ঘুমের ওষুধ খাওয়ান ৫ জনকে, খুনের শিকার ৩

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

ঘুমের ওষুধ খাওয়ান ৫ জনকে, খুনের শিকার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪১ ১৯ জুন ২০২১   আপডেট: ১৯:২৪ ১৯ জুন ২০২১

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সংসারের বড় মেয়ে ছিলেন মেহজাবিন ইসলাম মুন। তার জন্মের পর থেকে বিবাহযোগ্য পর্যন্ত অনেক ত্যাগ শিকার করেছেন মা-বাবা। বড় বোন মুনকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছিল ছোট বোন জান্নাতুল। কিন্তু হঠাৎ ভয়ংকর হন মেহজাবিন। স্বামী, সন্তান, মা-বাবা ও বোনকে একই সঙ্গে খাওয়ান ঘুমের ওষুধ। এর মধ্যে ভাগ্য গুণে বেঁচে গেছেন দুজন।

রাজধানীর কদমতলীতে একই পরিবারের তিনজনের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এভাবেই হৃদয় বিদারক বর্ণনা দেন প্রতিবেশীরা।

তারা আরো জানান, মেহজাবিনকে কোলেপিঠে মানুষ করেছেন তার মা-বাবা। তার সব আহ্লাদ পূরণের চেষ্টা করতেন তারা। মেহজাবিনের জন্য অনেক বিপদেও পড়েছেন মাসুদ ও মৌসুমী দম্পতি। তার উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অতীষ্ঠ ছিলেন তারা। তবুও তারা তাকে আগলে রেখেছেন।

প্রতিবেশীরা বলছেন, জায়গা সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বিরোধ ছিল মেহজাবিনের। সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য বাবা-মাকে অনেক চাপ দিত সে। এর আগে এ নিয়ে বৈঠক শালিসও হয়েছে।

স্বজনদের পক্ষ থেকেও মেহজাবিনের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে নানা অভিযোগ। তারাও বলছেন, তাদের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো।

এদিকে মেহজাবিনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রাতে পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান মেহজাবিন। সবাই অচেতন হয়ে পড়লে মা-বাবা ও বোনকে রশি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। স্বামী ও শিশু সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। তবে তারা অল্পের জন্য বেঁচে গেছে।   

এর আগে, শনিবার সকালে মুরাদপুর এলাকার ২৮, লালমিয়া সরকার রোডের ছয় তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে মেহজাবিনের মা মৌসুমী ইসলাম (৪০) বাবা মাসুদ রানা (৫০) ও বোন জান্নাতুলের (২০) লাশ উদ্ধার করা হয়। 

আর আহত অবস্থায় মেহজাবিনের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও তার আগের ঘরের মেয়ে মারজান তাবাসসুম তৃপ্তিয়াকে (৬) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

মিটফোর্ড হাসপাতালে অভিযুক্তের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও তাদের চার বছরের ছোট মেয়ে তৃপ্তিকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। 

শফিকুল জানান, অভিযুক্ত নারী উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে নানা কলহে জড়াতেন। এমনকি সাবেক স্বামী অরণ্যের সঙ্গেও দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতেন।

ওয়ারী ডিভিশনের ডিসি শাহ ইফতেখার আহামেদ বলেন, পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে মেহজাবীন মুন। মা-বাবাসহ ছোট বোনকে হত্যা করে ৯৯৯ এ ফোন দেন তিনি। মুন থাকেন আলাদা বাসায়। এখানে মায়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ