যেভাবে মা-বাবা ও বোনকে হত্যা করেন ঘাতক মেহজাবিন

ঢাকা, রোববার   ০১ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৭ ১৪২৮,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

যেভাবে মা-বাবা ও বোনকে হত্যা করেন ঘাতক মেহজাবিন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১২ ১৯ জুন ২০২১  

ঘাতক মেহজাবিন ইসলাম মুন (বামে), ইনসেটে তিন জনের উদ্ধার করা লাশ, মেহজাবিনের মেয়ে (ডানে) - সংগৃহীত

ঘাতক মেহজাবিন ইসলাম মুন (বামে), ইনসেটে তিন জনের উদ্ধার করা লাশ, মেহজাবিনের মেয়ে (ডানে) - সংগৃহীত

রাজধানীর কদমতলীতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মা-বাবা ও বোনকে হত্যা করেছেন বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম মুন। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ঘাতকের স্বামী ও সন্তান। ঘটনার পর মেহজাবিনকে আটক করেছে কদমতলী থানা পুলিশ। 

আজ শনিবার দুপুরে তাকে আটকের পর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এর আগে, সকালে মুরাদপুর এলাকার ২৮, লালমিয়া সরকার রোডের ছয় তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে মেহজাবিনের মা মৌসুমী ইসলাম (৪০) বাবা মাসুদ রানা (৫০) ও বোন জান্নাতুলের (২০) লাশ উদ্ধার করা হয়। 

আর আহত অবস্থায় মেহজাবিনের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও তার আগের ঘরের মেয়ে মারজান তাবাসসুম তৃপ্তিয়াকে (৬) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

পুলিশ জানিয়েছে, রাতে পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান মেহজাবিন। সবাই অচেতন হয়ে পড়লে মা-বাবা ও বোনকে রশি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। স্বামী ও শিশু সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। তবে তারা অল্পের জন্য বেঁচে গেছে।   

প্রতিবেশীর বলছেন, জায়গা সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বিরোধ ছিল মেহজাবিনের। সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য বাবা-মাকে অনেক চাপ দিত সে। এ নিয়ে এর আগে বৈঠক শালিসও হয়েছে।

মূলত পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড বলছে প্রতিবেশীরা। স্বজনদের পক্ষ থেকেও মেহজাবিনের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে নানা অভিযোগ। তারাও বলছেন, তাদের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো।

মিটফোর্ড হাসপাতালে অভিযুক্তের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও তাদের ৪ বছরের ছোট মেয়ে তৃপ্তিকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। শফিকুল জানান, অভিযুক্ত নারী উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করছিলেন। পরিবারের সঙ্গে নানা কলহে জড়াতেন। এমনকি স্বামী অরণ্যের সঙ্গেও দ্বন্দ্বে লিপ্ত হতেন।

ওয়ারী ডিভিশনের ডিসি শাহ ইফতেখার আহামেদ বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে মেহজাবীন মুন। মা-বাবাসহ ছোট বোনকে হত্যা করে ৯৯৯ এ ফোন দেন তিনি। মুন থাকেন আলাদা বাসায়। এখানে মায়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ