ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মা-বাবা ও বোনকে হত্যা, বেরিয়ে এলো রোমহর্ষক তথ্য

ঢাকা, বুধবার   ০৪ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ২১ ১৪২৮,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মা-বাবা ও বোনকে হত্যা, বেরিয়ে এলো রোমহর্ষক তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২১ ১৯ জুন ২০২১   আপডেট: ২০:০৭ ১৯ জুন ২০২১

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর কদমতলীতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মা-বাবা ও বোনকে হত্যা করেছেন বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম মুন। এ ঘটনায় মেহজাবিনকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে নতুন রোমহর্ষক তথ্য। এদিকে স্বজনদের ধারণা, পরকীয়া প্রেমের কারণেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য তার স্বামী শফিকুলকে দায়ী করেন ওই পরিবারের স্বজনরা।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে ঠিক কি ধরনের কলহ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশের পাশাপাশি, গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন টিম এবং র‍্যাব সদস্যরা রয়েছেন।

পুলিশ আরো জানায়, রাতে পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান মেহজাবিন। সবাই অচেতন হয়ে পড়লে মা-বাবা ও বোনকে রশি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। স্বামী ও শিশু সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। তবে তারা অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। মেহজাবিন তার বাবা-মা ও বোনকে হত্যা করার পর সকাল ৮টায় ৯৯৯-এ কল করেন। এ সময় তিনি বলেন, আপনার দ্রুত না আসলে আমার স্বামী ও মেয়েকে খুন করে ফেলব। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ নিহত তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। আর মেহজাবিনের স্বামী ও সন্তানকে অচেতন অবস্থায় ঢামেকে পাঠায়।

এদিকে নিহত মৌসুমী ইসলামের বড় বোন জাহানারা বলেন, মেহজাবিনের ছোট বোন মোহিনীর সঙ্গে স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এজন্য তাদের পরিবারে ঝগড়া হতো। তবে গতকাল কী ঘটেছিল, তা আমি জানি না।

ঘাতকের চাচাতো বোন শিলা বলেন, মেহজাবিন তার পরিবারের সবাইকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। সে তার আগের ঘরের স্বামীকেও খুন করেছিল। সেই মামলায় মেহজাবিনসহ তার নিহত বাবা-মা ও বোনের জেল হয়েছিল। পাঁচ বছর জেল খেটে তারা জামিনে ছাড়া পায়।

তিনি আরো বলেন, গত দুদিন আগে স্বামী সন্তানকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে মেহজাবিন। এসেই তার ছোট বোনের জান্নাতুলের সঙ্গে তার স্বামীর পরকীয়া রয়েছে বলে বাবা-মাকে অভিযোগ করে। এ নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটি হয়। তার জেরেই হয়তো সে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

চিকিৎসাধীন মেহজাবিনের স্বামী শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি তার মেয়ে ও স্ত্রী মেহজাবিনকে নিয়ে কদমতলী বাগানবাড়ি এলাকায় থাকতেন। স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন তার মনোমালিন্য চলছিল। শুক্রবার রাতে তার স্ত্রী মুরাদপুরে বাবা-মার বাসায় যেতে চায়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে মুন একাই চলে যাবে বললে পরে শফিকুল তাকে ওই বাসায় নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে যাওয়ার পর স্ত্রী মুন তাকে চা খেতে দেয়। খেতে না চাইলেও জোর করে খাওয়ায়। এরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

তার ধারণা, স্ত্রী মুন তার বাবা মাসুদ রানা, মা জোসনা বেগম ও ছোট বোন জান্নাতকে বিষ খাইয়েছে। বাবা মার সঙ্গে তার স্ত্রীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল বলেও জানান তিনি।

এছাড়া প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, জায়গা সম্পত্তি নিয়েও পরিবারের সঙ্গে বিরোধ ছিল মেহজাবিনের। সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য বাবা-মাকে অনেক চাপ দিত। এ নিয়েও এই ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে পুলিশের ধারণা, ঘুমের ওষুধ মেশানো তরল পানীয় খাওয়ানোর পরই শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে তিনজনকে। আটক মেহজাবিনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। গতকাল মধ্যরাতের কোনো এক সময় চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তাদেরকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মিলেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ