গার্লফ্রেন্ডসহ ফুচকা খাওয়ানোর কথা বলে ‘ড্যান্সার’ শাকিলকে হত্যা

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

গার্লফ্রেন্ডসহ ফুচকা খাওয়ানোর কথা বলে ‘ড্যান্সার’ শাকিলকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:৫৬ ১০ মে ২০২১   আপডেট: ০৩:০৭ ১০ মে ২০২১

শাকিল -ছবি: সংগৃহীত

শাকিল -ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুরে গার্লফ্রেন্ডসহ ফুচকা খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে বন্ধুকে ছুরি মেরে হত্যা করেছেন বন্ধু।

রোববার রাতে উত্তরা পূর্ব আব্দুল্লাহপুর আইচি মেডিকেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের আরেক বন্ধু আহত হয়েছেন।

নিহতের নাম আরফিন শাকিল। তিনি রাজধানীর দক্ষিণখান ফায়দাবাদ গোয়ালটেক এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন তিনি। এলাকায় ‘ড্যান্সার শাকিল’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি নাচ করতেন ও টিকটকের ভিডিও বানাতেন।

শাকিলের বন্ধু জুবায়ের বলেন, শনিবার কোনো একটি বিষয় নিয়ে শাকিলের সঙ্গে ভূঁইয়া সাব্বিরের সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল। পরে শাকিল ও তার গার্লফ্রেন্ডকে রোববার সন্ধ্যায় ইফতারের দাওয়াত দিয়েছিলেন সাব্বির। যেকোনো কারণে তখন শাকিল যেতে পারেননি। পরে আবার ফোন দিয়ে আইচি মেডিকেলের সামনে ফুচকা খাওয়ার জন্য ডাকেন। ফুচকা খেতে নিজের গার্লফ্রেন্ড, আরেক বন্ধু সাগরকে নিয়ে মোটরসাইকেলে নিজ এলাকা থেকে আইচি মেডিকেলের সামনে যান শাকিল। সেখানে যাওয়া মাত্রই সাব্বির দাঁড়িয়ে বলেন- ‘তোদের দুজনকে আসতে বলছি তিনজন আসছিস কেন। আমি এত বিল দিতে পারব না’।

প্রতিউত্তরে শাকিল বলেন, ‘তুমি তো ঈদে আমাকে মার্কেট করে দিতে চাইছিলা, সেটা দিতে হবে না। আমাদের তিনজনকে খাওয়াবে’। পরে গার্লফ্রেন্ডকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে শাকিল ও সাগরকে একটু এগিয়ে নিয়ে যান সাব্বির, শামীম, শিকদার মৃদুলসহ চার-পাঁচজন। এরপর শাকিলকে ধারালো ছুরি দিয়ে বুকসহ বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন সাব্বির। একপর্যায়ে সাগর বাধা দিতে গেলে সাগরকেও ছুরিকাঘাত করেন। এতে আহত হন সাগর।

নিহতের বড় ভাই শাহাদৎ বলেন, খবর পেয়ে উত্তরায় স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে শাকিলকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাই। সেখান থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পরই শাকিলের লাশটি জোর করে ঢামেক থেকে নিয়ে চলে যান স্বজনরা।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সঙ্গে আসা দু-একজনকে ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তবে লাশটি পুনরায় ঢামেকে নিয়ে আসা হয়েছে। লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর