বাজারে পড়েছে রোজার আঁচ

ঢাকা, সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৯ ১৪২৭,   ২৮ শা'বান ১৪৪২

বাজারে পড়েছে রোজার আঁচ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৪২ ৫ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১০:৪৩ ৫ মার্চ ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আসন্ন রোজা ঘিরে বাড়তি চঞ্চলতা দেখা দিয়েছে ভোগ্য পণ্যের বাজারে। এরই মধ্যে দাম বাড়তে শুরু করেছে বেশ কিছু পণ্যের। পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে তেল, চিনি, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ, খেজুর ও অন্যান্য ফলমূলের আমদানির পাশাপাশি বেড়েছে বিক্রিও।

শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, উত্তরা, সেগুনবাগিচা, ফকিরাপুল, টিঅ্যান্ডটি বাজার, কমলাপুর, বাসাবো, খিলগাঁও, মৌলভীবাজার, মালিবাগ ও রামপুরা বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি মাসে পাঁচ-ছয় হাজার মেট্রিক টন খেজুরের চাহিদা থাকলেও রমজানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন লাগে। রোজা ঘিরে আমদানিকারকরা এরই মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার টন খেজুর আমদানি করেছেন। দাম কম থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার ১০ শতাংশের মতো আমদানি বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

এদিন রামপুরা বাজারে দেখা গেছে, সাধারণ মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে, যা এক মাস আগেও ছিল ১৩০ থেকে ৫০০ টাকা। গত বছর এই মানের খেজুর বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত বছরের তুলনায় বর্তমানে খেজুরের দাম বেশি রয়েছে ১৮ শতাংশ।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকায় ভোজ্য তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। বাজারে এখন খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১২০ টাকা লিটার, এক মাস আগেও যা ছিল ১১২ থেকে ১১৬ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৩০-১৪০ টাকা লিটার। গত বছর ছিল ১০০-১১০ টাকা লিটার। বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশ। তেলের দাম লিটারে আরো পাঁচ টাকা বাড়ানোর জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে ছোলার বাজারে এখনো আসন্ন রোজার তেমন প্রভাব দেখা যায়নি। গত বছরের ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দামেই বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডালের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে গত মাসের তুলনায়। বড় দানার ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকা কেজি। মাসখানেক আগে ৬৫-৭০ টাকায় কেনা যেত এই মানের ডাল। গত বছর এ সময় এই দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মালিবাগ কাঁচাবাজারের ভাই ভাই স্টোরের বিক্রেতা মো. কাউসার জানান, সারা বছর এক বস্তা চিনি বিক্রি করতে তিন দিন লাগে। শবেবরাতের পর রোজার প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এক দিনেই এক বস্তা শেষ হয়ে যায়। বেশি চলে ছোলা ও তেল। তবে কয়েক দিন ধরে কোনো কোনো ক্রেতা একটু বেশি করে চিনি, তেল কিনছে। আগে যারা ছোলা কিনত না, এমন অনেকে ছোলাও কিনছে।

বিক্রেতারা বলছেন, চিনির দাম কিছুটা বাড়তির দিকে। সাদা চিনি মাসখানেক আগেও খুচরায় ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা গেছে। এখন কেনাতেই ৬৫ টাকা পড়ছে। সেগুনবাগিচা বাজারে সাদা ও লাল চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে, মাসখানেক আগে যা ছিল ৬৫-৭০ টাকা। গত বছর এ সময় চিনির দাম ছিল ৬৫-৬৮ টাকা কেজি।

দেশে ভোগ্য পণ্যের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার রাজধানীর মৌলভীবাজার। জানতে চাইলে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা বলেন, তেল, চিনির চাহিদা সারা বছরই থাকে। তবে রোজায় অনেক বেশি লাগে। এসব পণ্যের চাহিদা একটু একটু করে বাড়ছে। তবে রোজার বিক্রি শুরু হবে শবেবরাতের কয়েক দিন আগে থেকে। তার সপ্তাহখানেক আগে থেকে রোজার পণ্য কিনতে শুরু করব। তখন দাম নির্ভর করবে সরবরাহের ওপর।

এবার পেঁয়াজের দামে স্বস্তির আশা করেছিল ভোক্তা। তবে পেঁয়াজের দামও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ছে। মাসখানেক আগে দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যেত ২৫-৩০ টাকা কেজিতে। এখন ৩৫-৪০ টাকা। তবে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় দাম এখনো কম। ওই সময় ছিল ৬০-৮০ টাকা কেজি।

উত্তরা আজপুর কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রিতা নোমান বলেন, রোজায় বেগুন ও সালাদ আইটেমের সবজির চাহিদা বাড়ে। তাই এগুলোর দামও কিছুটা বেড়ে যায়। বাজারে এখন বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে। মাসখানেক আগেও বেগুনের কেজি ছিল ২০-৩০ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে গত বছর এ সময় বেগুনের দাম ছিল ২৮-৩০ টাকা কেজি।

শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি। মাসখানেক আগেও ২৫-৩০ টাকায় শসা পাওয়া গেছে। গত বছর শসার দাম ছিল ৩০-৩৫ টাকা কেজি। বাজারে এখন লেবুর দাম আকাশছোঁয়া। ছোট আকারের এক হালি লেবু কিনতে হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। মাসখানেক আগেও এই মানের লেবু ২০-৩০ টাকায় পাওয়া যেত।

রোজার আঁচ লেগেছে মাংসের দামেও। বাজারে এখন ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৪০-১৫০ টাকা। এক মাস আগেও ছিল ১২৫-১৩৫ টাকা। গত বছর এই সময়ে ছিল ১১০-১২০ টাকা কেজি।

তবে রোজায় মুরগির দাম কমবে বলে জানিয়েছেন পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মহসিন। তিনি বলেন, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও অনুষ্ঠান বেশি হওয়ার কারণে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে আবহাওয়ার কারণে মুরগির ওজন বৃদ্ধির হার কম। এসব কারণে মুরগির দাম বেড়েছে। এ মাসের মাঝামাঝিতেই এই দাম কমতে শুরু করবে বলে তিনি মনে করেন।

রোজায় সবচেয়ে অস্থির হয়ে ওঠে গরুর মাংসের দাম। এবারও এর ব্যতিক্রম দেখা গেল না। এরই মধ্যে দাম বেড়েছে। মাসখানেক আগেও ৫৫০-৫৮০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস পাওয়া যেত। এখন তা ৫৮০-৬০০ টাকা কেজি। গত বছর এ সময় গরুর মাংসের দাম ছিল ৫৪০-৫৫০ টাকা কেজি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর