নিখোঁজ ছেলের ‘সন্ধান পেয়ে’ বিকাশে প্রতারিত হলেন মা

ঢাকা, সোমবার   ০১ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৬ ১৪২৭,   ১৬ রজব ১৪৪২

নিখোঁজ ছেলের ‘সন্ধান পেয়ে’ বিকাশে প্রতারিত হলেন মা

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২৫ ২০ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২১:২৮ ২০ জানুয়ারি ২০২১

সাদমান সাকিব রাফি

সাদমান সাকিব রাফি

১৩ জানুয়ারি সকালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে বের হন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব রাফি। এরপর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে নিখোঁজ সন্তানের সন্ধানের নামে বিকাশে প্রতারণার স্বীকার হতে হলো সাদমানের দিশেহারা পরিবারকে।

মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ পরিচয়ে এক প্রতারক সাদমানের মা মনোয়ারা হোসেনেকে ফোনে জানান সাদমান ফেনী সদর হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় ভর্তি আছে। তাকে রক্ত দিতে হবে। এজন্য ৮ হাজার টাকা লাগবে। তৎক্ষণাৎ আর কিছু যাচাই না করেই বিকাশে ছেলের রক্তের জন্য টাকা পাঠান মা। কিন্তু এরপর থেকে ফোনে আর পাওয়া যায়নি সেই টাকার প্রাপককে।

এরপর বিষয়টি ভাটারা থানার ওসি মোক্তারুজ্জামানের কাছে জানানো হলে, পুলিশ বুঝতে পারে প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন মনোয়ারা হোসেন।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, আমরা নিশ্চিত নই যে নিখোঁজ ছেলেটি উদ্ধার হয়েছে। বিষয়টি ওই ছেলের মা আমাদের কাছে ফোন করে জানিয়েছেন। তবে এর সঙ্গে খুব সম্ভবত প্রতারক চক্র জড়িত আছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।

সাদমানের মায়ের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে এক ব্যক্তি ফোন করে জানায়, পত্রিকায় সাদমান নামে নিখোঁজ যুবকের ছবি ছাপা হয়েছে, ওই যুবক ফেনী সদর হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি রয়েছে। তিনি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলে নিজেকে পরিচয় দেন। ওই যুবককের চিকিৎসার জন্য রক্ত দিতে হবে। এজন্য ৮ হাজার টাকা লাগবে। আপনি এই নম্বরে ৮ হাজার টাকা বিকাশ করুন।

এই কথা শুনেই মনোয়ারা হোসেন জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাফিজুর রহমানের কাছে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। কিন্তু কোনো নিশ্চিত সংবাদ পাওয়ার আগেই বিকাশে ৮ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে বুঝতে পারে যে এটি প্রতারক চক্র। সাদমান সাকিব রাফি এখনো নিখোঁজ।

১৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সাদমান সাকিব রাফি। সঙ্গে নিয়ে যান তার ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সেট। বাসা থেকে বের হয়েই সাদমান তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেন। নিখোঁজ সাদমান মালয়েশিয়ার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির (এপিইউ) ত্রিপল ই বিভাগের ছাত্র। গত ১৯ সেপ্টেম্বর লকডাউনের মধ্যে তিনি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেন। সেখান থেকে দ্বিতীয় সেমিস্টার শেষ করার পর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ত্রিপল ই বিভাগের প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হন। নিখোঁজের ঘটনায় তার মা মনোয়ারা হোসেন ভাটারা থানায় একটি জিডি করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইকেডি