশেই বালু ব্যবসাসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার আজাদ দেশেই সিন্ডিকেটটির প্রতারণার বিষয়টি দেখতেন। দেশে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই এসব নারী-পুরুষকে পাচার করা হয়। তিনি পাসপোর্ট প্রস্তুত, টাকা নেয়া, টিকিট কেটে দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করতেন আজাদ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ