ত্রিপল মার্ডার: পরকীয়ায় তছনছ পুরো পরিবার

ঢাকা, শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৬ ১৪২৮,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ত্রিপল মার্ডার: পরকীয়ায় তছনছ পুরো পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৩ ২০ জুন ২০২১   আপডেট: ২১:৩৫ ২০ জুন ২০২১

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

রাজধানীর কদমতলীর একটি বাসায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মা, বাবা ও বোনকে হত্যা করেছেন মেহজাবিন ইসলাম মিনু। হত্যাকাণ্ডের পর মিনুই জাতীয় সেবা ৯৯৯-এ কল করে তিনজনকে হত্যা ও দুইজনকে হত্যাচেষ্টার কথা স্বীকার করেন। তাৎক্ষণিক তথ্য দেওয়া বাসায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মিনুকে আটক করে পুলিশ।

এরপর থেকেই পুলিশের তদন্ত ও  স্থানীয়দের জবানবন্দিতে ওই পরিবার সম্পর্কে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, মিনুর পুরো পরিবারের সদস্য কোনো না কোনোভাবে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল।

পরকীয়া লিপ্ত ছিলেন মেহজাবিন ও তার মা মৌসুমি, প্রেমিক একজনই

তিনজনের হত্যাকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসা পুলিশ নতুন নতুন তথ্য পেয়ে আশ্চর্য হয়। এমনকি স্থানীয় সূত্র, স্বজনরা নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন।

বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, মেহজাবিনের মায়ের নাম মৌসুমি। মৌসুমির স্বামী মাসুদ রানা প্রায় ২৫ বছর মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন। স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে মৌসুমি পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকজন যৌনকর্মীকে দিয়ে দীর্ঘদিন অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়েছেন তিনি। এ থেকে বাদ যায়নি বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম মিনু ও তার ছোট মেয়ে জান্নাতুল ইসলাম। এক সময় মৌসুমির কথিত প্রেমিকের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে মেহজাবিনের। তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থার একটি ভিডিওচিত্র পরিবারের কেউ ধারণ করে রেখেছিলেন। মৌসুমী এ ব্যাপারে জানার পর মেয়েকে এক রকম জোর করেই শফিকুলের সঙ্গে বিয়ে দেন।

মেহজাবিনের খালা ইয়াসমিন বলেন, পাঁচ বছর আগে পারিবারিকভাবেই শফিকুল ও মেহজাবিনের বিয়ে হয়েছে। এর কিছুদিন পরই মেহজাবিনের আগের সম্পর্ক নিয়ে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়।

মেহজাবিনের স্বামী শফিকুল ও জান্নাতুলের পরকীয়া

মেহজাবিনের স্বামী শফিকুল ও জান্নাতুলের পরকীয়া সম্পর্কে মুখ খুলেছেন স্বয়ং মেহজাবিন ও তার খালা ইয়াসমিন।

ইয়াসমিন বলেন, আমিন হত্যার পর শফিককে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না আমার বোন মৌসুমি । এমনকি তার ছোট মেয়ের সঙ্গে শফিকুলের অনৈতিক সম্পর্ক আটকাতে পারছিলেন না। কারণ বড় ভাগ্নি মেহজাবিন তা নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করেছিল। এজন্য বাধ্য হয়ে ছোট মেয়ে জান্নাতুল ইসলামকে কারাগারে দিয়ে দেন। শফিক তদবির করে পাঁচ মাস পর শ্যালিকা জান্নাতুলকে কারাগার থেকে বের করে নিয়ে আসেন। আবারো শ্যালিকার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করেন শফিক।

তিনি আরো বলেন, এ নিয়ে আমার ভাগ্নি মেহজাবিন ও বোন মৌসুমির সঙ্গে শফিকের কলহ লেগেই থাকতো। চার বছর আগে শফিক আমার বোনকে (তার শাশুড়ি) হত্যার উদ্দেশ্যে গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। চিকিৎসা করতেও বাধা দেয়। দরজা-জানালা বন্ধ করে আমার বোন ও ভাগ্নিকে প্রায়ই মারধর করতো। এ বিষয়ে কদমতলী থানায় অভিযোগ জানিয়ে কোনো ফল না পেয়ে কোর্টে মামলাও করা হয়েছে।

ঘাতক মেহজাবিনের চাচাতো বোন পরিচয় দেওয়া শিলা বলেন, গত দুদিন আগে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে মেহজাবিন। এসেই তার ছোট বোন জান্নাতুলের সঙ্গে তার স্বামীর পরকীয়া রয়েছে বলে বাবা-মাকে অভিযোগ করে। এ নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটি হয়। তার জেরেই হয়তো এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। 

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিযুক্ত শফিকুল স্ত্রী মেহজাবিনকে উচ্ছৃঙ্খল আখ্যা দিয়ে বলেন, মেহজাবিন অনেকদিন ধরেই উচ্ছৃঙ্খল।

এদিকে কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, মেহজাবিনের স্বামীকেও সন্দেহের বাইরে রাখছি না। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সম্পত্তির বিষয়ও এখানে রয়েছে। তদন্তে এসব আসবে।

ডিএমপির ওয়ারি বিভাগের উপকমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, মেহজাবিনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, বাবা না থাকায় তার মা তাকে এবং তার ছোট বোনকে (নিহত জান্নাতুল) দিয়ে দেহব্যবসা করাতো। এসব নিয়ে প্রতিবাদও করেছিল সে, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। তার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ছোট বোন জান্নাতুলকে দিয়ে দেহব্যবসা চলছিল। এর মধ্যে তার স্বামী শফিকুল শ্যালিকা জান্নাতুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

এদিকে মেহজাবিনের বাবা মাসুদ রানা ওমানে আরেকটি বিয়ে করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, বিদেশে পরকীয়ায় জড়িয়ে মাসুদ বিয়ে করেছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এজন্য দেশে তার স্ত্রী মৌসুমি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে রাজধানীর কদমতলীর জুরাইনের মুরাদপুরে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে মাসুদ রানা (৫০), তার স্ত্রী মৌসুমি ইসলাম (৪০) ও মেয়ে জান্নাতুল ইসলামের (২০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অচেতন অবস্থায় মেয়ের জামাই শফিকুল ইসলাম ও নাতনি তৃপ্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ওই পরিবারের বড় বোন মেহজাবিন ইসলাম মুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য চারদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ