টার্গেটে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, তিন ধাপে মিশন সমাপ্ত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৯ ১৪২৭,   ১৯ রজব ১৪৪২

টার্গেটে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, তিন ধাপে মিশন সমাপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২০ ১৬ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৪:২৮ ১৬ জানুয়ারি ২০২১

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. ওয়ালিদ হোসেন

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. ওয়ালিদ হোসেন

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযানে আটক ঢাকার কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সংগঠন সেভেন স্টার গ্রুপের পরিচয়ে চাঁদাবাজি চক্রের ছয় সদস্য সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। এই চক্রের সদস্যদের মূল টার্গেট থাকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আর তিনটি ধাপে তারা চাঁদাবাজির মিশন সমাপ্ত করে।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ডিএমপির মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস্ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. ওয়ালিদ হোসেন।

তিনি বলেন, আটককৃত চাঁদাবাজ চক্রটি তিনটি গ্রুপে কাজ করতো। তাদের প্রথম গ্রুপের সদস্যরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেলিফোন গাইড, ডিরেক্টরি বই ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নামিদামী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে।

টার্গেটকৃত নাম্বারগুলো দ্বিতীয় গ্রুপের সদস্যদের নিকট প্রেরণ করে। এই গ্রুপের সদস্যরা টার্গেটকৃত মোবাইল ও টেলিফোন নাম্বারে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য পরিচয় দিয়ে ফোন করে। তাদের সংগঠনের কয়েকজন সদস্য জেল হাজতে আটক আছে, তাদের জামিন করতে ও সংগঠন পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন বলে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। তাদের দাবিকৃত চাঁদা প্রেরণের জন্য বিকাশ, নগদ রকেট অ্যাকাউন্ট প্রেরণ করে।

টাকা না দিলে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। ভুক্তভোগীরা তাদের ভয়ে বিভিন্ন সময় তাদেরকে উল্লেখিত অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠায়। এই চক্রের তৃতীয় গ্রুপের সদস্যরা তাদের অ্যাকাউন্টে ভুক্তভোগীর প্রেরিত টাকা সংগ্রহ করে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের কাছে চাঁদাবাজির শিকার এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন যে, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেভেন স্টার গ্রুপের সদস্য মালিবাগের জিসান মাহমুদ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তারা সংগঠন পরিচালনার জন্য ভিকটিমের নিকট ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ভুক্তভোগী উক্ত বিষয়টি গুরুত্ব না দিলে চাঁদাবাজরা তাকে বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে অপহরণ ও হত্যার হুমকি প্রদান করে।

ভুক্তভোগী ভয়ে তাদের দেয়া বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে সর্বমোট ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা পাওয়ার পর চাঁদাবাজরা তার কাছে আরো মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, তুরাগ ও পল্টন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেল্লাল খান, রাকিব খান টিটুল, মো. আ. হান্নান, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. সোহাগ ও মো. খোরশেদ আলমকে আটক করতে সক্ষম হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এমকেএ