রাজধানীতে মূলহোতাসহ ৬ ‘ফরেনবডি’র ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ১০ ১৪২৮,   ১০ রমজান ১৪৪২

রাজধানীতে মূলহোতাসহ ৬ ‘ফরেনবডি’র ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:১৪ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

মূলহোতাসহ ৬ ‘ফরেনবডি’র ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মূলহোতাসহ ৬ ‘ফরেনবডি’র ব্যবসায়ী গ্রেফতার

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ‘ফরেনবডি’ বা সেক্স টয় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূলহোতাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম।

শনিবার ওই এলাকার পল্লবী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রেজাউল আমিন হৃদয় (২৭), মীর হিসামউদ্দিন বায়েজিদ (৩৮), মো.সিয়াম আহমেদ ওরফে রবিন (২১), মো. ইউনুস আলী (৩০), আরজু ইসলাম জিম (২২) ও চক্রের মূলহোতা মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া ওরফে সানি (২৮)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে সেক্সটয়, পাঁচটি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ ও ৯টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। 

রোববার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি’র সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডি’র সাইবার ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কামরুল আহসান।

তিনি বলেন, গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের এক ছাত্রীর ধর্ষণের ফলে মারা যান। ময়নাতদন্তে জানা যায়, বিকৃত যৌনাচারের শিকার হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুসারে, তাকে নির্যাতনের সময় এক ধরনের ফরেনবডি ব্যবহার করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি’র সাইবার মনিটরিং এবং সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম। কয়েকটি চক্র নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে যৌন উদ্দীপক বিভিন্ন পণ্যের ছবি এবং ভিডিওসহ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া যায়। সাইবার মনিটরিং এবং সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম এ ধরনের কয়েকটি ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, এসব পণ্য বিক্রির আর্থিক লেনদেন বিকাশ ও রকেটে হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তারা বিদেশ থেকে বৈধ পণ্য আমদানির আড়ালে এসব নিষিদ্ধ পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে। 

তিনি জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলছে। যেমন লাইকি, টিকটক ব্যবহার করে একটি ক্লোজ গ্রুপ তৈরি করে হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং ডিজেপার্টির আড়ালে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলছিল।

আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য দেশে ঢোকার ব্যাপারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দায় রয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অনুসন্ধান মাত্র শুরু করেছি।

ওই ছাত্রীর গোপনাঙ্গে ফরেনবডির আঘাতের নিশ্চয়তার ব্যাপারে সিআইডির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সিআইডি’র ডিএনএ টেস্ট এখনো চলছে এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো আসেনি। তবে ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে জানান, ওই ছাত্রীকে নির্যাতনের সময় ফরেনবডি ব্যবহার করা হয়। এর ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ছাত্রী মারা যান। 

তিনি বলেন, গ্রেফতার ছয়জনের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ